ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রাতে টর্চলাইটের আলোয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৩০ জন
- Update Time : ০৭:১৩:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫
- / ১৭৮ Time View

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (২২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সদর উপজেলার উত্তর সুহিলপুর এলাকায় আজিজ গোষ্ঠী ও উকিল গোষ্ঠীর অনুসারীদের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতের অন্ধকারে টর্চলাইট জ্বালিয়ে দুই পক্ষ মহাসড়কের উপর মুখোমুখি অবস্থান নেয়। মুহূর্তের মধ্যেই সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। উভয় পক্ষের লোকজন টেঁটা, বল্লম, রামদা ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী এই সংঘর্ষে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। আতঙ্কে আশপাশের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়, স্থানীয়রা ঘরে অবস্থান নেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার-পাঁচ দিন আগে আওয়ামী লীগ-বিএনপি রাজনৈতিক বিতর্ককে কেন্দ্র করে উকিল গোষ্ঠীর সাদ্দাম নামের এক যুবক আজিজ গোষ্ঠীর আক্তারকে চড় মারে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। বুধবার বিকেলে স্থানীয় মুরব্বিদের উদ্যোগে সালিশ বৈঠক বসানো হলেও সেখানে সমাধান না হওয়ায় রাতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং উভয় গোষ্ঠী মহাসড়কে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম জানান, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আজিজ ও উকিল গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এরই জের ধরে বুধবার রাতে উভয় গোষ্ঠীর অনুসারীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে পুনরায় কোনো সংঘর্ষ না ঘটে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্যের দ্বন্দ্ব চলে আসছে। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তারের লড়াই এখন সামাজিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বিরোধ নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন।










