রাষ্ট্রপতিকে বিশ্বাস করি না, প্রধান উপদেষ্টাকেই আদেশ দিতে হবে: এ টি এম মাসুম
- Update Time : ০৮:৫৮:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫
- / ২১৯ Time View

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মাসুম বলেছেন, রাষ্ট্রপতির প্রতি তাদের কোনো আস্থা নেই। তাই জুলাই সনদ স্বাক্ষরের আদেশ রাষ্ট্রপতি নয়, প্রধান উপদেষ্টাকেই জারি করতে হবে। শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর রামপুরার একরামুন্নেসা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াত আয়োজিত এক গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান।
তিনি বলেন, “জুলাই সনদ শুধু স্বাক্ষর করলেই হবে না, এর কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে প্রধান উপদেষ্টাকে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি আদেশ জারি করতে হবে। সাধারণত বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে রাষ্ট্রপতি আদেশ জারি করেন, কিন্তু এখনকার রাষ্ট্রপতি জনগণের নয়, হাসিনার নিয়োগপ্রাপ্ত। তাই আমরা মনে করি, প্রধান উপদেষ্টাকেই আইনের সুযোগ নিয়ে আদেশ দিতে হবে। আমরা এই প্রেসিডেন্টকে বিশ্বাস করি না, তার কোনো আদেশ জনগণ গ্রহণ করবে না।”
গণভোট প্রসঙ্গে এ টি এম মাসুম বলেন, নভেম্বরের মধ্যেই গণভোট সম্পন্ন করতে হবে। তিনি সমালোচনা করে বলেন, “একটি বড় দল নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজন করতে চায়, যা সম্পূর্ণ অবাস্তব চিন্তা। বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন হয় সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত—পুরো দিনজুড়ে। এমন পরিস্থিতিতে একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট দুটো আয়োজন করা হলে তা হবে বিশৃঙ্খল ও অকার্যকর। প্রার্থীরা নিজেদের নির্বাচনী জয় নিশ্চিত করতেই ব্যস্ত থাকবে, গণভোটের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তখন গুরুত্ব হারাবে। এতে জনগণের ইচ্ছা ও গণভোটের উদ্দেশ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
নারীর অধিকার প্রসঙ্গে জামায়াত নেতা বলেন, “বর্তমান সভ্যতা নারীদের পুরুষের মতো করে স্বাধীনতা দিয়েছে, কিন্তু ইসলাম নারীদের নারী হিসেবেই মর্যাদার স্বাধীনতা দিয়েছে। আমরা ক্ষমতায় গেলে নারীদের মর্যাদার সর্বোচ্চ অবস্থানে প্রতিষ্ঠা করব। সমাজে তাদের শালীনতা ও নিরাপত্তা বজায় রেখে সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।”
তিনি আরও প্রতিশ্রুতি দেন, জামায়াত ইসলামী ক্ষমতায় গেলে দেশে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার পূর্ণ অধিকার নিশ্চিত করা হবে। অমুসলিম নাগরিকরা সমান মর্যাদা ও নিরাপত্তা পাবে, কেউ বৈষম্যের শিকার হবে না।
ব্রিটিশ আমল থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত পুরোনো আইনি কাঠামোর সমালোচনা করে এ টি এম মাসুম বলেন, “বাংলাদেশ এখনো ঔপনিবেশিক আইনের ছায়ায় চলছে। জামায়াত ইসলামী ক্ষমতায় গেলে আমরা সংবিধান, আইন ও প্রশাসনিক কাঠামোকে স্বাধীন বাংলাদেশের চেতনা ও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে নতুনভাবে সংস্কার করব। আইন হবে জনগণ ও ন্যায়ের পক্ষে, শাসকগোষ্ঠীর পক্ষে নয়।”
রামপুরা থানা উত্তরের আমির ফজলে আহমেদ ফজলুর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই গণসমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান এবং সহকারী সেক্রেটারি মো. নাজিম উদ্দিন মোল্লা প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, জনগণের রায় ছাড়া কোনো সরকার টিকে থাকতে পারে না। গণভোট ও নির্বাচন—দুটোই জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া। তাই প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন ও প্রধান উপদেষ্টাকে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে। তারা আরও বলেন, “গণভোট যদি বিলম্বিত হয় বা কৌশলে বাধাগ্রস্ত করা হয়, তাহলে জনগণ তা প্রতিহত করবে।”
শেষে এ টি এম মাসুম আহ্বান জানান, “দেশে সুশাসন, ন্যায়বিচার ও ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। জনগণের ভোটাধিকার, নারীর সম্মান ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা—সবই ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”










