মাইক্রোবাসে তুলে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: রাজধানী থেকে প্রধান আসামিসহ দুইজন গ্রেপ্তার
- Update Time : ০৮:০৫:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫
- / ১৫১ Time View

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মাইক্রোবাসে তুলে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ভয়াবহ ঘটনার তিন দিন পর অবশেষে প্রধান আসামি শফিকসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১। সোমবার (১০ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে রাজধানীর গুলশান-১ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো—শফিক (২৪) ও রাশেদ (২২)। দুজনই বরিশালের মুলাদী উপজেলার উত্তর গাছুয়া গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তারা ঢাকার ধানমন্ডির জিগাতলা এলাকায় অবস্থান করছিলেন।
ঘটনাটির পটভূমি
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী তরুণীর মায়ের কাছে শফিক ও রাশেদের প্রায় ৪ লাখ টাকা পাওনা ছিল। ওই টাকার বিনিময়ে আসামিরা একসময় একটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়। পরে ঋণ পরিশোধের পর মেয়েটির মা স্ট্যাম্প ফেরত চাইলে আসামিরা নানা অজুহাতে তা ফেরত দিতে টালবাহানা করে।
এরপর ৭ নভেম্বর সকাল ১১টার দিকে তারা ভুক্তভোগী তরুণীকে ফোন করে জানায়, স্বাক্ষরিত স্ট্যাম্পটি ফেরত দেওয়া হবে। কথামতো তরুণী সাইনবোর্ড এলাকায় গেলে আসামিরা জানায়, “স্ট্যাম্পটি আমাদের বোনের বাসায় আছে, সেখান থেকে আনতে হবে।” সরল বিশ্বাসে তরুণী মাইক্রোবাসে উঠে পড়েন।
পরে সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ির দশপাইপ এলাকায় পৌঁছালে, মাইক্রোবাসটি নির্জন স্থানে থামিয়ে আসামিরা প্রথমে তরুণীকে যৌন হয়রানি করে এবং পরে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
ভুক্তভোগী পরে ৯ নভেম্বর সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই র্যাব-১১ অভিযানে নামে।
র্যাবের অভিযান
র্যাব-১১-এর অপারেশন অফিসার গোলাম মোর্শেদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাতে রাজধানীর গুলশান-১ এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
তিনি আরও জানান, “গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।”
সামাজিক প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা প্রশ্ন
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে নারায়ণগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় নারী নির্যাতন ও অপহরণের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে। তারা দ্রুততম সময়ে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, এই ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তারা মনে করেন, দ্রুত বিচার আইনের আওতায় এ ধরনের অপরাধের দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।










