সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মেড্ডা বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১১ দোকান পুড়ে ছাই

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৫:০২:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২২৬ Time View

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ঐতিহ্যবাহী মেড্ডা বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক রাতেই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে অন্তত ১১টি দোকান। বুধবার (৫ নভেম্বর) ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে আকস্মিকভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে পুরো বাজারজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর মধ্যে।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে রয়েছে সেলুন, কাপড়ের দোকান, পান দোকান, ফার্মেসি ও জুতার দোকানসহ আরও কয়েকটি ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, গভীর রাতে হঠাৎ আগুন লাগার পর তারা দোকান খুলে পণ্য সরানোর সুযোগই পাননি। চোখের পলকেই আগুন তাদের আজীবনের সঞ্চয় ও ব্যবসায়িক পুঁজি ছাই করে দেয়। এক দোকানদার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “সবকিছু শেষ হয়ে গেলো। বছরের পর বছর ধরে পরিশ্রম করে যা গড়ে তুলেছিলাম, সব পুড়ে গেল এক রাতে।”

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. নাজমুল আলম বলেন,
“রাত সাড়ে ৩টার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে সৌভাগ্যবশত এই ঘটনায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।”

তিনি আরও জানান, আগুনের তীব্রতার কারণে বাজারের ভেতরে থাকা কিছু দোকানে প্রবেশ করতে সময় লাগে, যার ফলে ক্ষয়ক্ষতি আরও বেড়ে যায়। পরে স্থানীয় জনগণ ও পুলিশ সদস্যরাও আগুন নেভাতে সহায়তা করেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে আহ্বান জানানো হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় শোক ও হতাশা নেমে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বিস্তারিত

তদন্ত করে আগুন লাগার সঠিক কারণ ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে

এ ঘটনায় স্থানীয়রা বলেন, মেড্ডা বাজারে নিয়মিতভাবে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে। তারা দাবি করেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে বাজারে স্থায়ী অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ লাইন সংস্কার জরুরি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এই অগ্নিকাণ্ড আবারও মনে করিয়ে দিল—বাজার এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নিয়মিত তদারকি না থাকলে ছোট্ট একটি অসতর্কতা মুহূর্তেই শত মানুষের জীবিকা পুড়িয়ে দিতে পারে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মেড্ডা বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১১ দোকান পুড়ে ছাই

Update Time : ০৫:০২:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ঐতিহ্যবাহী মেড্ডা বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক রাতেই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে অন্তত ১১টি দোকান। বুধবার (৫ নভেম্বর) ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে আকস্মিকভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে পুরো বাজারজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর মধ্যে।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে রয়েছে সেলুন, কাপড়ের দোকান, পান দোকান, ফার্মেসি ও জুতার দোকানসহ আরও কয়েকটি ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, গভীর রাতে হঠাৎ আগুন লাগার পর তারা দোকান খুলে পণ্য সরানোর সুযোগই পাননি। চোখের পলকেই আগুন তাদের আজীবনের সঞ্চয় ও ব্যবসায়িক পুঁজি ছাই করে দেয়। এক দোকানদার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “সবকিছু শেষ হয়ে গেলো। বছরের পর বছর ধরে পরিশ্রম করে যা গড়ে তুলেছিলাম, সব পুড়ে গেল এক রাতে।”

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. নাজমুল আলম বলেন,
“রাত সাড়ে ৩টার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে সৌভাগ্যবশত এই ঘটনায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।”

তিনি আরও জানান, আগুনের তীব্রতার কারণে বাজারের ভেতরে থাকা কিছু দোকানে প্রবেশ করতে সময় লাগে, যার ফলে ক্ষয়ক্ষতি আরও বেড়ে যায়। পরে স্থানীয় জনগণ ও পুলিশ সদস্যরাও আগুন নেভাতে সহায়তা করেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে আহ্বান জানানো হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় শোক ও হতাশা নেমে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বিস্তারিত

তদন্ত করে আগুন লাগার সঠিক কারণ ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে

এ ঘটনায় স্থানীয়রা বলেন, মেড্ডা বাজারে নিয়মিতভাবে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে। তারা দাবি করেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে বাজারে স্থায়ী অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ লাইন সংস্কার জরুরি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এই অগ্নিকাণ্ড আবারও মনে করিয়ে দিল—বাজার এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নিয়মিত তদারকি না থাকলে ছোট্ট একটি অসতর্কতা মুহূর্তেই শত মানুষের জীবিকা পুড়িয়ে দিতে পারে।