সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিচার না হওয়া পর্যন্ত ফ্যাসিবাদীদের পুনর্বাসনের সুযোগ নেই—উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ

বিল্লাল হোসেন
  • Update Time : ০৪:৩৮:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • / ৫০৪ Time View

ASIF MAHMOOD

যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া টিভি থেকে নেওয়া ছবি

 

আজকের ব্রিফিংয়ে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন যে, সম্পূর্ণ বিচার না হওয়া পর্যন্ত ফ্যাসিবাদীদের পুনর্বাসনের কোনো সুযোগ বাংলাদেশে থাকবে না। বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে তেজগাঁওয়ের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

উপদেষ্টা পরিষদের এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এটাই ছিল বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদের পঞ্চম বৈঠক। বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপস্থাপন করেন আসিফ মাহমুদ, যেখানে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমও উপস্থিত ছিলেন।

ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের এক মাস পূর্তির প্রেক্ষাপটে এই ব্রিফিংয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, “আমরা লক্ষ্য করছি, বিভিন্ন স্থানে পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পুনর্বাসনের জন্য কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে আমরা যেহেতু ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত একটি সরকার, তাই স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, সম্পূর্ণ বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ফ্যাসিবাদীদের পুনর্বাসনের কোনো সুযোগ থাকবে না।”

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “যে রাজনৈতিক দল বা জোট বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করেছিল, তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার অধিকার বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত জনগণের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে পাবলিক প্রোগ্রামের বিষয়ে এখনো বিস্তারিত আলোচনা হয়নি, কিন্তু আমরা এটি নিরুৎসাহিত করব। বিচার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং আইন মন্ত্রণালয় মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের জন্য কাজ করছে।”

দলের বিচার প্রসঙ্গে তিনি আরও জানান, “আইন মন্ত্রণালয় এই বিচার প্রক্রিয়ার রূপরেখা তৈরি করছে এবং খুব শিগগিরই তা প্রকাশিত হবে।” আওয়ামী লীগের কার্যক্রম চালানোর প্রশ্নে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ এই দেশে গণহত্যার দায় বহন করছে। তারা কীভাবে ফিরে আসবে, তা জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে।”

এছাড়া উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব পাস করা হয়েছে। আসিফ মাহমুদ এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে বলেন, “গণভবনকে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে এবং সেখানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মৃতি এবং ফ্যাসিবাদী আমলে সংঘটিত অন্যায় ও অবিচারগুলো সংরক্ষণ করা হবে।”

এই জাদুঘর স্থাপনের কাজ দ্রুত শুরু হবে এবং এর মাধ্যমে জনগণ অভ্যুত্থানের ইতিহাস সরাসরি দেখতে ও অনুভব করতে পারবে বলে তিনি জানান।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বিল্লাল হোসেন

বিল্লাল হোসেন, একজন প্রজ্ঞাবান পেশাজীবী, যিনি গণিতের ওপর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং ব্যাংকার, অর্থনীতিবিদ, ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞ হিসেবে একটি সমৃদ্ধ ও বহুমুখী ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন। তার আর্থিক খাতে যাত্রা তাকে নেতৃত্বের ভূমিকায় নিয়ে গেছে, বিশেষ করে সৌদি আরবের আল-রাজি ব্যাংকিং Inc. এবং ব্যাংক-আল-বিলাদে বিদেশী সম্পর্ক ও করেসপন্ডেন্ট মেইন্টেনেন্স অফিসার হিসেবে। প্রথাগত অর্থনীতির গণ্ডির বাইরে, বিল্লাল একজন প্রখ্যাত লেখক ও বিশ্লেষক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন, বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালে মননশীল কলাম ও গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করে। তার দক্ষতা বিস্তৃত বিষয় জুড়ে রয়েছে, যেমন অর্থনীতির জটিলতা, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, প্রবাসী শ্রমিকদের দুঃখ-কষ্ট, রেমিটেন্স, রিজার্ভ এবং অন্যান্য সম্পর্কিত দিক। বিল্লাল তার লেখায় একটি অনন্য বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসেন, যা ব্যাংকিং ক্যারিয়ারে অর্জিত বাস্তব জ্ঞানকে একত্রিত করে একাডেমিক কঠোরতার সাথে। তার প্রবন্ধগুলো শুধুমাত্র জটিল বিষয়গুলির উপর গভীর বোঝাপড়ার প্রতিফলন নয়, বরং পাঠকদের জন্য জ্ঞানপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে, যা তত্ত্ব ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে। বিল্লাল হোসেনের অবদান তার প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করে যে, তিনি আমাদের আন্তঃসংযুক্ত বিশ্বের জটিলতাগুলি উন্মোচন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের একটি বিস্তৃত এবং আরও সূক্ষ্ম বোঝাপড়ার দিকে মূল্যবান অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে।

বিচার না হওয়া পর্যন্ত ফ্যাসিবাদীদের পুনর্বাসনের সুযোগ নেই—উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ

Update Time : ০৪:৩৮:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪
যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া টিভি থেকে নেওয়া ছবি

 

আজকের ব্রিফিংয়ে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন যে, সম্পূর্ণ বিচার না হওয়া পর্যন্ত ফ্যাসিবাদীদের পুনর্বাসনের কোনো সুযোগ বাংলাদেশে থাকবে না। বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে তেজগাঁওয়ের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

উপদেষ্টা পরিষদের এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এটাই ছিল বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদের পঞ্চম বৈঠক। বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপস্থাপন করেন আসিফ মাহমুদ, যেখানে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমও উপস্থিত ছিলেন।

ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের এক মাস পূর্তির প্রেক্ষাপটে এই ব্রিফিংয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, “আমরা লক্ষ্য করছি, বিভিন্ন স্থানে পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পুনর্বাসনের জন্য কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে আমরা যেহেতু ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত একটি সরকার, তাই স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, সম্পূর্ণ বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ফ্যাসিবাদীদের পুনর্বাসনের কোনো সুযোগ থাকবে না।”

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “যে রাজনৈতিক দল বা জোট বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করেছিল, তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার অধিকার বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত জনগণের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে পাবলিক প্রোগ্রামের বিষয়ে এখনো বিস্তারিত আলোচনা হয়নি, কিন্তু আমরা এটি নিরুৎসাহিত করব। বিচার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং আইন মন্ত্রণালয় মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের জন্য কাজ করছে।”

দলের বিচার প্রসঙ্গে তিনি আরও জানান, “আইন মন্ত্রণালয় এই বিচার প্রক্রিয়ার রূপরেখা তৈরি করছে এবং খুব শিগগিরই তা প্রকাশিত হবে।” আওয়ামী লীগের কার্যক্রম চালানোর প্রশ্নে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ এই দেশে গণহত্যার দায় বহন করছে। তারা কীভাবে ফিরে আসবে, তা জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে।”

এছাড়া উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব পাস করা হয়েছে। আসিফ মাহমুদ এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে বলেন, “গণভবনকে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে এবং সেখানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মৃতি এবং ফ্যাসিবাদী আমলে সংঘটিত অন্যায় ও অবিচারগুলো সংরক্ষণ করা হবে।”

এই জাদুঘর স্থাপনের কাজ দ্রুত শুরু হবে এবং এর মাধ্যমে জনগণ অভ্যুত্থানের ইতিহাস সরাসরি দেখতে ও অনুভব করতে পারবে বলে তিনি জানান।