চার বছরের শিশু কন্যাকে ধর্ষণের ঘটনায় তোলপাড় পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি: পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে
- Update Time : ০৫:১২:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫
- / ১৭৪ Time View

পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলার তারকেশ্বরে চার বছরের এক শিশু কন্যাকে নির্মমভাবে যৌন নির্যাতনের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে রাজ্যজুড়ে। শনিবার ভোরে তারকেশ্বর স্টেশন চত্বরে ঘটে যাওয়া এ ভয়াবহ ঘটনাটি শুধু স্থানীয় জনমনে নয়, পুরো রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ঘটনাটি যেভাবে ঘটেছে
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার ভোররাতে স্টেশনের পাশে আশ্রয় নেওয়া শিশুটি তার দাদির সঙ্গে মশারির ভেতর ঘুমিয়ে ছিল। হঠাৎ রাতের আঁধারে এক বা একাধিক দুর্বৃত্ত মশারি কেটে শিশুটিকে তুলে নিয়ে যায়। সকাল থেকে নিখোঁজ শিশুটিকে খুঁজে না পেয়ে পরিবার মরিয়া হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। অবশেষে দুপুরের দিকে স্টেশন সংলগ্ন নর্দমার পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় চার বছরের ওই শিশুটিকে।
উদ্ধারের সময় শিশুটির শরীরের একাধিক অংশে আঘাতের চিহ্ন ছিল, এবং তার যৌনাঙ্গ থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। বর্তমানে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক।
পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় বিজেপি নেতারা অভিযোগ করেছেন, শিশুর ওপর নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়ার পরও পুলিশ প্রথমে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এই ঘটনায় শনিবার রাতে তারকেশ্বর থানার সামনে ব্যাপক বিক্ষোভ করে বিজেপি কর্মীরা।
পুলিশের পক্ষ থেকে অবশ্য দাবি করা হয়েছে, শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে মৌখিক অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তারা আশ্বাস দিয়েছে, দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
ঘটনাটি ঘিরে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে। তারকেশ্বরের বিধায়ক রামেন্দু সিংহ রায় এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি রেল পুলিশের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না থাকার অভিযোগও তোলেন।
বিরোধী দল বিজেপি অভিযোগ করেছে, পশ্চিমবঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ পর্যায়ে নেমে এসেছে, এবং নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতা ‘নিত্যদিনের ঘটনায়’ পরিণত হয়েছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু
“একটি নিষ্পাপ শিশুর জীবন তছনছ হয়ে যাচ্ছে, অথচ রাজ্য সরকার সত্যকে চাপা দিয়ে ভুয়া আইনশৃঙ্খলার ভাবমূর্তি রক্ষায় ব্যস্ত।”
সামাজিক ক্ষোভ ও উদ্বেগ
এদিকে সাধারণ মানুষ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে মানুষ প্রশ্ন তুলছে— কেন রেলওয়ে ও স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না? শিশুটির প্রতি এমন নির্মমতা ঘটল কীভাবে?
মানবাধিকার সংগঠনগুলো অবিলম্বে বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন এবং দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
এই ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে নারী ও শিশু নিরাপত্তা ইস্যুটি আবারও সামনে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নির্মম ঘটনা পশ্চিমবঙ্গে নারী ও শিশু নির্যাতন নিয়ে সরকারের দায়বদ্ধতা এবং পুলিশের কার্যকারিতা সম্পর্কে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।










