ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, প্রবাসীদের ভোটাধিকার কার্যকর করতে প্রস্তুতি
- Update Time : ০৯:৫৭:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ অগাস্ট ২০২৫
- / ১৫৮ Time View

আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে
সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনার জানান, নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের জন্য আচরণবিধিমালার চূড়ান্ত রূপ দিয়েছে। সেপ্টেম্বর থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ভোটার শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা হবে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রবাসীদের ভোটাধিকারে গুরুত্বারোপ করে সানাউল্লাহ বলেন, “প্রবাসীদের ভোট প্রদান একটি চ্যালেঞ্জিং প্রক্রিয়া হলেও আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিচ্ছি।”
তিনি জানান, কোনো প্রার্থী যদি মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন বা অযোগ্য ঘোষিত হন, তাহলে সংশ্লিষ্ট আসনে পোস্টাল ব্যালট বাতিল করা হবে। এতে নির্বাচন কমিশনের খরচও সাশ্রয় হবে।
প্রবাসী ভোটারদের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা
প্রবাসীদের ভোটাধিকার কার্যকর করতে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হচ্ছে। এতে প্রতিটি এক লাখ ভোটারের জন্য সম্ভাব্য খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ছয় থেকে সাত কোটি টাকা। তবে ব্যালট পেপারে প্রার্থীর নাম না থাকলেও প্রতীক থাকবে, যাতে করে ভোটাররা সহজে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে চিহ্নিত করতে পারেন। সময় বাঁচাতে এবং প্রক্রিয়া দ্রুত করতে এই পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করবে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ।
প্রবাসী ভোটারদের রেজিস্ট্রেশনের জন্য তিন সপ্তাহ সময় বরাদ্দ করা হবে। এছাড়া দেশীয় ভোটারদের মধ্য থেকে আইনি হেফাজতে থাকা ব্যক্তি, সরকারি কর্মচারী এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
ভোটার তালিকা ও অন্তর্ভুক্তির সময়সীমা
ভোটার তালিকা আইন অনুসারে, আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত যারা ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হবেন, তারা নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। অর্থাৎ, এই তারিখ পর্যন্ত নতুন ভোটার নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে, যা বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের জন্য একটি বড় সুযোগ।
অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগ ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি
জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি আরও জোরদার করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। বুধবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আগামী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে, রমজান শুরুর আগেই জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। এই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এখন থেকেই গ্রহণ করতে নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব বরাবর পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশনের পক্ষ থেকে পরিকল্পনা, কর্মসূচি এবং লজিস্টিকসহ প্রয়োজনীয় সব প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম গ্রহণ জরুরি।
জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টার বার্তা
এর আগে, মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমি নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, যেন তারা আগামী রমজানের আগে—২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের কার্যক্রম গ্রহণ করেন।” তার এই আহ্বান নির্বাচন আয়োজনের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার অঙ্গীকার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষণার মধ্য দিয়ে জাতীয় নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি আরও দৃশ্যমান হলো। প্রবাসীদের ভোটাধিকার কার্যকর করা, আচরণবিধিমালা চূড়ান্তকরণ এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচনের আয়োজন—সবকিছুই একটি স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের সক্রিয়তা তুলে ধরছে। এখন নজর থাকবে ডিসেম্বর মাসের দিকে, যখন ঘোষণা হবে বহু প্রতীক্ষিত তফসিল।










