বাংলাদেশ ‘ক্রাইসিস বাটন’ চাপ দিয়েছে: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য
- Update Time : ০২:৫২:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ২৫৪ Time View

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময় তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সম্প্রতি জাতিসংঘে আবেদন করেছে। এ বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মনে করেন, এ আবেদন কার্যত একটি ‘ক্রাইসিস বাটন’ চাপার শামিল।
আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি)-এর পাঁচ দিনব্যাপী বৈঠকে বাংলাদেশের আবেদন কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে, সে বিষয়ে আলোচনা হবে। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য নিজেও এ বৈঠকে অংশ নিতে নিউইয়র্ক গেছেন। তিনি সিডিপির সদস্য এবং এনহ্যান্সড মনিটরিং মেকানিজম (ইএমএম) উপকমিটির প্রধান।
ইএমএম কাঠামোর অধীনে ‘ক্রাইসিস বাটন’ নামে একটি বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে, যা সাধারণত তখনই ব্যবহৃত হয় যখন কোনো দেশের পরিস্থিতি আকস্মিকভাবে অবনতি ঘটে বা অপ্রত্যাশিত সংকট দেখা দেয়। অতীতে সলোমন আইল্যান্ডস প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সামাজিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এ সুযোগ নিয়েছিল এবং তাদের উত্তরণ সময়সীমা বাড়ানো হয়েছিল।
বর্তমানে এলডিসি থেকে উত্তরণের পাইপলাইনে রয়েছে তিনটি দেশ—বাংলাদেশ, নেপাল এবং লাওস। ইএমএম উপকমিটি এসব দেশের অগ্রগতি ও সাম্প্রতিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করবে। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নতুন বিষয় হলো—সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে সময় বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছে।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের মতে, আবেদনটি সরকারপ্রধানের বদলে একজন সচিবের পক্ষ থেকে পাঠানো হয়েছে, যা প্রক্রিয়াগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, গত নভেম্বরে সরকারের দেওয়া প্রতিবেদনে উত্তরণ প্রস্তুতি সন্তোষজনক বলা হয়েছিল। এখন নতুন আবেদনের সঙ্গে সেই প্রতিবেদনের তথ্যের তুলনা করা হবে। উত্তরণ কৌশলপত্র বাস্তবায়নে কতটা অগ্রগতি হয়েছে, সেটিও মূল্যায়নের আওতায় আসবে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)-এর সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী সম্প্রতি জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক)-এর অধীন সিডিপির চেয়ারম্যান হোসে আন্তোনিও ওকাম্পোর কাছে চিঠি পাঠান। সেখানে দেশীয় ও বৈশ্বিক নানা চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত উত্তরণ সময় বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়। পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশের চূড়ান্ত উত্তরণ হওয়ার কথা।
এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর অগ্রগতি তিন বছর অন্তর মূল্যায়ন করা হয়। মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক ও জলবায়ুগত ভঙ্গুরতা—এই তিন সূচকের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয় কোনো দেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তীর্ণ হবে কি না। যেকোনো দুটি সূচকে উত্তীর্ণ হওয়া বা নির্ধারিত সীমার দ্বিগুণ মাথাপিছু আয় অর্জন—এ দুটি পথের একটিতে যোগ্যতা অর্জন করতে হয়।
বাংলাদেশ ২০১৮ ও ২০২১ সালের মূল্যায়নে তিনটি সূচকেই উত্তীর্ণ হয়েছিল—মাথাপিছু মোট জাতীয় আয় (জিএনআই), মানবসম্পদ সূচক (এইচএআই) এবং অর্থনৈতিক ঝুঁকিপূর্ণতা সূচক (ইভিআই)। ২০২১ সালেই সুপারিশ করা হয়েছিল যে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ এলডিসি তালিকা থেকে বের হবে। তবে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে উত্তরণ প্রক্রিয়া দুই বছর পিছিয়ে দেওয়া হয়।
বর্তমান আবেদনের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মহলে এখন নজর থাকবে—বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও নীতিগত প্রস্তুতি কতটা এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে।










