সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল মসজিদঃ বিপজ্জনক সিঁড়ি, মুসল্লিদের ভোগান্তি চরমে  

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৭:৩২:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫
  • / ১৯৫ Time View

MODEL MASJID 2

MODEL MASJID 1

নিজস্ব প্রতিবেদক, নতুন প্রতিদিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মডেল মসজিদটি কয়েক মাস আগে ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা কর্তৃক উদ্বোধন করা হলেও এখনো এর নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। “মডেল” নাম থাকলেও বাস্তবে মসজিদটির কাজের মান ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে মুসল্লিদের অভিযোগের শেষ নেই।

সম্প্রতি নতুন প্রতিদিনের ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখেছেন, মসজিদের বিভিন্ন স্থানে এখনো অসম্পূর্ণ কাজ চলছে। বিশেষ করে মসজিদের আঙিনা ও পাদদেশের ফুটপাতের টাইলস বসানো হচ্ছে রাতের বেলায়—যেখানে নেই কোনো পর্যাপ্ত আলো বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অন্ধকারে এমন নিম্নমানের কাজ করায় ইতিমধ্যে টাইলসের সঠিক ফিনিশিং ও সমতা রক্ষা করা সম্ভব হয়নি বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

MODEL MASJID 2

বিপজ্জনক সিঁড়ি টাইলসের অমানসম্মত ব্যবহার

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ এসেছে মসজিদের সিঁড়ি নিয়ে। দেখা গেছে, সিঁড়িতে ব্যবহার করা হয়েছে সাধারণ মসৃণ ফ্লোর টাইলস, যা অত্যন্ত পিচ্ছিল। মুসল্লিদের অভিযোগ, বৃষ্টির দিনে এই সিঁড়ি দিয়ে ওঠা-নামা করা একেবারেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। ইতিমধ্যেই কয়েকজন মুসল্লি পা পিছলে আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে।

একজন নামাজি নতুন প্রতিদিনের প্রতিবেদককে বলেন, “এভাবে ফ্লোর টাইলস সিঁড়িতে ব্যবহার করা হয় না। এটি নিরাপত্তা বিধির সম্পূর্ণ লঙ্ঘন। নামাজ পড়তে এসে ভয় নিয়ে উঠতে হয়।”

আলোর অভাবে দুর্ঘটনার আশঙ্কা

আরেকটি বড় সমস্যা হলো—সিঁড়ি ও মসজিদের সামনের অংশে কোনো স্থায়ী আলোর ব্যবস্থা নেই। রাতের বেলায় বা ফজরের নামাজের সময় মুসল্লিদের জন্য ওঠানামা করা কষ্টসাধ্য হয়ে যায়। অনেকেই বলেন, অন্ধকারে কোথায় পা পড়ছে বোঝা যায় না, এতে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

মুসল্লিদের
দাবি

মসজিদে আগত মুসল্লিরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন, যেন অবিলম্বে সিঁড়ির টাইলস পরিবর্তন করে সেফটি স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী রাবারাইজড বা অ্যান্টি-স্লিপ টাইলস ব্যবহার করা হয়। একই সঙ্গে আলোর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ও চলমান কাজের মান তদারকির দাবি জানিয়েছেন তারা।

একজন প্রবীণ মুসল্লি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা উদ্বোধন করলেন ঠিকই, কিন্তু কাজ শেষ না করেই ফিতা কাটা হয়েছে। এখন যারা নামাজ পড়তে আসেন, তারাই বিপদের মুখে।”

“মডেল” শব্দটি কেবল নামেই সীমাবদ্ধ থাকলে এর কোনো মূল্য থাকে না। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল মসজিদ দেশের উন্নয়ন প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হলেও বাস্তবায়নের গাফিলতিতে তা এখন ভোগান্তির প্রতীকে পরিণত হয়েছে। মুসল্লিদের প্রাণের দাবি—দ্রুত এ সমস্ত ত্রুটি সমাধান করে মসজিদটিকে সত্যিকারের মডেল মসজিদে রূপ দেওয়া হোক।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল মসজিদঃ বিপজ্জনক সিঁড়ি, মুসল্লিদের ভোগান্তি চরমে  

