ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: রোডম্যাপ ঘোষণা, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোটগ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা
- Update Time : ০৫:৪৬:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৫
- / ১৫০ Time View

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বহু প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ বা কর্মপরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে, রমজান মাস শুরুর আগেই, জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে আগামী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে চায় ইসি।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এই রোডম্যাপ প্রকাশ করেন। সচিব জানান, কর্মপরিকল্পনার প্রতিটি ধাপ একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়ন করা হবে। ইতোমধ্যেই কিছু কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। সমগ্র রোডম্যাপ ২৪টি ভাগে বিভক্ত করে বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।
নির্বাচনী রোডম্যাপের প্রধান কার্যক্রমসমূহ
১. অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ: সেপ্টেম্বরে শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু হবে রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, নির্বাচন পর্যবেক্ষক এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপ। এই সংলাপ প্রায় দেড় মাস চলবে।
২. ভোটার তালিকা হালনাগাদ: দ্বিতীয় ধাপের সম্পূরক খসড়া ভোটার তালিকা ইতোমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে। তা চূড়ান্ত হবে ৩১ আগস্ট। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে ৩০ নভেম্বর। এর আগে ১ নভেম্বর খসড়া প্রকাশ হবে।
৩. নির্বাচনী আইন ও বিধি সংশোধন:
- সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ আইন, ভোটার তালিকা আইন, ভোটকেন্দ্র নীতিমালা, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক নীতিমালা, নির্বাচন পরিচালনা বিধি (২০২৫) এবং নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইনসহ বিভিন্ন আইন প্রণয়ন বা সংশোধন প্রক্রিয়া চলছে।
- এসব প্রক্রিয়া আইন মন্ত্রণালয়ে রয়েছে এবং ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
৪. পর্যবেক্ষক নিবন্ধন ও সাংবাদিকদের অনুমোদন:
- ২২ অক্টোবরের মধ্যে পর্যবেক্ষকদের নিবন্ধন চূড়ান্ত হবে এবং ১৫ নভেম্বর সনদ প্রদান করা হবে।
- বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের অনুমতি প্রদান কার্যক্রমও ১৫ নভেম্বরের মধ্যে শেষ করা হবে।
- নির্বাচনী তথ্য প্রচার ও টেলিযোগাযোগ কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়, আইসিটি মন্ত্রণালয়, টেলিযোগাযোগ বিভাগ, বিটিআরসি এবং মোবাইল অপারেটর কোম্পানির সঙ্গে বৈঠক করবে ইসি।
৫. নির্বাচনী প্রচার ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি:
- নির্বাচনী ম্যানুয়েল, নির্দেশিকা, পোস্টার ইত্যাদি ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মুদ্রণ শেষ করা হবে।
- ২৯ আগস্ট থেকে শুরু হয়ে ভোটের চার থেকে পাঁচ দিন আগে পর্যন্ত চলবে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি।
৬. নির্বাচনী উপকরণ সংগ্রহ ও বিতরণ:
- ব্যালট পেপারসহ সব ধরনের নির্বাচনী উপকরণ সংগ্রহ ও বিতরণ কার্যক্রম ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।
- ব্যবহারযোগ্য স্বচ্ছ ব্যালট পেপার চূড়ান্ত করা হবে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে।
- ১৫ নভেম্বর নির্বাচনের বাজেট চূড়ান্ত হবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য অর্থ বরাদ্দের বিষয়ে বৈঠক হবে ১৬ থেকে ২০ নভেম্বরের মধ্যে।
৭. জনবল ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা:
- ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্যানেল তৈরির কাজ শেষ হবে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে।
- আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রথম সভা হবে ২৫ সেপ্টেম্বর।
- নির্বাচনের জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হবে ৩১ অক্টোবর।
- আইসিটি সংক্রান্ত কাজ শেষ করতে চায় কমিশন ৩১ অক্টোবরের মধ্যে।
- সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম শেষ হবে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে।
৮. প্রবাসী ভোটারদের জন্য পোস্টাল ব্যালট:
- ২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যে প্রবাসীদের জন্য ডাকযোগে ভোটদানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
৯. ফলাফল প্রচার ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা:
- টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা, বেসরকারি ফলাফল প্রচারের নিয়মাবলি নির্ধারণ এবং ফলাফল প্রচারের প্রযুক্তিগত দিকগুলো নিশ্চিত করা হবে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি
প্রধান উপদেষ্টা ইতোমধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন যে রমজানের আগে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সে অনুযায়ী চিঠিও পাঠানো হয়েছে নির্বাচন কমিশনে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জানিয়েছেন, ভোটের তারিখের প্রায় দুই মাস আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে। ইসি ইতোমধ্যেই বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে নির্বাচনের তফসিল প্রকাশ করা হবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এবার নির্বাচন আয়োজন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, নির্বাচনের স্বচ্ছতা, পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া ইসির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কমিশন বলছে, সব ধরনের জটিলতা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি সমন্বিত ও সময়সীমাবদ্ধ রোডম্যাপ প্রস্তুত করা হয়েছে।










