৫ ইসলামী ব্যাংক পাচ্ছে ছাড়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তা এখনই ফেরত দিতে হচ্ছে না
- Update Time : ০৪:৪১:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫
- / ২৭৪ Time View

দেশের পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত ইসলামী ব্যাংকের দীর্ঘদিনের তারল্য সংকট দূর করতে বাংলাদেশ ব্যাংক যে প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকার বিশেষ সহায়তা প্রদান করেছিল, তা অবিলম্বে ফেরত নেবে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকগুলোকে একীভূত করে একটি নতুন, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত এই অর্থ পুনরুদ্ধার স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্প্রতি নীতিনির্ধারণী স্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে গভর্নর এই নির্দেশনা প্রদান করেন।
‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠনের পথে পাঁচ প্রতিষ্ঠান
বাংলাদেশ ব্যাংকের উচ্চপদস্থ সূত্র জানিয়েছে, এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল), গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক—এই পাঁচটি দুর্বল ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ নামে একটি নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এরই মধ্যে ব্যাংকগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং একীভূত ব্যাংক তৈরির অ্যাসেট-লাইয়াবিলিটি মূল্যায়ন, মূলধন কাঠামো প্রণয়ন, ব্যবস্থাপনা রূপরেখা এবং আইনি বিষয়সমূহ নিয়ে কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।
কেন এখনই টাকা ফেরত চাচ্ছে না বাংলাদেশ ব্যাংক
কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে, এ মুহূর্তে অর্থ ফেরতের চাপ সৃষ্টি করলে একীভূতকরণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন:
“আমাদের বর্তমান লক্ষ্য টাকা ফেরত নয়, বরং ব্যাংকগুলোকে স্থিতিশীল করা। একীভূত ব্যাংক সম্পূর্ণভাবে গঠিত হয়ে কার্যক্রম শুরু করলে তখনই হিসাব বিশ্লেষণ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সহায়তা পুনরুদ্ধারের সিদ্ধান্ত নেবে।”
বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করে, পুনর্গঠন প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে ব্যাংকগুলোকে সময় দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
সহায়তা কোথায় ব্যয় হয়েছে
২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এই পাঁচ ব্যাংকের চরম তারল্য সংকট দেখা দিলে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন সময় রিফাইন্যান্স স্কিম, রেপো সুবিধা ও বিশেষ তহবিল থেকে মোট ৩৪ হাজার কোটি টাকার সহায়তা প্রদান করে।
এই অর্থের বড় অংশ ব্যয় হয়েছে—
- আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে,
- দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনা ব্যয় মেটাতে,
- জরুরি লেনদেন চালাতে।
সংকটের মূল কারণ: দুর্বল শাসনব্যবস্থা ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর দখল
বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে উঠে এসেছে, এই ব্যাংকগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে—
- প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ,
- অস্বচ্ছ ঋণ বিতরণ,
- পর্যাপ্ত তদারকির অভাব,
- এবং দুর্বল করপোরেট গভর্ন্যান্স
তারল্য সংকট আরও গভীর করেছে।
এ কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করে, শুধু টাকা ফেরত চাওয়াই সমাধান নয়; বরং শাসনব্যবস্থা সংস্কার করে একটি নতুন, টেকসই ও সুশাসিত ইসলামী ব্যাংকিং কাঠামো তৈরি করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
নীতির পরিবর্তন: ব্যাংকগুলোকে স্বস্তি দিতে শিথিলতা
এর আগে দুর্বল ব্যাংকগুলোতে নতুন জমা আসলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী সেই অর্থ থেকে ধাপে ধাপে আগের ঋণ সমন্বয় করা হতো।
কিন্তু নতুন সিদ্ধান্তে এই পদ্ধতি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, যাতে ব্যাংকগুলো—
- নগদ প্রবাহে স্বস্তি পায়,
- গ্রাহকের আস্থা ফিরে পায়,
- এবং একীভূতকরণ প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে এগোয়।










