সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গণভোট ছাড়া ফেব্রুয়ারির নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা পাবেনা: ড. তাহের

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৭:৫৩:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫
  • / ১৭৯ Time View

fa7d180cfa103e1820cb5e214af108d1 68f8f355c540c

fa7d180cfa103e1820cb5e214af108d1 68f8f355c540c

আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজন না হলে ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না বলে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের।

বুধবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ড. তাহের বলেন, “গণভোট হলো জাতীয় নির্বাচনের সাংবিধানিক ও নৈতিক ভিত্তি। জনগণের মতামত যাচাই ছাড়া নির্বাচনের আয়োজন অর্থহীন হবে। গণভোটের মাধ্যমে জনগণকে সুযোগ দিতে হবে—তারা বর্তমান ব্যবস্থায় নির্বাচন চান নাকি একটি পূর্ণ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন চান। একদিনে নির্বাচন ও গণভোট করলে আইনগত জটিলতা ও প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। তাই আমাদের প্রস্তাব, নভেম্বরের শেষ দিকে গণভোট আয়োজন করা হোক, এরপর পর্যাপ্ত সময় নিয়ে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “বিএনপি গণচাপের মুখে গণভোটে রাজি হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তারা একদিনে নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তাব দিয়ে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। আমরা মনে করি, এটি একটি কৌশলগত পদক্ষেপ, যা গণভোটের মূল উদ্দেশ্যকে দুর্বল করবে।”

প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিশ্চিতের দাবিতে জামায়াত দৃঢ় অবস্থান জানায়। তাহের বলেন, “বর্তমান প্রশাসন ও পুলিশের প্রায় ৭০ শতাংশ কর্মকর্তা একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি আনুগত্যশীল। তাদের মাধ্যমে নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচন সম্ভব নয়। আমরা প্রধান উপদেষ্টার কাছে দাবি জানিয়েছি—নির্বাচনের আগে প্রশাসন ও পুলিশের বড় পরিসরে রদবদল ঘটাতে হবে, যাতে মাঠ পর্যায়ে একটি ‘লেভেল প্লেইং ফিল্ড’ সৃষ্টি হয়।”

তিনি আরও জানান, বৈঠকে জুলাই সনদ (July Charter) বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে আলোচিত হয়। জামায়াত প্রস্তাব দিয়েছে, ওই সনদকে সাংবিধানিক ভিত্তি দিতে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করা হোক, যাতে নির্বাচনকালীন সরকারের সিদ্ধান্তসমূহ আইনগত বৈধতা পায়।

ড. তাহের বলেন, “আমরা চাই, জুলাই সনদের ভিত্তিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। এটি জনগণের প্রত্যাশা এবং জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে কাজ করতে পারে। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস আমাদের প্রস্তাবগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছেন।”

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিষয়ে জামায়াতের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, “আমরা মনে করি, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারই একটি কার্যকর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভূমিকা পালন করতে পারে, যদি তারা প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখে এবং সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে। জনগণের আস্থা অর্জনই এখন সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।”

বৈঠকে জামায়াতের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রাজনৈতিক কমিটির সদস্যরা। তারা নির্বাচনকালীন সরকারের ভূমিকা, সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনরুদ্ধার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

সার্বিকভাবে, জামায়াত মনে করে—গণভোট ছাড়া কোনো নির্বাচনের ফলাফল জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না, বরং তা নতুন রাজনৈতিক সংকট তৈরি করবে। তাই তারা নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে গণভোট আয়োজন এবং ফেব্রুয়ারিতে সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

গণভোট ছাড়া ফেব্রুয়ারির নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা পাবেনা: ড. তাহের

Update Time : ০৭:৫৩:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫

fa7d180cfa103e1820cb5e214af108d1 68f8f355c540c

আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজন না হলে ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না বলে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের।

বুধবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ড. তাহের বলেন, “গণভোট হলো জাতীয় নির্বাচনের সাংবিধানিক ও নৈতিক ভিত্তি। জনগণের মতামত যাচাই ছাড়া নির্বাচনের আয়োজন অর্থহীন হবে। গণভোটের মাধ্যমে জনগণকে সুযোগ দিতে হবে—তারা বর্তমান ব্যবস্থায় নির্বাচন চান নাকি একটি পূর্ণ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন চান। একদিনে নির্বাচন ও গণভোট করলে আইনগত জটিলতা ও প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। তাই আমাদের প্রস্তাব, নভেম্বরের শেষ দিকে গণভোট আয়োজন করা হোক, এরপর পর্যাপ্ত সময় নিয়ে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “বিএনপি গণচাপের মুখে গণভোটে রাজি হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তারা একদিনে নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তাব দিয়ে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। আমরা মনে করি, এটি একটি কৌশলগত পদক্ষেপ, যা গণভোটের মূল উদ্দেশ্যকে দুর্বল করবে।”

প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিশ্চিতের দাবিতে জামায়াত দৃঢ় অবস্থান জানায়। তাহের বলেন, “বর্তমান প্রশাসন ও পুলিশের প্রায় ৭০ শতাংশ কর্মকর্তা একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি আনুগত্যশীল। তাদের মাধ্যমে নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচন সম্ভব নয়। আমরা প্রধান উপদেষ্টার কাছে দাবি জানিয়েছি—নির্বাচনের আগে প্রশাসন ও পুলিশের বড় পরিসরে রদবদল ঘটাতে হবে, যাতে মাঠ পর্যায়ে একটি ‘লেভেল প্লেইং ফিল্ড’ সৃষ্টি হয়।”

তিনি আরও জানান, বৈঠকে জুলাই সনদ (July Charter) বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে আলোচিত হয়। জামায়াত প্রস্তাব দিয়েছে, ওই সনদকে সাংবিধানিক ভিত্তি দিতে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করা হোক, যাতে নির্বাচনকালীন সরকারের সিদ্ধান্তসমূহ আইনগত বৈধতা পায়।

ড. তাহের বলেন, “আমরা চাই, জুলাই সনদের ভিত্তিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। এটি জনগণের প্রত্যাশা এবং জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে কাজ করতে পারে। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস আমাদের প্রস্তাবগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছেন।”

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিষয়ে জামায়াতের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, “আমরা মনে করি, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারই একটি কার্যকর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভূমিকা পালন করতে পারে, যদি তারা প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখে এবং সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে। জনগণের আস্থা অর্জনই এখন সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।”

বৈঠকে জামায়াতের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রাজনৈতিক কমিটির সদস্যরা। তারা নির্বাচনকালীন সরকারের ভূমিকা, সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনরুদ্ধার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

সার্বিকভাবে, জামায়াত মনে করে—গণভোট ছাড়া কোনো নির্বাচনের ফলাফল জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না, বরং তা নতুন রাজনৈতিক সংকট তৈরি করবে। তাই তারা নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে গণভোট আয়োজন এবং ফেব্রুয়ারিতে সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।