‘পুনরায় যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ’ : ইকোনমিস্ট
- Update Time : ০৩:৫৬:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪
- / ৪৫৩ Time View

বহুল প্রচারিত সাপ্তাহিক ইকোনমিস্ট সাময়িকীর চলতি সংখ্যায় ‘পুনরায় যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রচ্ছদ নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, দেশটির নানা চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। এখন বাংলাদেশ একজন নৈতিকতার প্রতীক হিসেবে ড. ইউনূসের মতো একজন নেতাকে পেয়েছে।
আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতনামা এবং বহুল পঠিত এই সাপ্তাহিক ম্যাগাজিনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এ দেশটিকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না’। তাদের মতে, সুসংবাদ হলো, বাংলাদেশের অর্থনীতি কঠিন পরিস্থিতি দ্রুত কাটিয়ে উঠতে সক্ষম এবং দেশটির সুশীল সমাজ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
নিবন্ধে বলা হয়েছে, ঢাকার রাজপথে গণআন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকারকে অপসারণের পর নোবেল শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী সমর্থিত একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। ড. ইউনূস সহ অনেকেই একে বাংলাদেশের স্বাধীনতার অর্ধ শতাব্দী পর ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’ বলে মনে করছেন।
ম্যাগাজিনটি লিখেছে, বর্তমান পরিস্থিতির অঙ্গীকার পূরণ করতে হলে বাংলাদেশকে শুধু পুরনো স্বৈরাচারীকে ক্ষমতাচ্যুত করলেই হবে না, আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে হবে। দেশটির রাজনীতির মূল সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক গোষ্ঠীতন্ত্র এবং দুর্বল প্রতিষ্ঠানসমূহ, যা দীর্ঘদিন ধরে দেশের অগ্রগতিকে ব্যাহত করেছে। শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বের স্থবিরতা রাজনীতিকে বিষাক্ত করে তুলেছে।
ড. ইউনূসের লক্ষ্য হওয়া উচিত একটি যুক্তিসঙ্গত সময়সীমার মধ্যে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা। তবে এর আগে তাকে শেখ হাসিনার প্রভাবাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো, যেমন নির্বাচন কমিশন ও বিচারব্যবস্থা, পুনর্গঠন করে পরিচ্ছন্ন করতে হবে।
নিবন্ধে আরও বলা হয়, ড. ইউনূসের হাতে সময় খুবই কম। বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক পথে ফিরিয়ে আনার জন্য তার প্রচেষ্টা সফল বা ব্যর্থ হওয়া ১৭৩ মিলিয়ন মানুষের জীবনমানের ওপর প্রভাব ফেলবে, এবং এটি চীন, ভারত, রাশিয়া ও পশ্চিমা বিশ্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ম্যাগাজিনটি বলেছে, ড. ইউনূস অত্যন্ত কঠিন একটি দায়িত্বের মুখোমুখি হয়েছেন। তার প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত দেশের শৃঙ্খলা পুনঃস্থাপন করা এবং প্রতিশোধমূলক সহিংসতার ঢেউ থামানো, যা অতীতে বাংলাদেশের রাজনীতিকে ধ্বংস করেছে। এ কাজের জন্য তাকে এমন একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করতে হবে, যা টেকনোক্র্যাটদের দ্বারা পরিচালিত হবে এবং যেখানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি ও আওয়ামী লীগসহ সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
ড. ইউনূসকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নিবন্ধটিতে বলা হয়েছে, অনির্বাচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার সুযোগ নেই, কারণ এতে তারা বৈধতা হারাতে পারে বা আরও খারাপ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। এমনকি সামরিক সমর্থকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্ষমতা কুক্ষিগত করার চেষ্টা করতে পারে।
ম্যাগাজিনটি সতর্ক করেছে যে, বাংলাদেশ পাকিস্তানের মতো ইসলামপন্থীদের শিকারে পরিণত হতে পারে। যদি আর্থিক সংকট আরও বেড়ে যায়, বাংলাদেশ সস্তা ঋণ ও অস্ত্রের জন্য চীনের ওপর নির্ভরশীল হতে পারে, যার ফলে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক অস্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো আরও দুর্বল হতে পারে।
নিবন্ধে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, “অর্থনীতির ক্ষেত্রে সরকারের উচিত ব্যালেন্স-অফ-পেমেন্টের ঝুঁকি কমাতে আন্তর্জাতিকভাবে আরও তহবিল সংগ্রহ করা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের চেষ্টা করা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ড. ইউনূসকে দেশের তরুণ প্রজন্ম, ক্রমবর্ধমান ও ক্রমবিকাশমান শহুরে জনসংখ্যার আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং নেতাদের কাছে নতুন চিন্তা-ধারার জন্য নিজেকে উন্মুক্ত করার আহ্বান জানাতে হবে।”
ম্যাগাজিনটি বাংলাদেশে কর্তৃত্ববাদী শাসনকে সহায়তা করার জন্য ভারতকেও দায়ী করেছে। তারা বলেছে, যদি ভারত একটি স্থিতিশীল প্রতিবেশী রাষ্ট্র চায়, তবে তাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সমর্থনে আহ্বান জানানো এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করা।











