Advertisement
সময়: বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঐতিহাসিক সিরিজ জয়: ডোনাল্ড-গিবসন এবং স্থানীয় কোচদেরও কৃতিত্ব দিচ্ছেন তামিম

আশরাফুল ইসলাম মেহেদী
  • Update Time : ০৪:০১:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • / ৪৭১ Time View

Series joy 1

বাংলাদেশের সিরিজ জয় -এ ফ পি

 

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় লেখা হয়েছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে কখনো টেস্ট না জেতা বাংলাদেশ এই সিরিজে তাদের নিজস্ব মাটিতে পাকিস্তানকে ধবলধোলাই করে দিয়েছে। এটি বাংলাদেশের ঘরের বাইরে দ্বিতীয় টেস্ট সিরিজ জয়। পাকিস্তানের জন্য এটি তাদের নিজস্ব মাটিতে দ্বিতীয়বারের মতো এমন পরাজয়ের সম্মুখীন হওয়া।

এত সফল একটি সফরের পর, বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের প্রশংসায় ভাসা স্বাভাবিক। এই সিরিজের অংশ না থাকা বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ওপেনার তামিম ইকবাল এই সাফল্যের পেছনে স্থানীয় কোচদের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেছেন। পাশাপাশি তিনি পেসারদের অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য সাবেক পেস বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ড ও ওটিস গিবসনের অবদানকেও স্মরণ করেছেন।

ক্রিকেট-বিষয়ক ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফোতে সিরিজের বিশ্লেষণে, তামিম স্থানীয় কোচ এবং বাংলাদেশের সাবেক কোচদের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। পাকিস্তান সফরের আগে, ক্রিকেটাররা সিলেট ও চট্টগ্রামে আড়াই মাসব্যাপী কঠোর টাইগার্স ক্যাম্পে অংশ নিয়েছিলেন, যা পরিচালিত হয়েছিল স্থানীয় কোচদের তত্ত্বাবধানে।

২৫ মে থেকে শুরু হওয়া এই ক্যাম্পটি টেস্ট দলের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, যেখানে মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হক, মেহেদী হাসান মিরাজের মতো মূল খেলোয়াড়রা অংশ নিয়েছিলেন। তামিম এই স্থানীয় কোচদের অবদান উল্লেখ করে বলেছেন, “বড় কোনো জয়ের পর মানুষ প্রায়ই ছোট বিষয়গুলো ভুলে যায়। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলোয়াড়রা যখন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে ব্যস্ত ছিল, তখন টেস্ট দলের বেশিরভাগ সদস্য টাইগার্স ক্যাম্পে অনুশীলন করেছে। এই ক্যাম্প এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলেছে এবং এটি স্থানীয় কোচদের তত্ত্বাবধানে ছিল। তাদের অনেক কৃতিত্ব দেওয়া উচিত। এটি একটি বড় ভূমিকা পালন করেছে।”

বাংলাদেশি পেসাররা পাকিস্তান সফরে নিজেদের দারুণভাবে চিনিয়েছেন। শরীফুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ থেকে শুরু করে নাহিদ রানা—সবাই নিজেদের পারফরম্যান্সে ছাপ রেখেছেন। দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে পেসাররা পাকিস্তানের সবকটি উইকেট তুলে নিয়েছে, যা একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।

পেসারদের এই সাফল্যের জন্য তামিম সাবেক পেস বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ড ও ওটিস গিবসনকে কৃতিত্ব দিয়েছেন, তিনি বলেন, “এটি (রাওয়ালপিন্ডি) এমন একটি উইকেট ছিল যেখানে আগেও অনেক রান হয়েছে। পাকিস্তানি পেসাররা যতটুকু সুবিধা নিতে পেরেছে, বাংলাদেশের পেসাররা তার চেয়ে বেশি সুবিধা নিতে পেরেছে। তাদের এই নিয়ে গর্ব করা উচিত। যারা আমাদের কোচ ছিলেন, তাদের কৃতিত্ব পাওয়া উচিত। অ্যালান ডোনাল্ড ও ওটিস গিবসন এই পেস বোলিং ইউনিটকে এতদূর নিয়ে আসতে কঠোর পরিশ্রম করেছেন।”

