সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পিআর পদ্ধতি ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গোলটেবিল বৈঠক

বিল্লাল হোসেন
  • Update Time : ১১:৩৩:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫
  • / ১৪২ Time View

WhatsApp Image 2025 10 08 at 22.50.53 704df3d9

photo collage.png(15)

নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:
বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও জনগণের ভোটের প্রকৃত মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে “জুলাই সনদ বাস্তবায়ন” এবং “Proportional Representation (পি.আর.) নির্বাচনী ব্যবস্থা” চালুর দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক গুরুত্বপূর্ণ গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৮ অক্টোবর ২০২৫) সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে শহরের কাউতলি ‘স্বপ্নতরী’ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার উদ্যোগে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা আমির মাওলানা মোবারক হোসাইন। সূচনা বক্তব্যে তিনি বলেন, “জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মূল লক্ষ্য হলো প্রকৃত অর্থে জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা। দেশের প্রতিটি নাগরিকের ভোট যেন সমান মূল্য পায়, সে জন্যই পিআর পদ্ধতি প্রয়োজন। আমাদের রাজনীতিকে ব্যক্তিনির্ভরতা থেকে বের করে দলনির্ভর প্রতিনিধিত্বের দিকে নিতে হবে।”

জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি প্রফেসর জুনায়েদ আহমেদ বলেন, “আমরা চাই এমন একটি নির্বাচনী ব্যবস্থা, যেখানে দলগুলোর ভোট অনুযায়ী আসন বণ্টিত হবে। এটি ন্যায্য প্রতিনিধিত্বের নিশ্চয়তা দেবে এবং জাতীয় ঐক্য গঠনের নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।”

সভায় বিভিন্ন পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিকবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন এবং পিআর পদ্ধতির গুরুত্ব ও জাতীয় জীবনে এর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে বিস্তারিত মতামত প্রদান করেন।

প্রফেসর খলিলুর রহমান বলেন, “পি.আর. পদ্ধতি এমন একটি ব্যবস্থাপনা যা জনগণের ভোটের প্রতিফলন সংসদে শতভাগ নিশ্চিত করে। এতে কেউ বঞ্চিত থাকে না, অপচয় হয় না কোনো ভোটের।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া উইজডম কলেজের অধ্যক্ষ প্রিন্সিপাল আবদুল মোনায়েম বলেন, “বর্তমান নির্বাচন ব্যবস্থায় জনগণের প্রকৃত মতামত সংসদে প্রতিফলিত হয় না। পিআর পদ্ধতি চালু হলে ক্ষুদ্র দলগুলোরও ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে।”

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি জেবেদুর রহিম বিজন বলেন, “গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে জনগণের ভোটের মূল্যায়ন করতে হবে। জুলাই সনদ গণতন্ত্রের নৈতিক রূপরেখা দিয়েছে, আর পিআর পদ্ধতি তার কার্যকর প্রয়োগের পথ দেখায়।”

প্রফেসর শহিদুল্লাহ তাঁর বক্তব্যে বলেন, “বাংলাদেশের মতো বহুদলীয় দেশে পিআর নির্বাচন ব্যবস্থা প্রবর্তন এখন সময়ের দাবি। এটি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জবাবদিহিতা উভয়ই নিশ্চিত করবে।”

ডা. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “জুলাই সনদ শুধু একটি রাজনৈতিক নথি নয়; এটি গণতন্ত্রের নবজাগরণের দলিল। আমরা যদি এই সনদ বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ হই, তাহলে দেশে ন্যায্য ও অংশগ্রহণমূলক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা পাবে।”

ডা. হানিফ আহমেদ বলেন, “জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলনই গণতন্ত্রের প্রাণ। পিআর পদ্ধতি এ দেশে জনগণের সেই ক্ষমতাকে ফিরিয়ে আনবে, যা বারবার হরণ করা হয়েছে।”

