সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাচারকৃত অর্থ পুনরুদ্ধারে সরকারের পদক্ষেপ এবং অর্থনৈতিক শ্বেতপত্র

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৫:০৫:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • / ৪৮১ Time View

পাচারকৃত অর্থ পুনরুদ্ধারে সরকারের পদক্ষেপ

পাচারকৃত অর্থ পুনরুদ্ধারে সরকারের পদক্ষেপ

 

দেশ থেকে পাচারকৃত অর্থ পুনরুদ্ধার করার লক্ষ্যে প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে। পাচারকৃত অর্থ ফেরাতে বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার সহায়তা চেয়ে যোগাযোগ শুরু হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাচারকৃত অর্থ দেশে ফেরত আনতে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা হচ্ছে।

এছাড়াও, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থার স্বচ্ছ চিত্র তুলে ধরতে এবং শেখ হাসিনা সরকারের রেখে যাওয়া অর্থনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে একটি শ্বেতপত্র তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এই শ্বেতপত্র প্রণয়নের জন্য বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ৯০ দিনের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টাকে তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে, যাতে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা এবং পুনর্গঠনের পরিকল্পনা থাকবে।

শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির সদস্য

এই শ্বেতপত্র প্রণয়নে সহযোগিতা করছেন অর্থনীতি ও নীতি নির্ধারণের সাথে জড়িত বিশিষ্ট ব্যক্তিরা, যার মধ্যে রয়েছেন—ড. এ কে এনামুল হক, ফেরদৌস আরা বেগম, ইমরান মতিন, ড. কাজল ইকবাল, ম. তামিম, ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ, ড. মোস্তাফিজুর রহমান, ড. সেলিম রায়হান, ড. শারমিন নিলর্মী, ড. তাসনিম আরেফা সিদ্দিকী, এবং ড. জাহিদ হোসেন। এই কমিটি দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থার শ্বেতপত্র তৈরি করবে এবং তা সরকারের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক নীতি ও পদক্ষেপ নির্ধারণে সহায়তা করবে।

অর্থ আত্মসাৎকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, দেশের বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আত্মসাৎকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকজন অসাধু ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী ব্যক্তি বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করে বিদেশে পাচার করেছেন, যার সঠিক পরিমাণ নির্ণয়ের কাজ চলছে। ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতি ও প্রতারণার কারণে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়েছে, এবং এই আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধার করতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকার ইতিমধ্যে ইসলামী ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক এবং আরও কিছু ব্যাংকের পর্ষদ পুনর্গঠন করেছে। এছাড়াও, এই পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে অডিট শুরু করা হবে, যার মাধ্যমে আত্মসাৎকৃত অর্থের সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।

সম্পদ অধিগ্রহণের জন্য নতুন কার্যক্রম

অর্থ আত্মসাৎকারীদের শাস্তি দেওয়ার জন্য ব্যাংকসমূহের নতুন ব্যবস্থাপনা, বাংলাদেশ ব্যাংক, সিআইডি, এবং দুদক একত্রে কাজ করছে। এর মাধ্যমে আত্মসাৎকৃত অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ব্যাংক কমিশন গঠনের ঘোষণা

সরকার শিগগিরই একটি ব্যাংক কমিশন গঠন করবে, যা দেশের ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতাগুলো শনাক্ত করে তার পুনর্গঠনের পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে। এই কমিশন সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোতে তদন্ত চালাবে এবং ছয় মাসের মধ্যে একটি বাস্তবায়নযোগ্য রোডম্যাপ জমা দেবে।

অর্থনৈতিক শ্বেতপত্রের অগ্রাধিকার ক্ষেত্রসমূহ

শ্বেতপত্রের মধ্যে দেশের পাবলিক ফাইন্যান্স ম্যানেজমেন্ট, মূল্যস্ফীতি, খাদ্য ব্যবস্থা, বহির্বিশ্বের সাথে অর্থনৈতিক ভারসাম্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, বেসরকারি বিনিয়োগ, এবং কর্মসংস্থানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোর ওপর আলোকপাত করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

