রাঘববোয়ালদের ধরতে সরকার কঠোর উদ্যোগ নিচ্ছে : অর্থ উপদেষ্টা
- Update Time : ০৫:৪২:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪
- / ৪৩৯ Time View

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক খাতে দুর্নীতিতে জড়িত বড় ব্যক্তিদের ধরতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের উদ্যোগ আরও সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ পাবে।শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টে (বিআইজিএম) অনুষ্ঠিত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, বড় দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে অনেকের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। এটি প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে নেওয়া হয়েছে এবং এর পর তদন্ত কার্যক্রম চলবে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দ্রুততম সময়ে তাদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেছে। এই বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ মন্তব্য করেছেন যে, সরকারের পক্ষ থেকে কালোটাকার বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, এনবিআর সরাসরি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে এবং যাদের কাছে অপ্রদর্শিত আয় রয়েছে, তাদের শনাক্ত করে উপযুক্ত আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে। এ ধরনের আয় লুকানো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রস্তুতি রয়েছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
কালোটাকা সাদা করার সুযোগ বাতিল হওয়ায় সাধারণ জনগণ এবং অর্থনীতিবিদরা ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন, কারণ এটি অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া কালোটাকার মাধ্যমে অর্থনৈতিক বৈষম্য সৃষ্টি হয়, যা সরকারের নীতিমালা ও আইন অনুযায়ী অন্যায্য।
সাংবাদিকরা যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য নিয়ে প্রশ্ন করেন, ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, সরকার বাজার স্থিতিশীল রাখতে ইতোমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি বলেন, “দাম একেবারে কমে যায়নি, তবে কিছুটা হলেও হ্রাস পেয়েছে। এই সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান অসম্ভব, তবে আমরা আশা করি, ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।”
তিনি আরও উদাহরণ দেন যে, আলু ও পেঁয়াজের মতো প্রধান পণ্যের ওপর শুল্ক হ্রাস করা হয়েছে, যা বাজারে কিছুটা হলেও স্বস্তি আনতে সহায়ক হবে। তিনি উল্লেখ করেন, অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দামও ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসবে, তবে এটি একটি ধীর প্রক্রিয়া এবং সরকারের পরিকল্পিত পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে।সরকারের এই উদ্যোগগুলো সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তি নিয়ে আসতে পারে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন তিনি, তবে এক্ষেত্রে সময় লাগবে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
এ প্রসঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, “বাজার কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাজারের পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় যারা অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাড়তি হাত হিসেবে কাজ করছে, তাদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। নিয়মিতভাবে বাজার তদারকি করা হবে, যাতে বাজার কারসাজি ও অসাধু কার্যকলাপ বন্ধ করা যায়। তবে, পাশাপাশি আমাদের অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে পণ্যের উৎপাদনকারীরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন, যাতে তাদের উৎপাদন কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে বাজারে স্থিতিশীলতা আনার জন্য সরবরাহ ব্যবস্থায় যে সমস্যা বা বাড়তি ব্যয় যুক্ত হয়, সেগুলো কাটিয়ে ওঠার জন্য সরকার পদক্ষেপ গ্রহণ করছে এবং এটি ধীরে ধীরে ফলপ্রসূ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তৈরি পোশাক শিল্পে সাম্প্রতিক অস্থিরতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “তৈরি পোশাক খাতের অস্থিরতা মোকাবিলা করতে মালিক এবং শ্রমিকদের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। এছাড়াও, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও আলোচনা চলছে, যাতে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করা যায় এবং এই খাতের অস্থিরতা কমানো সম্ভব হয়।”
তিনি আরও যোগ করেন যে, তৈরি পোশাক খাত দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তাই এর অস্থিতিশীলতা সমাধানে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। “সরকার এই খাতের উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, এবং আমরা মালিক-শ্রমিক উভয়ের স্বার্থ রক্ষা করার চেষ্টা করছি,” বলে তিনি আশ্বাস দেন।