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে যে বৈষম্য ও একচেটিয়াতা তৈরি হয়েছে, তা ভাঙার একমাত্র পথ পিআর ব্যবস্থা।”

শেষে প্রধান অতিথি হিসেবে জেলা আমির মাওলানা মোবারক হোসাইন সমাপনী বক্তব্যে বলেন, “জুলাই সনদের লক্ষ্য ও পিআর পদ্ধতির প্রয়োগ একই সূত্রে বাঁধা — উভয়ের উদ্দেশ্য জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতাকে প্রতিষ্ঠা করা। আমরা বিশ্বাস করি, জনগণের ভোটের সমান মূল্য প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই প্রকৃত গণতন্ত্র ফিরে আসবে।”

বক্তারা সর্বসম্মতভাবে ঘোষণা দেন—
জুলাই সনদের চেতনায় জনগণের ক্ষমতায়ন এবং পিআর পদ্ধতির মাধ্যমে সুষ্ঠু গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাই সময়ের দাবি।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বিল্লাল হোসেন

বিল্লাল হোসেন, একজন প্রজ্ঞাবান পেশাজীবী, যিনি গণিতের ওপর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং ব্যাংকার, অর্থনীতিবিদ, ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞ হিসেবে একটি সমৃদ্ধ ও বহুমুখী ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন। তার আর্থিক খাতে যাত্রা তাকে নেতৃত্বের ভূমিকায় নিয়ে গেছে, বিশেষ করে সৌদি আরবের আল-রাজি ব্যাংকিং Inc. এবং ব্যাংক-আল-বিলাদে বিদেশী সম্পর্ক ও করেসপন্ডেন্ট মেইন্টেনেন্স অফিসার হিসেবে। প্রথাগত অর্থনীতির গণ্ডির বাইরে, বিল্লাল একজন প্রখ্যাত লেখক ও বিশ্লেষক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন, বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালে মননশীল কলাম ও গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করে। তার দক্ষতা বিস্তৃত বিষয় জুড়ে রয়েছে, যেমন অর্থনীতির জটিলতা, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, প্রবাসী শ্রমিকদের দুঃখ-কষ্ট, রেমিটেন্স, রিজার্ভ এবং অন্যান্য সম্পর্কিত দিক। বিল্লাল তার লেখায় একটি অনন্য বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসেন, যা ব্যাংকিং ক্যারিয়ারে অর্জিত বাস্তব জ্ঞানকে একত্রিত করে একাডেমিক কঠোরতার সাথে। তার প্রবন্ধগুলো শুধুমাত্র জটিল বিষয়গুলির উপর গভীর বোঝাপড়ার প্রতিফলন নয়, বরং পাঠকদের জন্য জ্ঞানপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে, যা তত্ত্ব ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে। বিল্লাল হোসেনের অবদান তার প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করে যে, তিনি আমাদের আন্তঃসংযুক্ত বিশ্বের জটিলতাগুলি উন্মোচন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের একটি বিস্তৃত এবং আরও সূক্ষ্ম বোঝাপড়ার দিকে মূল্যবান অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পিআর পদ্ধতি ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গোলটেবিল বৈঠক

Update Time : ১১:৩৩:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫

photo collage.png(15)

নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:
বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও জনগণের ভোটের প্রকৃত মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে “জুলাই সনদ বাস্তবায়ন” এবং “Proportional Representation (পি.আর.) নির্বাচনী ব্যবস্থা” চালুর দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক গুরুত্বপূর্ণ গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৮ অক্টোবর ২০২৫) সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে শহরের কাউতলি ‘স্বপ্নতরী’ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার উদ্যোগে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা আমির মাওলানা মোবারক হোসাইন। সূচনা বক্তব্যে তিনি বলেন, “জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মূল লক্ষ্য হলো প্রকৃত অর্থে জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা। দেশের প্রতিটি নাগরিকের ভোট যেন সমান মূল্য পায়, সে জন্যই পিআর পদ্ধতি প্রয়োজন। আমাদের রাজনীতিকে ব্যক্তিনির্ভরতা থেকে বের করে দলনির্ভর প্রতিনিধিত্বের দিকে নিতে হবে।”

জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি প্রফেসর জুনায়েদ আহমেদ বলেন, “আমরা চাই এমন একটি নির্বাচনী ব্যবস্থা, যেখানে দলগুলোর ভোট অনুযায়ী আসন বণ্টিত হবে। এটি ন্যায্য প্রতিনিধিত্বের নিশ্চয়তা দেবে এবং জাতীয় ঐক্য গঠনের নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।”

সভায় বিভিন্ন পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিকবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন এবং পিআর পদ্ধতির গুরুত্ব ও জাতীয় জীবনে এর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে বিস্তারিত মতামত প্রদান করেন।

প্রফেসর খলিলুর রহমান বলেন, “পি.আর. পদ্ধতি এমন একটি ব্যবস্থাপনা যা জনগণের ভোটের প্রতিফলন সংসদে শতভাগ নিশ্চিত করে। এতে কেউ বঞ্চিত থাকে না, অপচয় হয় না কোনো ভোটের।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া উইজডম কলেজের অধ্যক্ষ প্রিন্সিপাল আবদুল মোনায়েম বলেন, “বর্তমান নির্বাচন ব্যবস্থায় জনগণের প্রকৃত মতামত সংসদে প্রতিফলিত হয় না। পিআর পদ্ধতি চালু হলে ক্ষুদ্র দলগুলোরও ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে।”

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি জেবেদুর রহিম বিজন বলেন, “গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে জনগণের ভোটের মূল্যায়ন করতে হবে। জুলাই সনদ গণতন্ত্রের নৈতিক রূপরেখা দিয়েছে, আর পিআর পদ্ধতি তার কার্যকর প্রয়োগের পথ দেখায়।”

প্রফেসর শহিদুল্লাহ তাঁর বক্তব্যে বলেন, “বাংলাদেশের মতো বহুদলীয় দেশে পিআর নির্বাচন ব্যবস্থা প্রবর্তন এখন সময়ের দাবি। এটি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জবাবদিহিতা উভয়ই নিশ্চিত করবে।”

ডা. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “জুলাই সনদ শুধু একটি রাজনৈতিক নথি নয়; এটি গণতন্ত্রের নবজাগরণের দলিল। আমরা যদি এই সনদ বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ হই, তাহলে দেশে ন্যায্য ও অংশগ্রহণমূলক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা পাবে।”

ডা. হানিফ আহমেদ বলেন, “জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলনই গণতন্ত্রের প্রাণ। পিআর পদ্ধতি এ দেশে জনগণের সেই ক্ষমতাকে ফিরিয়ে আনবে, যা বারবার হরণ করা হয়েছে।”

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে যে বৈষম্য ও একচেটিয়াতা তৈরি হয়েছে, তা ভাঙার একমাত্র পথ পিআর ব্যবস্থা।”

শেষে প্রধান অতিথি হিসেবে জেলা আমির মাওলানা মোবারক হোসাইন সমাপনী বক্তব্যে বলেন, “জুলাই সনদের লক্ষ্য ও পিআর পদ্ধতির প্রয়োগ একই সূত্রে বাঁধা — উভয়ের উদ্দেশ্য জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতাকে প্রতিষ্ঠা করা। আমরা বিশ্বাস করি, জনগণের ভোটের সমান মূল্য প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই প্রকৃত গণতন্ত্র ফিরে আসবে।”

বক্তারা সর্বসম্মতভাবে ঘোষণা দেন—
জুলাই সনদের চেতনায় জনগণের ক্ষমতায়ন এবং পিআর পদ্ধতির মাধ্যমে সুষ্ঠু গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাই সময়ের দাবি।