 

অ্যালান ডোনাল্ড বাংলাদেশের ফাস্ট বোলিং কোচ এর সাথে বাংলাদেশ দল

 

২০২২ সালের মার্চে অ্যালান ডোনাল্ডকে বাংলাদেশের ফাস্ট বোলিং কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়, যার ফলে পেস বোলিং বিভাগের উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটে। তিনি ভারতে অনুষ্ঠিত ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর দায়িত্ব ছেড়ে দেন। ডোনাল্ডের আগে ওটিস গিবসন বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বর্তমান বোলিং কোচ আন্দ্রে অ্যাডামস এই বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে দলের সঙ্গে আছেন।

পেসারদের সাফল্য নিয়ে তামিম আরও যোগ করেন, “বাংলাদেশের পেস বোলিং ইউনিটের জন্য এটি একটি বড় অর্জন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে আমি বলছি, পেসাররা ভালো করছে। তাসকিন উইকেট পায়নি, কিন্তু তার লাইন-লেংথ নিখুঁত ছিল। প্রথম টেস্টের পর আমি নিশ্চিত ছিলাম না, নাহিদ রানা খেলবে কি খেলবে না। শরীফুল চোটে না পড়লে হয়তো আমরা দ্বিতীয় টেস্টে নাহিদ রানাকে দেখতে পেতাম না। তার নির্ভেজাল গতি পাকিস্তানের সেরা ব্যাটসম্যানদের বিপদে ফেলেছে। অন্যদিকে হাসান নিজের সীমাবদ্ধতা জানত। সে অন্য কিছু চেষ্টা করেনি, লাইন টু লাইন বোলিং করেছে, এবং তা থেকে ফলও পেয়েছে।”

এই ঐতিহাসিক জয়টি আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় অভিজ্ঞতার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলাফল, যা বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্য ধারাবাহিক সহযোগিতার গুরুত্বকে তুলে ধরে।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ঐতিহাসিক সিরিজ জয়: ডোনাল্ড-গিবসন এবং স্থানীয় কোচদেরও কৃতিত্ব দিচ্ছেন তামিম

Update Time : ০৪:০১:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪
বাংলাদেশের সিরিজ জয় -এ ফ পি

 

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় লেখা হয়েছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে কখনো টেস্ট না জেতা বাংলাদেশ এই সিরিজে তাদের নিজস্ব মাটিতে পাকিস্তানকে ধবলধোলাই করে দিয়েছে। এটি বাংলাদেশের ঘরের বাইরে দ্বিতীয় টেস্ট সিরিজ জয়। পাকিস্তানের জন্য এটি তাদের নিজস্ব মাটিতে দ্বিতীয়বারের মতো এমন পরাজয়ের সম্মুখীন হওয়া।

এত সফল একটি সফরের পর, বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের প্রশংসায় ভাসা স্বাভাবিক। এই সিরিজের অংশ না থাকা বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ওপেনার তামিম ইকবাল এই সাফল্যের পেছনে স্থানীয় কোচদের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেছেন। পাশাপাশি তিনি পেসারদের অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য সাবেক পেস বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ড ও ওটিস গিবসনের অবদানকেও স্মরণ করেছেন।

ক্রিকেট-বিষয়ক ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফোতে সিরিজের বিশ্লেষণে, তামিম স্থানীয় কোচ এবং বাংলাদেশের সাবেক কোচদের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। পাকিস্তান সফরের আগে, ক্রিকেটাররা সিলেট ও চট্টগ্রামে আড়াই মাসব্যাপী কঠোর টাইগার্স ক্যাম্পে অংশ নিয়েছিলেন, যা পরিচালিত হয়েছিল স্থানীয় কোচদের তত্ত্বাবধানে।

