পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে টাস্কফোর্স গঠন হবে — অর্থ উপদেষ্টা
- Update Time : ১০:১৭:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪
- / ৪৩১ Time View

দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে একটি টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি জানান, এই টাস্কফোর্স খুব শিগগিরই গঠন করা হবে এবং এটি নিশ্চিত করবে যে, কয়েক মাসের মধ্যে বাজারে জিনিসপত্রের দাম কমে আসবে।
গতকাল সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে বায়িং হাউজের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে এই তথ্য দেন ড. আহমেদ। টাস্কফোর্স গঠন সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত কিছু না জানালেও, অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে যে, আগামী সপ্তাহে এই টাস্কফোর্স গঠিত হবে। এতে বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), দুর্নীতি দমন কমিশন, অর্থ বিভাগ, এনবিআর, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা থাকবেন।
ড. আহমেদ বলেন, “আলু এবং পেঁয়াজের শুল্ক কমিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং এটি নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাছ, মাংস ও ডিমের দাম কমানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে এবং বাজার মনিটরিংয়ের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।” তিনি উল্লেখ করেন যে, টাস্কফোর্স গঠন প্রক্রিয়াধীন হওয়ায় কতদিনের মধ্যে দাম কমবে সে বিষয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যাবে।
বায়িং হাউজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে, অর্থ উপদেষ্টা বলেন যে, তারা জানিয়েছে যে ডিরেক্টর ছাড়া বায়িং হাউজের মাধ্যমে অনেক সময় অর্ডার দেওয়া হয় এবং রফতানির ক্ষেত্রেও সহায়তা করে। কিছু সমস্যা যেমন ইপিবির রেজিস্ট্রেশন, ব্যাংকিং প্রক্রিয়া, এবং অর্ডারের বিষয় সমাধান হলে রফতানি বাড়বে। উপদেষ্টা বলেন, “আমরা লক্ষ্য করেছি যে রফতানি ৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে, তবে তারা ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি হবে বলে মনে করছেন। আমরা পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নেব।”
সচিবালয়ে আজ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক শেষে, ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে আরও ডলার চাওয়া হবে। এই অর্থ যেন অপচয় না হয়, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণা ও প্রযুক্তির ফলেই আমাদের দেশের প্রাণী ও মৎস্যসম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে।”
এর আগে ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির (জিএফআই) সর্বশেষ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বৈদেশিক বাণিজ্যের আড়ালে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৪ হাজার ৯৬৫ কোটি ডলার পাচার হয়েছে, যা বাংলাদেশী মুদ্রায় সোয়া ৪ লাখ কোটি টাকার সমতুল্য।











