১৬ বছর বয়সীরাও পাবেন জাতীয় পরিচয়পত্র
- Update Time : ০৩:০৯:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ২২৪ Time View

এখন থেকে বাংলাদেশে ১৬ বছর বয়স পূর্ণ হলেই পাওয়া যাবে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি)। তবে এই পরিচয়পত্র হাতে পেলেও ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হলে নাগরিকদের অপেক্ষা করতে হবে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত। নির্বাচন কমিশন (ইসি) আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশনের এনআইডি শাখার অফিসার ইনচার্জ স্কোয়াড্রন লিডার কাজী আশিকুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, “২০২০ সালের ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় থেকেই ১৬ বছর বয়সীদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। তারা অনলাইনে নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করে জাতীয় পরিচয়পত্র ডাউনলোড করতে পারবে।”
এর ফলে ১৬ ও ১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীরাও এখন তাদের পরিচয়পত্র অনলাইনে আবেদন করে সংগ্রহ করতে পারবেন। এজন্য তাদের services.nidw.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।
ধাপে ধাপে সুযোগ সম্প্রসারণ
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটি কেবল একটি সাময়িক উদ্যোগ নয় বরং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ। গত জানুয়ারিতে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, “দেশের প্রতিটি নাগরিকেরই জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার অধিকার রয়েছে। সেই লক্ষ্যেই ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীদের এনআইডি দেওয়া হচ্ছে। আমরা এমনকি ১০ বছর বয়সীদেরও এনআইডি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি, ধীরে ধীরে সব বয়সী নাগরিককেই এই সুযোগের আওতায় আনা হবে।”
এবারের ভোটার তালিকা হালনাগাদে ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীদের তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি তাদের ১০ আঙুলের ছাপ, ছবি এবং চোখের আইরিশের প্রতিচ্ছবিও নেওয়া হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে তারা ১৮ বছর পূর্ণ করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় যুক্ত হতে পারবেন।
দেশের ভোটার পরিস্থিতি
ইসি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ কোটি ৯৮ লাখ ১৯ হাজার ১১২ জন। এর মধ্যে চলতি বছরের মার্চে নতুন ভোটার হিসেবে যুক্ত হয়েছেন প্রায় ৫৫ লাখ ৭৯ হাজার ৩০ জন প্রাপ্তবয়স্ক (১৮ বছর বয়সী) নাগরিক। তারা ইতোমধ্যে অনলাইনে এনআইডি পেয়ে গেছেন। এবার থেকে ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীরাও একই সুযোগ পাচ্ছেন, যদিও ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের আরও দুই বছর অপেক্ষা করতে হবে।
কেন এই উদ্যোগ?
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের মতে, কম বয়সেই এনআইডি প্রাপ্তির সুযোগ তৈরি হলে একদিকে জাতীয় পরিচয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বাড়বে, অন্যদিকে নাগরিকরা বিভিন্ন সেবা গ্রহণে সুবিধা পাবেন। ব্যাংক হিসাব খোলা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি, পরীক্ষার ফর্ম পূরণ কিংবা সরকারি-বেসরকারি নানা সেবায় এনআইডি থাকা এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
ফলে ১৬ বছর বয়সেই এই সুযোগ তৈরি হওয়ায় কিশোর-কিশোরীদের পরিচয় ব্যবস্থাপনায় নতুন মাত্রা যোগ হলো।










