নির্বাচন কর্মকর্তাবিহীন নির্বাচন অফিস: কসবায় জনভোগান্তি চরমে
- Update Time : ১০:১১:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫
- / ১৫৮ Time View

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলা নির্বাচন অফিসে কয়েক মাস ধরে কোনো স্থায়ী নির্বাচন কর্মকর্তা নেই। ফলে পুরো অফিস কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা নির্বাচন অফিস থেকে একজন কর্মকর্তা সপ্তাহে এক বা দুই দিন আসেন—তাও যদি ইচ্ছা হয়। এই অবস্থায় জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধন, আঙুলের ছাপ ও আবেদনপত্র জমা দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ বা বিলম্বিত রয়েছে।
সরেজমিনে জানা যায়, প্রতিদিন শত শত মানুষ কসবা উপজেলা নির্বাচন অফিসে আসেন তাদের এনআইডি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধান, নতুন এনআইডি গ্রহণ বা হারানো কার্ডের পুনরায় আবেদন করার জন্য। কিন্তু কর্মকর্তার অনুপস্থিতির কারণে তারা ঘুরে ফিরে শুধু হতাশাই নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। অনেকেই বলেছেন, তিন থেকে চার মাস ধরে তাদের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে না। অফিসে গেলে স্থানীয় কর্মচারীরা জানিয়ে দেন—“অফিসার নেই, জেলা অফিস থেকে আসলে কাজ হবে।”
এ অবস্থায় সাধারণ মানুষ পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। এনআইডি ছাড়া ব্যাংক একাউন্ট খোলা, সিম রেজিস্ট্রেশন, সরকারি ভাতা গ্রহণ এমনকি ভর্তি ও চাকরির আবেদনেও সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে বৃদ্ধ, নারী ও দরিদ্র শ্রেণির মানুষেরা প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে এসে ফিরে যাচ্ছেন খালি হাতে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা ভোটার, অথচ ভোটের কার্যালয়ে কোনো কর্মকর্তা নেই! নির্বাচনের আগে এসব অফিস সচল না থাকলে নির্বাচনী প্রস্তুতিই বা কীভাবে সম্ভব?”
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। কিন্তু এর আগেই যদি উপজেলা পর্যায়ের নির্বাচন অফিসগুলো অচল হয়ে থাকে, তাহলে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয়রা মনে করেন, নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর থেকে এসব অফিসের ওপর কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত তদারকি না থাকায় এমন বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উপজেলা পর্যায়ের নির্বাচন অফিস হলো ভোটার তালিকা হালনাগাদ, নতুন ভোটার নিবন্ধন এবং এনআইডি ব্যবস্থাপনার মূল কেন্দ্র। এসব অফিসে শূন্যপদ থাকলে বা কর্মকর্তা অনুপস্থিত থাকলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
কসবাবাসীর দাবি, দ্রুত একজন স্থায়ী নির্বাচন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হোক এবং অফিসের সেবা পুনরায় সচল করা হোক। তারা বলেন, “আমরা কোনো রাজনৈতিক দাবি করছি না, শুধু নাগরিক অধিকার চাই—আমাদের এনআইডি ও নির্বাচনী সেবা যেন সময়মতো পাওয়া যায়।”
নির্বাচনের পূর্বপ্রস্তুতির এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উপজেলা নির্বাচন অফিসগুলো সচল রাখা এখন সময়ের দাবি। নির্বাচন কমিশন যদি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে আগত জাতীয় নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি—দুয়োটিই প্রশ্নের মুখে পড়বে।










