সময়: বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিইসির সঙ্গে বৈঠক:পিআর পদ্ধতিতে ভোট চায় জামায়াত, নির্বাচনী রোডম্যাপ চূড়ান্তের পথে ইসি

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৬:০১:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ অগাস্ট ২০২৫
  • / ১৫৮ Time View

jamayat logo 1755816502

jamayat logo 1755816502

সিইসির সঙ্গে বৈঠক

পিআর পদ্ধতিতে ভোট চায় জামায়াত, নির্বাচনী রোডম্যাপ চূড়ান্তের পথে ইসি

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সংসদ নির্বাচনে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (Proportional Representation – PR) পদ্ধতি চালুর দাবি জানিয়েছে। দলটির নেতাদের মতে, এ ব্যবস্থা কার্যকর হলে নির্বাচনে সন্ত্রাস, অনিয়ম ও জালিয়াতি রোধ সম্ভব হবে এবং প্রতিটি ভোটের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত হবে।

বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এ দাবি উত্থাপন করেন।

জামায়াতের দাবি: পিআর পদ্ধতি ছাড়া সুষ্ঠু ভোট সম্ভব নয়

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “নির্বাচনে সন্ত্রাস ও অনিয়ম বন্ধ করতে হলে পিআর পদ্ধতিতে ভোট করতে হবে। জনগণ চাইলে অবশ্যই এ পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে। আমরা এই দাবিতে মাঠে থাকব এবং সমানতালে নির্বাচনের প্রস্তুতিও নেব।”
তিনি আরও দাবি করেন, পিআর পদ্ধতি দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণকর হবে। এটি শুধু সুষ্ঠু নির্বাচন নয়, বরং গণতান্ত্রিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে।

যখন সাংবাদিকরা জানতে চান, পিআর পদ্ধতি ছাড়া জামায়াত নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা—তখন তিনি সরাসরি উত্তর না দিয়ে কেবল এই ব্যবস্থার প্রশংসাই করেন। তার ভাষায়, “এটাই সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ পদ্ধতি, যেখানে ভোটারদের সঠিক মূল্যায়ন হয়।”

লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে উদ্বেগ

বৈঠকে জামায়াতের প্রতিনিধি দল সিইসির কাছে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না থাকার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “নির্বাচনের জন্য এখনও সবার সমান সুযোগ তৈরি হয়নি। তাই আমরা কমিশনকে জোর দিয়ে বলেছি—অবিলম্বে সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি আরও জানান, ইসি আশ্বাস দিয়েছে যে এ বিষয়ে কাজ চলছে।

নির্বাচনকালীন সময় নিয়ে জামায়াতের অবস্থান

নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে হলে জামায়াতের কোনো আপত্তি থাকবে কিনা—এমন প্রশ্নে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “ফেব্রুয়ারিতে হলে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। আমরা ফেব্রুয়ারি বা এপ্রিল সময়সূচি দেওয়ার কথা বলেছিলাম। তবে ডিসেম্বরেও হলে আমাদের আপত্তি নেই।”
এছাড়া সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণে সব দলের বক্তব্য আমলে নেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

আর্থিক হিসাব-নিকাশে সীমাবদ্ধতা

দলের আয়-ব্যয়ের হিসাব ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট প্রকাশ না করার বিষয়ে তিনি ব্যাখ্যা দেন। বলেন, “২০০৮ সালে আমরা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ভিত্তিতে রিটার্ন দাখিল করেছিলাম। কিন্তু এরপর দেশে যে পরিস্থিতি হয়েছে, সেটা সবার জানা। গুম, খুন, ক্রসফায়ারের ভয়াবহ পরিবেশে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে যাওয়া সম্ভব ছিল না। তাই এবার রিটার্ন দাখিলে ব্যাংক হিসাব উল্লেখ করা যায়নি। ভবিষ্যতে পরিবেশ অনুকূল হলে তা অবশ্যই করা হবে।”

জামায়াতের প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জসিম উদ্দিন সরকার, নায়েবে আমির ঢাকা মহানগর উত্তর আব্দুর রহমান মূসাসহ পাঁচজন নেতা। বৈঠকটি চলে প্রায় দেড় ঘণ্টা।

নির্বাচনী রোডম্যাপ চূড়ান্তের পথে নির্বাচন কমিশন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) তাদের নির্বাচনী রোডম্যাপ চূড়ান্ত করার আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছে।

গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সিইসি ও চার নির্বাচন কমিশনারদের নেতৃত্বে দিনভর বৈঠকে রোডম্যাপের খসড়া নিয়ে আলোচনা হয়। দুপুর আড়াইটা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এই বৈঠক চলে। এতে ইসি সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের বলেন, “রোডম্যাপের সব বিষয় বিশদভাবে আলোচনা করতে হচ্ছে। আজ শেষ করা সম্ভব নাও হতে পারে। আগামী রোববার বা সোমবার আমরা তা প্রকাশ করতে পারব।”

রোডম্যাপে কী থাকছে?

