ডাকসু নির্বাচন প্রসঙ্গে শিবির নিয়ে অসত্য তথ্য ছড়ালো বিবিসি বাংলা: ফ্যাক্টচেক
- Update Time : ০৫:৩৯:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ অগাস্ট ২০২৫
- / ১৮৯ Time View

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনকে ঘিরে এক নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে বিবিসি বাংলার একটি প্রতিবেদনের কারণে। ১৮ আগস্ট বিবিসি বাংলা তাদের ওয়েবসাইট ও ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে “ডাকসু নির্বাচনে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে শিবিরের প্রার্থী ঘোষণা” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। কিন্তু এ প্রতিবেদনের তথ্যকে “অসত্য” আখ্যা দিয়েছে ফ্রান্সভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ডিসেন্ট ম্যাগাজিন। ১৯ আগস্ট দ্য ডিসেন্ট ফেসবুকে “ডাকসু নির্বাচন: অসত্য তথ্য ছড়ালো বিবিসি বাংলা” শিরোনামে একটি পোস্ট প্রকাশ করে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছে।
এই পোস্টটি শেয়ার করেন এজেন্সি ফ্রান্স-প্রেস (এএফপি)-এর সাবেক বাংলাদেশি ফ্যাক্টচেকার ও দ্য ডিসেন্ট-এর সম্পাদক কদরুদ্দিন শিশির। তিনি উল্লেখ করেন, বিবিসি বাংলা যে দাবি করেছে, অর্থাৎ স্বাধীন বাংলাদেশে এটাই নাকি প্রথমবার ইসলামী ছাত্রশিবির প্রকাশ্যে প্রার্থী ঘোষণা করেছে, সেটি ঐতিহাসিকভাবে ভুল।
দ্য ডিসেন্ট জানায়, ১৮ আগস্ট ছিল ডাকসু নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। এদিন ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেয়। শিবির পূর্ণাঙ্গ ২৮ সদস্যের একটি প্যানেল ঘোষণা করে। কিন্তু বিবিসি বাংলা তাদের ফেসবুক ফটোকার্ডে এবং ওয়েবসাইটের ‘লাইভ’ পাতায় দাবি করে যে, এই প্রথমবারের মতো শিবির প্রকাশ্যে ডাকসুর নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।
অন্যদিকে, দ্য ডিসেন্ট-এর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এটি মোটেও প্রথম ঘটনা নয়। বরং অতীতে একাধিকবার প্রকাশ্যে নিজেদের নাম ও ব্যানারে ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির, যা বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকেও সংবাদ আকারে প্রকাশিত হয়েছে।
উদাহরণ হিসেবে দ্য ডিসেন্ট দৈনিক ইত্তেফাকের তিনটি আলাদা সময়ের রিপোর্ট উল্লেখ করেছে—
১. ১৯৭৯ সালের ২৪ জুলাই ডাকসু নির্বাচন: ইত্তেফাকের প্রথম পাতার চতুর্থ কলামে শিরোনাম ছিল “আজ ডাকসু নির্বাচন।” খবরের ভেতরে উল্লেখ ছিল, ছাত্রশিবির থেকে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোহাম্মদ আবু তাহের এবং সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আব্দুল কাদির বাচ্চু।
৩. ১৯৯০ সালের ২৭ মে ডাকসু নির্বাচন: ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে লেখা হয়, ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে ভিপি পদে মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, জি.এস পদে মুহাম্মদ মুজিবুর রহমান এবং এ.জি.এস পদে শফিকুল আবন হেলাল মনোনয়নপত্র জমা দেন।
এছাড়া দ্য ডিসেন্ট আরও জানায়, ১৯৮০ সালের নির্বাচনে শিবির যে প্রচারণাপত্র তৈরি করেছিল, সেখানে “তাহের-কাদের পরিষদ”কে সরাসরি ‘বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির’-এর প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এটি প্রমাণ করে, স্বাধীন বাংলাদেশে এর আগে একাধিকবার প্রকাশ্যে ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিয়েছে শিবির।
সুতরাং, বিবিসি বাংলার “প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে” দাবি বাস্তবে ভিত্তিহীন এবং ঐতিহাসিক সত্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। দ্য ডিসেন্ট-এর অনুসন্ধান এবং সংরক্ষিত পত্রিকার প্রতিবেদনগুলো প্রমাণ করে, শিবির আগে থেকেই প্রকাশ্যে ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিয়ে আসছিল।
এর ফলে সমালোচকরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিসম্পন্ন একটি সংবাদমাধ্যম হিসেবে বিবিসি বাংলার উচিত ছিল তথ্য যাচাই করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা। অন্যথায় এরকম ভুল দাবি কেবল বিভ্রান্তি তৈরি করে না, বরং সংবাদমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতাও প্রশ্নবিদ্ধ করে।
সূত্র: The Descent Facebook Post