২৫ মে থেকে শুরু হওয়া এই ক্যাম্পটি টেস্ট দলের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, যেখানে মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হক, মেহেদী হাসান মিরাজের মতো মূল খেলোয়াড়রা অংশ নিয়েছিলেন। তামিম এই স্থানীয় কোচদের অবদান উল্লেখ করে বলেছেন, “বড় কোনো জয়ের পর মানুষ প্রায়ই ছোট বিষয়গুলো ভুলে যায়। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলোয়াড়রা যখন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে ব্যস্ত ছিল, তখন টেস্ট দলের বেশিরভাগ সদস্য টাইগার্স ক্যাম্পে অনুশীলন করেছে। এই ক্যাম্প এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলেছে এবং এটি স্থানীয় কোচদের তত্ত্বাবধানে ছিল। তাদের অনেক কৃতিত্ব দেওয়া উচিত। এটি একটি বড় ভূমিকা পালন করেছে।”

বাংলাদেশি পেসাররা পাকিস্তান সফরে নিজেদের দারুণভাবে চিনিয়েছেন। শরীফুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ থেকে শুরু করে নাহিদ রানা—সবাই নিজেদের পারফরম্যান্সে ছাপ রেখেছেন। দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে পেসাররা পাকিস্তানের সবকটি উইকেট তুলে নিয়েছে, যা একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।

পেসারদের এই সাফল্যের জন্য তামিম সাবেক পেস বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ড ও ওটিস গিবসনকে কৃতিত্ব দিয়েছেন, তিনি বলেন, “এটি (রাওয়ালপিন্ডি) এমন একটি উইকেট ছিল যেখানে আগেও অনেক রান হয়েছে। পাকিস্তানি পেসাররা যতটুকু সুবিধা নিতে পেরেছে, বাংলাদেশের পেসাররা তার চেয়ে বেশি সুবিধা নিতে পেরেছে। তাদের এই নিয়ে গর্ব করা উচিত। যারা আমাদের কোচ ছিলেন, তাদের কৃতিত্ব পাওয়া উচিত। অ্যালান ডোনাল্ড ও ওটিস গিবসন এই পেস বোলিং ইউনিটকে এতদূর নিয়ে আসতে কঠোর পরিশ্রম করেছেন।”

 

অ্যালান ডোনাল্ড বাংলাদেশের ফাস্ট বোলিং কোচ এর সাথে বাংলাদেশ দল

 

২০২২ সালের মার্চে অ্যালান ডোনাল্ডকে বাংলাদেশের ফাস্ট বোলিং কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়, যার ফলে পেস বোলিং বিভাগের উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটে। তিনি ভারতে অনুষ্ঠিত ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর দায়িত্ব ছেড়ে দেন। ডোনাল্ডের আগে ওটিস গিবসন বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বর্তমান বোলিং কোচ আন্দ্রে অ্যাডামস এই বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে দলের সঙ্গে আছেন।

পেসারদের সাফল্য নিয়ে তামিম আরও যোগ করেন, “বাংলাদেশের পেস বোলিং ইউনিটের জন্য এটি একটি বড় অর্জন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে আমি বলছি, পেসাররা ভালো করছে। তাসকিন উইকেট পায়নি, কিন্তু তার লাইন-লেংথ নিখুঁত ছিল। প্রথম টেস্টের পর আমি নিশ্চিত ছিলাম না, নাহিদ রানা খেলবে কি খেলবে না। শরীফুল চোটে না পড়লে হয়তো আমরা দ্বিতীয় টেস্টে নাহিদ রানাকে দেখতে পেতাম না। তার নির্ভেজাল গতি পাকিস্তানের সেরা ব্যাটসম্যানদের বিপদে ফেলেছে। অন্যদিকে হাসান নিজের সীমাবদ্ধতা জানত। সে অন্য কিছু চেষ্টা করেনি, লাইন টু লাইন বোলিং করেছে, এবং তা থেকে ফলও পেয়েছে।”

এই ঐতিহাসিক জয়টি আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় অভিজ্ঞতার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলাফল, যা বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্য ধারাবাহিক সহযোগিতার গুরুত্বকে তুলে ধরে।