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। রোডম্যাপে প্রধানত থাকবে—

  • সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ
  • রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন
  • দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন
  • গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন
  • আচরণবিধি চূড়ান্ত ও জারি
  • হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রকাশ

ইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। আর নির্বাচনের মূল আয়োজন ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে করার প্রস্তুতি চলছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশনা

এর আগে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে ইসিকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছিল, রমজানের আগে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। এতে করে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষিত সময়সূচির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি সমন্বিত হলো।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সিইসির সঙ্গে বৈঠক:পিআর পদ্ধতিতে ভোট চায় জামায়াত, নির্বাচনী রোডম্যাপ চূড়ান্তের পথে ইসি

Update Time : ০৬:০১:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ অগাস্ট ২০২৫

jamayat logo 1755816502

সিইসির সঙ্গে বৈঠক

পিআর পদ্ধতিতে ভোট চায় জামায়াত, নির্বাচনী রোডম্যাপ চূড়ান্তের পথে ইসি

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সংসদ নির্বাচনে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (Proportional Representation – PR) পদ্ধতি চালুর দাবি জানিয়েছে। দলটির নেতাদের মতে, এ ব্যবস্থা কার্যকর হলে নির্বাচনে সন্ত্রাস, অনিয়ম ও জালিয়াতি রোধ সম্ভব হবে এবং প্রতিটি ভোটের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত হবে।

বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এ দাবি উত্থাপন করেন।

জামায়াতের দাবি: পিআর পদ্ধতি ছাড়া সুষ্ঠু ভোট সম্ভব নয়

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “নির্বাচনে সন্ত্রাস ও অনিয়ম বন্ধ করতে হলে পিআর পদ্ধতিতে ভোট করতে হবে। জনগণ চাইলে অবশ্যই এ পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে। আমরা এই দাবিতে মাঠে থাকব এবং সমানতালে নির্বাচনের প্রস্তুতিও নেব।”
তিনি আরও দাবি করেন, পিআর পদ্ধতি দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণকর হবে। এটি শুধু সুষ্ঠু নির্বাচন নয়, বরং গণতান্ত্রিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে।

যখন সাংবাদিকরা জানতে চান, পিআর পদ্ধতি ছাড়া জামায়াত নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা—তখন তিনি সরাসরি উত্তর না দিয়ে কেবল এই ব্যবস্থার প্রশংসাই করেন। তার ভাষায়, “এটাই সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ পদ্ধতি, যেখানে ভোটারদের সঠিক মূল্যায়ন হয়।”

লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে উদ্বেগ

বৈঠকে জামায়াতের প্রতিনিধি দল সিইসির কাছে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না থাকার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “নির্বাচনের জন্য এখনও সবার সমান সুযোগ তৈরি হয়নি। তাই আমরা কমিশনকে জোর দিয়ে বলেছি—অবিলম্বে সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি আরও জানান, ইসি আশ্বাস দিয়েছে যে এ বিষয়ে কাজ চলছে।

নির্বাচনকালীন সময় নিয়ে জামায়াতের অবস্থান

নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে হলে জামায়াতের কোনো আপত্তি থাকবে কিনা—এমন প্রশ্নে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “ফেব্রুয়ারিতে হলে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। আমরা ফেব্রুয়ারি বা এপ্রিল সময়সূচি দেওয়ার কথা বলেছিলাম। তবে ডিসেম্বরেও হলে আমাদের আপত্তি নেই।”
এছাড়া সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণে সব দলের বক্তব্য আমলে নেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

আর্থিক হিসাব-নিকাশে সীমাবদ্ধতা

দলের আয়-ব্যয়ের হিসাব ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট প্রকাশ না করার বিষয়ে তিনি ব্যাখ্যা দেন। বলেন, “২০০৮ সালে আমরা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ভিত্তিতে রিটার্ন দাখিল করেছিলাম। কিন্তু এরপর দেশে যে পরিস্থিতি হয়েছে, সেটা সবার জানা। গুম, খুন, ক্রসফায়ারের ভয়াবহ পরিবেশে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে যাওয়া সম্ভব ছিল না। তাই এবার রিটার্ন দাখিলে ব্যাংক হিসাব উল্লেখ করা যায়নি। ভবিষ্যতে পরিবেশ অনুকূল হলে তা অবশ্যই করা হবে।”

জামায়াতের প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জসিম উদ্দিন সরকার, নায়েবে আমির ঢাকা মহানগর উত্তর আব্দুর রহমান মূসাসহ পাঁচজন নেতা। বৈঠকটি চলে প্রায় দেড় ঘণ্টা।

নির্বাচনী রোডম্যাপ চূড়ান্তের পথে নির্বাচন কমিশন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) তাদের নির্বাচনী রোডম্যাপ চূড়ান্ত করার আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছে।

গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সিইসি ও চার নির্বাচন কমিশনারদের নেতৃত্বে দিনভর বৈঠকে রোডম্যাপের খসড়া নিয়ে আলোচনা হয়। দুপুর আড়াইটা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এই বৈঠক চলে। এতে ইসি সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের বলেন, “রোডম্যাপের সব বিষয় বিশদভাবে আলোচনা করতে হচ্ছে। আজ শেষ করা সম্ভব নাও হতে পারে। আগামী রোববার বা সোমবার আমরা তা প্রকাশ করতে পারব।”

রোডম্যাপে কী থাকছে?

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। রোডম্যাপে প্রধানত থাকবে—

  • সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ
  • রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন
  • দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন
  • গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন
  • আচরণবিধি চূড়ান্ত ও জারি
  • হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রকাশ

ইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। আর নির্বাচনের মূল আয়োজন ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে করার প্রস্তুতি চলছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশনা

এর আগে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে ইসিকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছিল, রমজানের আগে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। এতে করে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষিত সময়সূচির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি সমন্বিত হলো।