সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিসেম্বরেই টাকা ফেরত পাচ্ছেন একীভূত ৫ ব্যাংকের আমানতকারীরা

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৯:৫৩:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ১৮১ Time View

সংকটে পড়া পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের জমাকৃত অর্থ চলতি ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই ফেরত দেওয়ার জন্য কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সব ধরনের প্রশাসনিক, আর্থিক ও প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করে আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধ নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের শৈথিল্য বা বিলম্ব গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও তিনি সতর্ক করে দেন।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে নবগঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের প্রথম বৈঠকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া। এতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের প্রশাসকরাও উপস্থিত ছিলেন।

সভায় গভর্নর দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইটি সিস্টেম ইন্টিগ্রেশনের কাজ সম্পন্ন করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন, যাতে আমানত ফেরতের পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের প্রযুক্তিগত জটিলতা বা গ্রাহক ভোগান্তি সৃষ্টি না হয়। তিনি বলেন, একটি সমন্বিত ও শক্তিশালী আইটি কাঠামো ছাড়া নতুন ব্যাংকের কার্যক্রম স্বচ্ছ ও কার্যকর করা সম্ভব নয়।

এ ছাড়া গভর্নর নতুনভাবে গঠিত ব্যাংকের জন্য একটি সমন্বিত মানবসম্পদ নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশ দেন। একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোর মধ্যে বিদ্যমান পদবি, গ্রেড, বেতন কাঠামো ও পদোন্নতিজনিত বৈষম্য দূর করে সবাইকে একটি একক কাঠামোর আওতায় আনার ওপর জোর দেন তিনি। এতে কর্মীদের মধ্যে আস্থার সংকট দূর হবে এবং ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আহসান এইচ মনসুর আরও জানান, সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ডিসেম্বরের মধ্যেই আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করতে হবে। তিনি আশ্বস্ত করেন, গ্রাহকরা আগের মতোই পূর্বে ইস্যু করা চেক ব্যবহার করে তাদের টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। পাশাপাশি জানানো হয়, আগামী জানুয়ারি মাসে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। তবে উদ্বোধনের আগেই আমানত ফেরতের কার্যক্রম শুরু হবে।

বৈঠকে উপস্থিত পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। তারা জানান, অতীতের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও ঋণ কেলেঙ্কারির কারণে সংকটে পড়া পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করে নতুনভাবে পুনর্গঠন করা হচ্ছে, যাতে ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা যায় এবং গ্রাহকদের হারানো আস্থা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়।

উল্লেখ্য, এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করা হয়েছে। এসব ব্যাংকে বর্তমানে প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারীর বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং ইসলামী ব্যাংকিং খাতকে টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোই এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ডিসেম্বরেই টাকা ফেরত পাচ্ছেন একীভূত ৫ ব্যাংকের আমানতকারীরা

Update Time : ০৯:৫৩:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫

সংকটে পড়া পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের জমাকৃত অর্থ চলতি ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই ফেরত দেওয়ার জন্য কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সব ধরনের প্রশাসনিক, আর্থিক ও প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করে আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধ নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের শৈথিল্য বা বিলম্ব গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও তিনি সতর্ক করে দেন।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে নবগঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের প্রথম বৈঠকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া। এতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের প্রশাসকরাও উপস্থিত ছিলেন।

সভায় গভর্নর দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইটি সিস্টেম ইন্টিগ্রেশনের কাজ সম্পন্ন করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন, যাতে আমানত ফেরতের পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের প্রযুক্তিগত জটিলতা বা গ্রাহক ভোগান্তি সৃষ্টি না হয়। তিনি বলেন, একটি সমন্বিত ও শক্তিশালী আইটি কাঠামো ছাড়া নতুন ব্যাংকের কার্যক্রম স্বচ্ছ ও কার্যকর করা সম্ভব নয়।

এ ছাড়া গভর্নর নতুনভাবে গঠিত ব্যাংকের জন্য একটি সমন্বিত মানবসম্পদ নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশ দেন। একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোর মধ্যে বিদ্যমান পদবি, গ্রেড, বেতন কাঠামো ও পদোন্নতিজনিত বৈষম্য দূর করে সবাইকে একটি একক কাঠামোর আওতায় আনার ওপর জোর দেন তিনি। এতে কর্মীদের মধ্যে আস্থার সংকট দূর হবে এবং ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আহসান এইচ মনসুর আরও জানান, সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ডিসেম্বরের মধ্যেই আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করতে হবে। তিনি আশ্বস্ত করেন, গ্রাহকরা আগের মতোই পূর্বে ইস্যু করা চেক ব্যবহার করে তাদের টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। পাশাপাশি জানানো হয়, আগামী জানুয়ারি মাসে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। তবে উদ্বোধনের আগেই আমানত ফেরতের কার্যক্রম শুরু হবে।

বৈঠকে উপস্থিত পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। তারা জানান, অতীতের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও ঋণ কেলেঙ্কারির কারণে সংকটে পড়া পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করে নতুনভাবে পুনর্গঠন করা হচ্ছে, যাতে ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা যায় এবং গ্রাহকদের হারানো আস্থা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়।

উল্লেখ্য, এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করা হয়েছে। এসব ব্যাংকে বর্তমানে প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারীর বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং ইসলামী ব্যাংকিং খাতকে টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোই এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য।