পাচারকৃত অর্থ পুনরুদ্ধারে সরকারের পদক্ষেপ এবং অর্থনৈতিক শ্বেতপত্র

Update Time : ০৫:০৫:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪
পাচারকৃত অর্থ পুনরুদ্ধারে সরকারের পদক্ষেপ

 

দেশ থেকে পাচারকৃত অর্থ পুনরুদ্ধার করার লক্ষ্যে প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে। পাচারকৃত অর্থ ফেরাতে বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার সহায়তা চেয়ে যোগাযোগ শুরু হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাচারকৃত অর্থ দেশে ফেরত আনতে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা হচ্ছে।

এছাড়াও, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থার স্বচ্ছ চিত্র তুলে ধরতে এবং শেখ হাসিনা সরকারের রেখে যাওয়া অর্থনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে একটি শ্বেতপত্র তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এই শ্বেতপত্র প্রণয়নের জন্য বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ৯০ দিনের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টাকে তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে, যাতে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা এবং পুনর্গঠনের পরিকল্পনা থাকবে।

শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির সদস্য

এই শ্বেতপত্র প্রণয়নে সহযোগিতা করছেন অর্থনীতি ও নীতি নির্ধারণের সাথে জড়িত বিশিষ্ট ব্যক্তিরা, যার মধ্যে রয়েছেন—ড. এ কে এনামুল হক, ফেরদৌস আরা বেগম, ইমরান মতিন, ড. কাজল ইকবাল, ম. তামিম, ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ, ড. মোস্তাফিজুর রহমান, ড. সেলিম রায়হান, ড. শারমিন নিলর্মী, ড. তাসনিম আরেফা সিদ্দিকী, এবং ড. জাহিদ হোসেন। এই কমিটি দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থার শ্বেতপত্র তৈরি করবে এবং তা সরকারের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক নীতি ও পদক্ষেপ নির্ধারণে সহায়তা করবে।

অর্থ আত্মসাৎকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, দেশের বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আত্মসাৎকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকজন অসাধু ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী ব্যক্তি বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করে বিদেশে পাচার করেছেন, যার সঠিক পরিমাণ নির্ণয়ের কাজ চলছে। ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতি ও প্রতারণার কারণে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়েছে, এবং এই আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধার করতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকার ইতিমধ্যে ইসলামী ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক এবং আরও কিছু ব্যাংকের পর্ষদ পুনর্গঠন করেছে। এছাড়াও, এই পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে অডিট শুরু করা হবে, যার মাধ্যমে আত্মসাৎকৃত অর্থের সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।

সম্পদ অধিগ্রহণের জন্য নতুন কার্যক্রম

অর্থ আত্মসাৎকারীদের শাস্তি দেওয়ার জন্য ব্যাংকসমূহের নতুন ব্যবস্থাপনা, বাংলাদেশ ব্যাংক, সিআইডি, এবং দুদক একত্রে কাজ করছে। এর মাধ্যমে আত্মসাৎকৃত অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ব্যাংক কমিশন গঠনের ঘোষণা

সরকার শিগগিরই একটি ব্যাংক কমিশন গঠন করবে, যা দেশের ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতাগুলো শনাক্ত করে তার পুনর্গঠনের পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে। এই কমিশন সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোতে তদন্ত চালাবে এবং ছয় মাসের মধ্যে একটি বাস্তবায়নযোগ্য রোডম্যাপ জমা দেবে।

অর্থনৈতিক শ্বেতপত্রের অগ্রাধিকার ক্ষেত্রসমূহ

শ্বেতপত্রের মধ্যে দেশের পাবলিক ফাইন্যান্স ম্যানেজমেন্ট, মূল্যস্ফীতি, খাদ্য ব্যবস্থা, বহির্বিশ্বের সাথে অর্থনৈতিক ভারসাম্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, বেসরকারি বিনিয়োগ, এবং কর্মসংস্থানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোর ওপর আলোকপাত করা হবে।