সময়: রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাপলা চত্বরের রক্তাক্ত অধ্যায় ,নিহতের তথ্য গোপনের অভিযোগে বিচারের মুখে দীপু মনি, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপা

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৫:২৬:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
  • / ১০৩ Time View
সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাংবাদিক মোজাম্মেল হক বাবু ও ফারজানা রুপা। ছবি: সংগৃহীত

২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে সে সময়ের রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম। নিহতের প্রকৃত তথ্য গোপন, ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করা এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অভিযোগে এবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার নির্দেশ পেয়েছেন সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাংবাদিক মোজাম্মেল হক বাবু এবং ফারজানা রুপা।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এই আদেশ দেন। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। ট্রাইব্যুনাল আগামী ১৪ মে তাদের আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছে। বর্তমানে তারা পৃথক মামলায় কারাগারে রয়েছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের ভিত্তিতে এই আদেশ দেওয়া হয়। ট্রাইব্যুনালে ব্রিফিংকালে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, শাপলা চত্বরে অভিযানের সময় কিছু গণমাধ্যম পরিকল্পিতভাবে তথ্য গোপন এবং ঘটনাকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তিনি অভিযোগ করেন, ওই রাতে ইন্টারনেট ও কয়েকটি টেলিভিশনের সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি আড়াল করা হয়েছিল।

চিফ প্রসিকিউটরের ভাষ্যমতে, ৫ মে রাতের অভিযানে নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা ও ঘটনার বাস্তবতা চাপা দিয়ে উল্টো হেফাজত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেই মামলা ও বিচার প্রক্রিয়া চালানো হয়। তিনি আরও জানান, ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ৭ জুনের আগেই জমা দেওয়া হবে।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে হেফাজতে ইসলামের কয়েকজন নেতা ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারা দাবি করেন, সরকারি হিসাবের চেয়ে সেদিন নিহতের প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি ছিল এবং সেই তথ্য জনগণের কাছ থেকে গোপন রাখা হয়েছে।

শাপলা চত্বরের সেই রাত বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। বহু বছর ধরে এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা, অভিযানের ধরন এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নানা বিতর্ক ও আলোচনা চললেও এবার প্রথমবারের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া দৃশ্যমান রূপ পেল।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বিচার শুধু একটি ঘটনার অনুসন্ধান নয়; বরং রাষ্ট্র, গণমাধ্যম ও ক্ষমতার ব্যবহারের প্রশ্নেও একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে গণমাধ্যমের ভূমিকা এবং তথ্য গোপনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা বাংলাদেশের সাংবাদিকতা ও রাজনৈতিক ইতিহাসে গভীর প্রভাব ফেলবে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

শাপলা চত্বরের রক্তাক্ত অধ্যায় ,নিহতের তথ্য গোপনের অভিযোগে বিচারের মুখে দীপু মনি, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপা

Update Time : ০৫:২৬:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাংবাদিক মোজাম্মেল হক বাবু ও ফারজানা রুপা। ছবি: সংগৃহীত

২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে সে সময়ের রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম। নিহতের প্রকৃত তথ্য গোপন, ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করা এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অভিযোগে এবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার নির্দেশ পেয়েছেন সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাংবাদিক মোজাম্মেল হক বাবু এবং ফারজানা রুপা।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এই আদেশ দেন। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। ট্রাইব্যুনাল আগামী ১৪ মে তাদের আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছে। বর্তমানে তারা পৃথক মামলায় কারাগারে রয়েছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের ভিত্তিতে এই আদেশ দেওয়া হয়। ট্রাইব্যুনালে ব্রিফিংকালে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, শাপলা চত্বরে অভিযানের সময় কিছু গণমাধ্যম পরিকল্পিতভাবে তথ্য গোপন এবং ঘটনাকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তিনি অভিযোগ করেন, ওই রাতে ইন্টারনেট ও কয়েকটি টেলিভিশনের সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি আড়াল করা হয়েছিল।

চিফ প্রসিকিউটরের ভাষ্যমতে, ৫ মে রাতের অভিযানে নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা ও ঘটনার বাস্তবতা চাপা দিয়ে উল্টো হেফাজত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেই মামলা ও বিচার প্রক্রিয়া চালানো হয়। তিনি আরও জানান, ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ৭ জুনের আগেই জমা দেওয়া হবে।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে হেফাজতে ইসলামের কয়েকজন নেতা ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারা দাবি করেন, সরকারি হিসাবের চেয়ে সেদিন নিহতের প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি ছিল এবং সেই তথ্য জনগণের কাছ থেকে গোপন রাখা হয়েছে।

শাপলা চত্বরের সেই রাত বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। বহু বছর ধরে এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা, অভিযানের ধরন এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নানা বিতর্ক ও আলোচনা চললেও এবার প্রথমবারের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া দৃশ্যমান রূপ পেল।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বিচার শুধু একটি ঘটনার অনুসন্ধান নয়; বরং রাষ্ট্র, গণমাধ্যম ও ক্ষমতার ব্যবহারের প্রশ্নেও একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে গণমাধ্যমের ভূমিকা এবং তথ্য গোপনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা বাংলাদেশের সাংবাদিকতা ও রাজনৈতিক ইতিহাসে গভীর প্রভাব ফেলবে।