Update Time : ০৭:৩২:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫

MODEL MASJID 1

নিজস্ব প্রতিবেদক, নতুন প্রতিদিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মডেল মসজিদটি কয়েক মাস আগে ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা কর্তৃক উদ্বোধন করা হলেও এখনো এর নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। “মডেল” নাম থাকলেও বাস্তবে মসজিদটির কাজের মান ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে মুসল্লিদের অভিযোগের শেষ নেই।

সম্প্রতি নতুন প্রতিদিনের ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখেছেন, মসজিদের বিভিন্ন স্থানে এখনো অসম্পূর্ণ কাজ চলছে। বিশেষ করে মসজিদের আঙিনা ও পাদদেশের ফুটপাতের টাইলস বসানো হচ্ছে রাতের বেলায়—যেখানে নেই কোনো পর্যাপ্ত আলো বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অন্ধকারে এমন নিম্নমানের কাজ করায় ইতিমধ্যে টাইলসের সঠিক ফিনিশিং ও সমতা রক্ষা করা সম্ভব হয়নি বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

MODEL MASJID 2

বিপজ্জনক সিঁড়ি টাইলসের অমানসম্মত ব্যবহার

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ এসেছে মসজিদের সিঁড়ি নিয়ে। দেখা গেছে, সিঁড়িতে ব্যবহার করা হয়েছে সাধারণ মসৃণ ফ্লোর টাইলস, যা অত্যন্ত পিচ্ছিল। মুসল্লিদের অভিযোগ, বৃষ্টির দিনে এই সিঁড়ি দিয়ে ওঠা-নামা করা একেবারেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। ইতিমধ্যেই কয়েকজন মুসল্লি পা পিছলে আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে।

একজন নামাজি নতুন প্রতিদিনের প্রতিবেদককে বলেন, “এভাবে ফ্লোর টাইলস সিঁড়িতে ব্যবহার করা হয় না। এটি নিরাপত্তা বিধির সম্পূর্ণ লঙ্ঘন। নামাজ পড়তে এসে ভয় নিয়ে উঠতে হয়।”

আলোর অভাবে দুর্ঘটনার আশঙ্কা

আরেকটি বড় সমস্যা হলো—সিঁড়ি ও মসজিদের সামনের অংশে কোনো স্থায়ী আলোর ব্যবস্থা নেই। রাতের বেলায় বা ফজরের নামাজের সময় মুসল্লিদের জন্য ওঠানামা করা কষ্টসাধ্য হয়ে যায়। অনেকেই বলেন, অন্ধকারে কোথায় পা পড়ছে বোঝা যায় না, এতে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

মুসল্লিদের
দাবি

মসজিদে আগত মুসল্লিরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন, যেন অবিলম্বে সিঁড়ির টাইলস পরিবর্তন করে সেফটি স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী রাবারাইজড বা অ্যান্টি-স্লিপ টাইলস ব্যবহার করা হয়। একই সঙ্গে আলোর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ও চলমান কাজের মান তদারকির দাবি জানিয়েছেন তারা।

একজন প্রবীণ মুসল্লি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা উদ্বোধন করলেন ঠিকই, কিন্তু কাজ শেষ না করেই ফিতা কাটা হয়েছে। এখন যারা নামাজ পড়তে আসেন, তারাই বিপদের মুখে।”

“মডেল” শব্দটি কেবল নামেই সীমাবদ্ধ থাকলে এর কোনো মূল্য থাকে না। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল মসজিদ দেশের উন্নয়ন প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হলেও বাস্তবায়নের গাফিলতিতে তা এখন ভোগান্তির প্রতীকে পরিণত হয়েছে। মুসল্লিদের প্রাণের দাবি—দ্রুত এ সমস্ত ত্রুটি সমাধান করে মসজিদটিকে সত্যিকারের মডেল মসজিদে রূপ দেওয়া হোক।