বিচার না হওয়া পর্যন্ত ফ্যাসিবাদীদের পুনর্বাসনের সুযোগ নেই—উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ
- Update Time : ০৪:৩৮:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪
- / ৫০৪ Time View

আজকের ব্রিফিংয়ে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন যে, সম্পূর্ণ বিচার না হওয়া পর্যন্ত ফ্যাসিবাদীদের পুনর্বাসনের কোনো সুযোগ বাংলাদেশে থাকবে না। বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে তেজগাঁওয়ের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।
উপদেষ্টা পরিষদের এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এটাই ছিল বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদের পঞ্চম বৈঠক। বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপস্থাপন করেন আসিফ মাহমুদ, যেখানে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমও উপস্থিত ছিলেন।
ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের এক মাস পূর্তির প্রেক্ষাপটে এই ব্রিফিংয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, “আমরা লক্ষ্য করছি, বিভিন্ন স্থানে পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পুনর্বাসনের জন্য কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে আমরা যেহেতু ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত একটি সরকার, তাই স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, সম্পূর্ণ বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ফ্যাসিবাদীদের পুনর্বাসনের কোনো সুযোগ থাকবে না।”
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “যে রাজনৈতিক দল বা জোট বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করেছিল, তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার অধিকার বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত জনগণের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে পাবলিক প্রোগ্রামের বিষয়ে এখনো বিস্তারিত আলোচনা হয়নি, কিন্তু আমরা এটি নিরুৎসাহিত করব। বিচার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং আইন মন্ত্রণালয় মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের জন্য কাজ করছে।”
দলের বিচার প্রসঙ্গে তিনি আরও জানান, “আইন মন্ত্রণালয় এই বিচার প্রক্রিয়ার রূপরেখা তৈরি করছে এবং খুব শিগগিরই তা প্রকাশিত হবে।” আওয়ামী লীগের কার্যক্রম চালানোর প্রশ্নে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ এই দেশে গণহত্যার দায় বহন করছে। তারা কীভাবে ফিরে আসবে, তা জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে।”
এছাড়া উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব পাস করা হয়েছে। আসিফ মাহমুদ এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে বলেন, “গণভবনকে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে এবং সেখানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মৃতি এবং ফ্যাসিবাদী আমলে সংঘটিত অন্যায় ও অবিচারগুলো সংরক্ষণ করা হবে।”
এই জাদুঘর স্থাপনের কাজ দ্রুত শুরু হবে এবং এর মাধ্যমে জনগণ অভ্যুত্থানের ইতিহাস সরাসরি দেখতে ও অনুভব করতে পারবে বলে তিনি জানান।











