সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উত্তর কোরিয়ায় বন্যা প্রতিরোধে ব্যর্থতার অভিযোগে ৩০ সরকারি কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৫:৩০:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • / ৪৪৩ Time View

উত্তর কোরিয়ায় বন্যা প্রতিরোধে ব্যর্থতার অভিযোগে

উত্তর কোরিয়ায় বন্যা প্রতিরোধে ব্যর্থতার অভিযোগে ৩০ সরকারি কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

 

উত্তর কোরিয়ায় ভয়াবহ বন্যা এবং ভূমিধস প্রতিরোধে ব্যর্থতার অভিযোগে ৩০ জন সরকারি কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, যা দেশটির নেতা কিম জং উনের নির্দেশে করা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার মিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্যোগে প্রায় ৪ হাজার মানুষের প্রাণহানি হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার চোসুন টেলিভিশন নেটওয়ার্ক জানায়, দুর্নীতি ও দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে ২০ থেকে ৩০ জন উত্তর কোরিয়ার নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর জন্য কিম কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। চাগাং প্রদেশে জুলাই মাসের এই দুর্যোগে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়েছে বলে জানা যায়। কিমের নির্দেশে আগস্টের শেষের দিকে ওই অঞ্চলের কর্মকর্তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বন্যা প্রতিরোধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি, তবে ২০১৯ সাল থেকে চাগাং প্রদেশের পার্টি কমিটির সেক্রেটারি ক্যাং বং-হুনের মতো নেতাদের শাস্তি দেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়।

উত্তর কোরিয়ার সাবেক কূটনীতিক লি ইল-গিউ বলেন, “কিমের শাসনামলে কর্মকর্তাদের শাস্তির ভয় এতটাই তীব্র যে, তারা জানেন না কখন তাদের মাথা থেকে ঘাড় আলাদা হবে।”

কিমকে গত মাসে বন্যাকবলিত এলাকায় জরিপ চালাতে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে দেখা করতে দেখা যায়। তিনি তখন বলেছিলেন, এই অঞ্চলগুলো পুনর্নির্মাণে কয়েক মাস সময় লাগবে।

অন্যদিকে, উত্তর কোরিয়া সরকারি ভাবে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোকে ভুয়া খবর বলে অভিহিত করেছে।

এটি প্রথমবার নয় যে কিমের শাসনামলে এমন মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ২০১৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকে ব্যর্থতার কারণে পারমাণবিক দূত কিম হিওক চোলকেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে জানা যায় যে, তাকে রাষ্ট্রীয় হেফাজতে রাখা হয়েছিল।

উত্তর কোরিয়ায় সাধারণত প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ডের প্রচলন রয়েছে এবং কভিড-১৯ মহামারির আগে প্রতি বছর প্রায় ১০ জনকে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতো। ২০২৩ সালেও এই সংখ্যা আরও বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

উত্তর কোরিয়ায় বন্যা প্রতিরোধে ব্যর্থতার অভিযোগে ৩০ সরকারি কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

Update Time : ০৫:৩০:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪
উত্তর কোরিয়ায় বন্যা প্রতিরোধে ব্যর্থতার অভিযোগে ৩০ সরকারি কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

 

উত্তর কোরিয়ায় ভয়াবহ বন্যা এবং ভূমিধস প্রতিরোধে ব্যর্থতার অভিযোগে ৩০ জন সরকারি কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, যা দেশটির নেতা কিম জং উনের নির্দেশে করা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার মিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্যোগে প্রায় ৪ হাজার মানুষের প্রাণহানি হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার চোসুন টেলিভিশন নেটওয়ার্ক জানায়, দুর্নীতি ও দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে ২০ থেকে ৩০ জন উত্তর কোরিয়ার নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর জন্য কিম কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। চাগাং প্রদেশে জুলাই মাসের এই দুর্যোগে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়েছে বলে জানা যায়। কিমের নির্দেশে আগস্টের শেষের দিকে ওই অঞ্চলের কর্মকর্তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বন্যা প্রতিরোধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি, তবে ২০১৯ সাল থেকে চাগাং প্রদেশের পার্টি কমিটির সেক্রেটারি ক্যাং বং-হুনের মতো নেতাদের শাস্তি দেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়।

উত্তর কোরিয়ার সাবেক কূটনীতিক লি ইল-গিউ বলেন, “কিমের শাসনামলে কর্মকর্তাদের শাস্তির ভয় এতটাই তীব্র যে, তারা জানেন না কখন তাদের মাথা থেকে ঘাড় আলাদা হবে।”

কিমকে গত মাসে বন্যাকবলিত এলাকায় জরিপ চালাতে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে দেখা করতে দেখা যায়। তিনি তখন বলেছিলেন, এই অঞ্চলগুলো পুনর্নির্মাণে কয়েক মাস সময় লাগবে।

অন্যদিকে, উত্তর কোরিয়া সরকারি ভাবে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোকে ভুয়া খবর বলে অভিহিত করেছে।

এটি প্রথমবার নয় যে কিমের শাসনামলে এমন মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ২০১৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকে ব্যর্থতার কারণে পারমাণবিক দূত কিম হিওক চোলকেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে জানা যায় যে, তাকে রাষ্ট্রীয় হেফাজতে রাখা হয়েছিল।

উত্তর কোরিয়ায় সাধারণত প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ডের প্রচলন রয়েছে এবং কভিড-১৯ মহামারির আগে প্রতি বছর প্রায় ১০ জনকে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতো। ২০২৩ সালেও এই সংখ্যা আরও বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট