সময়: বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কে হতে পারেন জামায়াতের নতুন আমির?জনপ্রিয়তায় শীর্ষে বর্তমান আমির ডা. শফিকুর রহমান

বিল্লাল হোসেন
  • Update Time : ১১:১১:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫
  • / ৩১৮ Time View

jamayat logo 1755816502

 

jamayat logo 1755816502

জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান আমির ডা. শফিকুর রহমানের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ডিসেম্বর মাসে। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর অনুষ্ঠিত হয় নতুন আমির নির্বাচন। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এ বছরের ভোটগ্রহণ পর্ব শুরু হবে ১৫ অক্টোবর থেকে এবং চলবে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত। সারা দেশের রুকনরা গোপন ভোটের মাধ্যমে দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব নির্ধারণ করবেন। নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হওয়ায় এখন দলীয় মহলে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়—কে হচ্ছেন জামায়াতের পরবর্তী আমির?

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে আলোচনায় উঠে এসেছে পাঁচজন শীর্ষ নেতার নাম—বর্তমান আমির ডা. শফিকুর রহমান, সিনিয়র নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এবং সাবেক ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলাম। তবে দলের অভ্যন্তরে অধিকাংশ রুকন ও সমর্থকরা এখনও ডা. শফিকুর রহমানকেই প্রথম পছন্দ হিসেবে দেখছেন।

দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার বিদায়ী সদস্যরা ভোট শুরুর আগে তিনজনের একটি সম্ভাব্য প্যানেল নির্ধারণ করেন। এই প্যানেল থেকে রুকনরা ভোট দিয়ে নতুন আমির নির্বাচন করেন। যদিও রুকনরা চাইলে প্যানেলের বাইরের কোনো নেতাকেও ভোট দিতে পারেন, তবে ঐতিহ্যগতভাবে নির্বাচিত আমির সাধারণত ওই প্যানেল থেকেই হয়ে থাকেন। প্যানেলের নাম গোপন রাখা হয় ভোট শুরুর আগ পর্যন্ত। ভোট শুরু হলে দেশের প্রতিটি জেলায় নির্বাচনি প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা গোপন ব্যালটে ভোট সংগ্রহ করেন এবং পুরো প্রক্রিয়া ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত চলে।

বর্তমানে জামায়াতের সক্রিয় রুকনের সংখ্যা এক লাখ পাঁচ হাজারের বেশি। এই রুকনরাই গোপন ভোটে দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারণ করবেন। ফলাফল ঘোষণার পর নভেম্বর মাসেই নতুন আমির শপথ গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে।

জামায়াতের গঠনতন্ত্রের ১৫ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে—“বিদায়ী কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা তিনজনের একটি প্যানেল নির্বাচন করবেন। ভোটারগণ ইচ্ছা করলে প্যানেলবহির্ভূত কাউকেও ভোট দিতে পারবেন। নির্বাচিত হওয়ার পর আমিরে জামায়াত কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার উপস্থিতিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নিকট শপথ গ্রহণ করবেন।”

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, “এই নির্বাচন ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের জন্য অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জামায়াতের নির্বাচনে নির্দিষ্ট কোনো প্রার্থী থাকে না। শুরা মনোনীত তিনজনের প্যানেল থেকেই রুকনরা ভোট দেন। যিনি সর্বাধিক ভোট পাবেন, তিনিই হবেন নতুন আমির।”

দলীয় অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা যায়, বর্তমান আমির ডা. শফিকুর রহমান মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে সক্রিয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণে গতিশীল, এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে দলের ভেতরে এবং বাইরে উভয় মহলে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। বিশেষ করে ২০২৩ সালের আগস্টে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলাকালে তাঁর দৃঢ় নেতৃত্ব ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন গতি এনেছিল। তাঁর নেতৃত্বে জামায়াত আরও সংগঠিত ও জনমুখী হয়েছে বলে মনে করেন অনেক রুকন।

এ কারণে অনেকেই মনে করছেন, তৃতীয় মেয়াদের জন্যও তাঁকেই বেছে নিতে পারেন রুকনরা। তাঁকে ঘিরে দলের সাধারণ সদস্যদের মধ্যে এক ধরনের ঐক্য ও আস্থা গড়ে উঠেছে, যা অন্য কোনো প্রার্থী অর্জন করতে পারেননি। দলীয় সংস্কার, জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং গণতান্ত্রিক চর্চার প্রসারে তাঁর ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে বিভিন্ন মহলে।

তবে বিকল্প সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। দীর্ঘদিন কারাবরণ শেষে সদ্য মুক্তি পাওয়া সাবেক ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলামের প্রতিও দলের অনেক নেতাকর্মীর সহানুভূতি রয়েছে। তাঁকে একজন ত্যাগী, সংগঠক ও আদর্শিক নেতা হিসেবে দেখা হয়। কিছু রুকন মনে করেন, যদি নেতৃত্বে পরিবর্তনের বার্তা দিতে চায় জামায়াত, তবে তিনিও হতে পারেন শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী।

২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর প্রথমবারের মতো আমির নির্বাচিত হন ডা. শফিকুর রহমান। ২০২০ সালের ৫ ডিসেম্বর তিনি শপথ গ্রহণ করেন। পরে ২০২২ সালের ২৭ অক্টোবর দ্বিতীয়বারের মতো তাঁকে পুনর্নির্বাচিত করা হয়। এবার তিনি নির্বাচিত হলে এটি হবে তাঁর টানা তৃতীয় মেয়াদ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডা. শফিকুর রহমান শুধু জামায়াতের অভ্যন্তরেই নয়, বরং দেশের বৃহত্তর ইসলামী আন্দোলন ও রাজনীতির ক্ষেত্রেও একটি গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বে পরিণত হয়েছেন। তাঁর পরিমিত বক্তব্য, সংগঠনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং পরিবর্তনশীল সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার সক্ষমতা তাঁকে আলাদা করেছে পূর্ববর্তী নেতৃত্ব থেকে।

দলীয় পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জামায়াতের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা অনেকাংশে নির্ভর করছে এই নির্বাচনের ফলাফলের ওপর। রুকনরা অভিজ্ঞ ও স্থিতিশীল নেতৃত্বে আস্থা রাখবেন, নাকি নতুন মুখে পরিবর্তনের ডাক দেবেন—সেটিই এখন দেখার বিষয়।

তবে একথা বলাই যায়, জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতা এবং নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় ডা. শফিকুর রহমান এখনও জামায়াতের রুকন ও সাধারণ মানুষের কাছে সবচেয়ে প্রভাবশালী এবং সম্ভাবনাময় নেতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। তাঁর পুনর্নির্বাচন হলে তা কেবল ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং দলের ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হবে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বিল্লাল হোসেন

বিল্লাল হোসেন, একজন প্রজ্ঞাবান পেশাজীবী, যিনি গণিতের ওপর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং ব্যাংকার, অর্থনীতিবিদ, ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞ হিসেবে একটি সমৃদ্ধ ও বহুমুখী ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন। তার আর্থিক খাতে যাত্রা তাকে নেতৃত্বের ভূমিকায় নিয়ে গেছে, বিশেষ করে সৌদি আরবের আল-রাজি ব্যাংকিং Inc. এবং ব্যাংক-আল-বিলাদে বিদেশী সম্পর্ক ও করেসপন্ডেন্ট মেইন্টেনেন্স অফিসার হিসেবে। প্রথাগত অর্থনীতির গণ্ডির বাইরে, বিল্লাল একজন প্রখ্যাত লেখক ও বিশ্লেষক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন, বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালে মননশীল কলাম ও গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করে। তার দক্ষতা বিস্তৃত বিষয় জুড়ে রয়েছে, যেমন অর্থনীতির জটিলতা, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, প্রবাসী শ্রমিকদের দুঃখ-কষ্ট, রেমিটেন্স, রিজার্ভ এবং অন্যান্য সম্পর্কিত দিক। বিল্লাল তার লেখায় একটি অনন্য বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসেন, যা ব্যাংকিং ক্যারিয়ারে অর্জিত বাস্তব জ্ঞানকে একত্রিত করে একাডেমিক কঠোরতার সাথে। তার প্রবন্ধগুলো শুধুমাত্র জটিল বিষয়গুলির উপর গভীর বোঝাপড়ার প্রতিফলন নয়, বরং পাঠকদের জন্য জ্ঞানপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে, যা তত্ত্ব ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে। বিল্লাল হোসেনের অবদান তার প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করে যে, তিনি আমাদের আন্তঃসংযুক্ত বিশ্বের জটিলতাগুলি উন্মোচন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের একটি বিস্তৃত এবং আরও সূক্ষ্ম বোঝাপড়ার দিকে মূল্যবান অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে।

কে হতে পারেন জামায়াতের নতুন আমির?জনপ্রিয়তায় শীর্ষে বর্তমান আমির ডা. শফিকুর রহমান

Update Time : ১১:১১:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫

 

jamayat logo 1755816502

জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান আমির ডা. শফিকুর রহমানের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ডিসেম্বর মাসে। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর অনুষ্ঠিত হয় নতুন আমির নির্বাচন। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এ বছরের ভোটগ্রহণ পর্ব শুরু হবে ১৫ অক্টোবর থেকে এবং চলবে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত। সারা দেশের রুকনরা গোপন ভোটের মাধ্যমে দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব নির্ধারণ করবেন। নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হওয়ায় এখন দলীয় মহলে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়—কে হচ্ছেন জামায়াতের পরবর্তী আমির?

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে আলোচনায় উঠে এসেছে পাঁচজন শীর্ষ নেতার নাম—বর্তমান আমির ডা. শফিকুর রহমান, সিনিয়র নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এবং সাবেক ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলাম। তবে দলের অভ্যন্তরে অধিকাংশ রুকন ও সমর্থকরা এখনও ডা. শফিকুর রহমানকেই প্রথম পছন্দ হিসেবে দেখছেন।

দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার বিদায়ী সদস্যরা ভোট শুরুর আগে তিনজনের একটি সম্ভাব্য প্যানেল নির্ধারণ করেন। এই প্যানেল থেকে রুকনরা ভোট দিয়ে নতুন আমির নির্বাচন করেন। যদিও রুকনরা চাইলে প্যানেলের বাইরের কোনো নেতাকেও ভোট দিতে পারেন, তবে ঐতিহ্যগতভাবে নির্বাচিত আমির সাধারণত ওই প্যানেল থেকেই হয়ে থাকেন। প্যানেলের নাম গোপন রাখা হয় ভোট শুরুর আগ পর্যন্ত। ভোট শুরু হলে দেশের প্রতিটি জেলায় নির্বাচনি প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা গোপন ব্যালটে ভোট সংগ্রহ করেন এবং পুরো প্রক্রিয়া ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত চলে।

বর্তমানে জামায়াতের সক্রিয় রুকনের সংখ্যা এক লাখ পাঁচ হাজারের বেশি। এই রুকনরাই গোপন ভোটে দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারণ করবেন। ফলাফল ঘোষণার পর নভেম্বর মাসেই নতুন আমির শপথ গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে।

জামায়াতের গঠনতন্ত্রের ১৫ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে—“বিদায়ী কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা তিনজনের একটি প্যানেল নির্বাচন করবেন। ভোটারগণ ইচ্ছা করলে প্যানেলবহির্ভূত কাউকেও ভোট দিতে পারবেন। নির্বাচিত হওয়ার পর আমিরে জামায়াত কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার উপস্থিতিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নিকট শপথ গ্রহণ করবেন।”

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, “এই নির্বাচন ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের জন্য অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জামায়াতের নির্বাচনে নির্দিষ্ট কোনো প্রার্থী থাকে না। শুরা মনোনীত তিনজনের প্যানেল থেকেই রুকনরা ভোট দেন। যিনি সর্বাধিক ভোট পাবেন, তিনিই হবেন নতুন আমির।”

দলীয় অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা যায়, বর্তমান আমির ডা. শফিকুর রহমান মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে সক্রিয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণে গতিশীল, এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে দলের ভেতরে এবং বাইরে উভয় মহলে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। বিশেষ করে ২০২৩ সালের আগস্টে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলাকালে তাঁর দৃঢ় নেতৃত্ব ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন গতি এনেছিল। তাঁর নেতৃত্বে জামায়াত আরও সংগঠিত ও জনমুখী হয়েছে বলে মনে করেন অনেক রুকন।

এ কারণে অনেকেই মনে করছেন, তৃতীয় মেয়াদের জন্যও তাঁকেই বেছে নিতে পারেন রুকনরা। তাঁকে ঘিরে দলের সাধারণ সদস্যদের মধ্যে এক ধরনের ঐক্য ও আস্থা গড়ে উঠেছে, যা অন্য কোনো প্রার্থী অর্জন করতে পারেননি। দলীয় সংস্কার, জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং গণতান্ত্রিক চর্চার প্রসারে তাঁর ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে বিভিন্ন মহলে।

তবে বিকল্প সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। দীর্ঘদিন কারাবরণ শেষে সদ্য মুক্তি পাওয়া সাবেক ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলামের প্রতিও দলের অনেক নেতাকর্মীর সহানুভূতি রয়েছে। তাঁকে একজন ত্যাগী, সংগঠক ও আদর্শিক নেতা হিসেবে দেখা হয়। কিছু রুকন মনে করেন, যদি নেতৃত্বে পরিবর্তনের বার্তা দিতে চায় জামায়াত, তবে তিনিও হতে পারেন শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী।

২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর প্রথমবারের মতো আমির নির্বাচিত হন ডা. শফিকুর রহমান। ২০২০ সালের ৫ ডিসেম্বর তিনি শপথ গ্রহণ করেন। পরে ২০২২ সালের ২৭ অক্টোবর দ্বিতীয়বারের মতো তাঁকে পুনর্নির্বাচিত করা হয়। এবার তিনি নির্বাচিত হলে এটি হবে তাঁর টানা তৃতীয় মেয়াদ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডা. শফিকুর রহমান শুধু জামায়াতের অভ্যন্তরেই নয়, বরং দেশের বৃহত্তর ইসলামী আন্দোলন ও রাজনীতির ক্ষেত্রেও একটি গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বে পরিণত হয়েছেন। তাঁর পরিমিত বক্তব্য, সংগঠনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং পরিবর্তনশীল সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার সক্ষমতা তাঁকে আলাদা করেছে পূর্ববর্তী নেতৃত্ব থেকে।

দলীয় পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জামায়াতের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা অনেকাংশে নির্ভর করছে এই নির্বাচনের ফলাফলের ওপর। রুকনরা অভিজ্ঞ ও স্থিতিশীল নেতৃত্বে আস্থা রাখবেন, নাকি নতুন মুখে পরিবর্তনের ডাক দেবেন—সেটিই এখন দেখার বিষয়।

তবে একথা বলাই যায়, জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতা এবং নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় ডা. শফিকুর রহমান এখনও জামায়াতের রুকন ও সাধারণ মানুষের কাছে সবচেয়ে প্রভাবশালী এবং সম্ভাবনাময় নেতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। তাঁর পুনর্নির্বাচন হলে তা কেবল ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং দলের ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হবে।