সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে পুনঃস্থাপন করবে বিএনপি: তারেক রহমান

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৫:০০:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • / ৪৬১ Time View

Tarek rahman

তারেক রহমান

 

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে পুনঃস্থাপন করবে বিএনপি: তারেক রহমান সংবিধানে পুনরুদ্ধার করার কথা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) খুলনা বিভাগীয় তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই কথা বলেন। বিএনপি’র মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদেশের জনগণের মালিকানা রয়েছে এবং স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ তাদের ন্যায্য অধিকার। ১৯৯৬ সালে বিএনপি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। কিন্তু ক্ষমতার প্রতি লোভ এবং জনগণকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার এটি সংবিধান থেকে মুছে ফেলেছে, যার ফলে তিনটি জাতীয় নির্বাচনে জনগণ তাদের ভোটাধিকার হারিয়েছে। আমরা জনগণের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আবার সংবিধানে যুক্ত করতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, বিএনপি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণের জন্য রাজনীতি করে। মানুষের নিরাপত্তা, বাক-স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ ব্যবসা-বাণিজ্য, কর্মসংস্থান, নারীর মর্যাদা, ধর্মীয়, জাতিগত সমতা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি পণ্যের ন্যায্যমূল্য এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করাই বিএনপির প্রধান অগ্রাধিকার।

তারেক রহমান বলেন, “যে বাড়িতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বসবাস করেছেন, যেখানে তার শৈশব ও কৈশোরের স্মৃতি রয়েছে, সেই বাড়ি থেকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অবমাননাকরভাবে উচ্ছেদ করা হয়েছে। আমার একমাত্র ভাই বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করেছেন এবং দলের লাখ লাখ নেতাকর্মী মামলার এবং হামলার শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়েছেন। বহু নেতাকর্মী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে জীবন বিসর্জন দিয়েছেন।”

তিনি জানান, বিএনপি অতীতের মতো প্রতিহিংসায় বিশ্বাস করে না। তিনি এবং দলের প্রধান বেগম খালেদা জিয়াও জানেন যে, দেশের মানুষ গত ১৭ বছর একটি বৃহত্তর কারাগারের মতো পরিস্থিতিতে বন্দি জীবনযাপন করেছেন। তাই এখন প্রয়োজন অতীতের অন্যায়গুলোর জবাব দেওয়া এবং দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করা।

তারেক রহমান বলেন, “বিএনপি দীর্ঘ সময় ধরে আন্দোলন ও সংগ্রামের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করেছে। দলের কিছু বিপথগামী সদস্যদের কারণে মানুষের সেই আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা সহ্য করা হবে না। তারা যেই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি দলের সদস্যদের পরামর্শ দেন, “যারা দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে তাদের চিহ্নিত করুন এবং প্রতিরোধ করুন। দলের বিরুদ্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে, তাদের বহিষ্কার করা হবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে পুনঃস্থাপন করবে বিএনপি: তারেক রহমান

Update Time : ০৫:০০:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪
তারেক রহমান

 

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে পুনঃস্থাপন করবে বিএনপি: তারেক রহমান সংবিধানে পুনরুদ্ধার করার কথা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) খুলনা বিভাগীয় তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই কথা বলেন। বিএনপি’র মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদেশের জনগণের মালিকানা রয়েছে এবং স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ তাদের ন্যায্য অধিকার। ১৯৯৬ সালে বিএনপি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। কিন্তু ক্ষমতার প্রতি লোভ এবং জনগণকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার এটি সংবিধান থেকে মুছে ফেলেছে, যার ফলে তিনটি জাতীয় নির্বাচনে জনগণ তাদের ভোটাধিকার হারিয়েছে। আমরা জনগণের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আবার সংবিধানে যুক্ত করতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, বিএনপি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণের জন্য রাজনীতি করে। মানুষের নিরাপত্তা, বাক-স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ ব্যবসা-বাণিজ্য, কর্মসংস্থান, নারীর মর্যাদা, ধর্মীয়, জাতিগত সমতা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি পণ্যের ন্যায্যমূল্য এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করাই বিএনপির প্রধান অগ্রাধিকার।

তারেক রহমান বলেন, “যে বাড়িতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বসবাস করেছেন, যেখানে তার শৈশব ও কৈশোরের স্মৃতি রয়েছে, সেই বাড়ি থেকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অবমাননাকরভাবে উচ্ছেদ করা হয়েছে। আমার একমাত্র ভাই বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করেছেন এবং দলের লাখ লাখ নেতাকর্মী মামলার এবং হামলার শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়েছেন। বহু নেতাকর্মী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে জীবন বিসর্জন দিয়েছেন।”

তিনি জানান, বিএনপি অতীতের মতো প্রতিহিংসায় বিশ্বাস করে না। তিনি এবং দলের প্রধান বেগম খালেদা জিয়াও জানেন যে, দেশের মানুষ গত ১৭ বছর একটি বৃহত্তর কারাগারের মতো পরিস্থিতিতে বন্দি জীবনযাপন করেছেন। তাই এখন প্রয়োজন অতীতের অন্যায়গুলোর জবাব দেওয়া এবং দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করা।

তারেক রহমান বলেন, “বিএনপি দীর্ঘ সময় ধরে আন্দোলন ও সংগ্রামের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করেছে। দলের কিছু বিপথগামী সদস্যদের কারণে মানুষের সেই আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা সহ্য করা হবে না। তারা যেই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি দলের সদস্যদের পরামর্শ দেন, “যারা দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে তাদের চিহ্নিত করুন এবং প্রতিরোধ করুন। দলের বিরুদ্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে, তাদের বহিষ্কার করা হবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”