সময়: বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই শহীদদের রক্তঋণ পরিশোধে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে: অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৯:২১:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫
  • / ১৭৬ Time View

BeFunky collage 75 2507151455

BeFunky collage 75 2507151455

১৫ জুলাই দেওয়া এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার দেশের জনগণ ও দলের সকল স্তরের সংগঠনকে মহান ‘জুলাই শহীদ দিবস’ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ১৬ জুলাই জাতির ইতিহাসে এক বেদনাবিধুর অথচ গৌরবোজ্জ্বল দিন—এই দিনে আমরা সেই সকল শহীদদের স্মরণ করি, যাঁরা ন্যায়ভিত্তিক সমাজ, মানবাধিকার এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন।

বিবৃতিতে অধ্যাপক পরওয়ার বলেন, “১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ আমাদের জাতীয় ইতিহাসে এক অসামান্য অধ্যায়। এই দিনে যারা শহীদ হয়েছেন, তারা ছিলেন অন্যায়, জুলুম ও রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক। আমি সকল শহীদের রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং আহত ও নিহতদের পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সমবেদনা প্রকাশ করছি।”

তিনি বিশেষভাবে স্মরণ করেন ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই শহীদ হওয়া বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের মেধাবী ছাত্র আবু সাঈদকে। কোটাবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে তিনি পুলিশের গুলিতে নির্মমভাবে শহীদ হন। শেখ হাসিনার নির্দেশে পুলিশ বাহিনী নির্বিচারে গুলি চালায়, যার ফলে আবু সাঈদের শাহাদাত গোটা দেশকে নাড়িয়ে দেয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্র আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়ে এক পর্যায়ে গণআন্দোলনে রূপ নেয়।

অধ্যাপক পরওয়ার আরও বলেন, “এ আন্দোলন ছিল একটি যুগান্তকারী অধ্যায়—যেখানে ছাত্র-শিক্ষক, যুবক-যুবতী, পেশাজীবী, নাগরিক সমাজ সকলেই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাস্তায় নামে। এই অভ্যুত্থান ছিল একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে জাতির একক চেতনার বহিঃপ্রকাশ। সেই গণআন্দোলনের ফলেই ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দীর্ঘ দমনমূলক শাসনের অবসান ঘটে। দেশের জনগণ পায় স্বস্তি, পায় মুক্তি। জনগণ আজ খুনি হাসিনা ও তার বিদেশি প্রভুদের শাসনমুক্ত। আজ আমরা বলতে পারি, দেশের রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায় সূচিত হয়েছে—যেখানে জনগণ স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারে, রাজনৈতিক দলগুলো বাধাহীনভাবে তাদের কার্যক্রম চালাতে পারছে।”

তিনি বলেন, “জুলাই শহীদরা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে আমাদের মুক্তির পথ রচনা করেছেন। তাদের রক্তের ঋণ আমাদের সকলের উপর বর্তায়। এই ঋণ আমরা পরিশোধ করতে পারি একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলেই। শহীদদের আত্মত্যাগ যেন কখনো বৃথা না যায়, সে জন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”

বিবৃতির শেষাংশে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “আগামীকাল ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে আমি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রতিটি শাখা ও দেশের সর্বস্তরের মানুষকে এই দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের আহ্বান জানাচ্ছি। আসুন, আমরা সবাই এই দিনে শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করি এবং তাদের রক্তঋণ শোধে দৃঢ় অঙ্গীকার করি।”

এই বিবৃতির মধ্য দিয়ে অধ্যাপক পরওয়ার শুধু শহীদদের স্মরণই করেননি, বরং একটি নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশার দিকনির্দেশনাও দিয়েছেন—যেখানে অন্যায়-অবিচারের পরিবর্তে ইনসাফ, গণতন্ত্র, মানবিকতা ও অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জুলাই শহীদদের রক্তঋণ পরিশোধে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে: অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার

Update Time : ০৯:২১:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫

BeFunky collage 75 2507151455

১৫ জুলাই দেওয়া এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার দেশের জনগণ ও দলের সকল স্তরের সংগঠনকে মহান ‘জুলাই শহীদ দিবস’ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ১৬ জুলাই জাতির ইতিহাসে এক বেদনাবিধুর অথচ গৌরবোজ্জ্বল দিন—এই দিনে আমরা সেই সকল শহীদদের স্মরণ করি, যাঁরা ন্যায়ভিত্তিক সমাজ, মানবাধিকার এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন।

বিবৃতিতে অধ্যাপক পরওয়ার বলেন, “১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ আমাদের জাতীয় ইতিহাসে এক অসামান্য অধ্যায়। এই দিনে যারা শহীদ হয়েছেন, তারা ছিলেন অন্যায়, জুলুম ও রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক। আমি সকল শহীদের রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং আহত ও নিহতদের পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সমবেদনা প্রকাশ করছি।”

তিনি বিশেষভাবে স্মরণ করেন ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই শহীদ হওয়া বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের মেধাবী ছাত্র আবু সাঈদকে। কোটাবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে তিনি পুলিশের গুলিতে নির্মমভাবে শহীদ হন। শেখ হাসিনার নির্দেশে পুলিশ বাহিনী নির্বিচারে গুলি চালায়, যার ফলে আবু সাঈদের শাহাদাত গোটা দেশকে নাড়িয়ে দেয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্র আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়ে এক পর্যায়ে গণআন্দোলনে রূপ নেয়।

অধ্যাপক পরওয়ার আরও বলেন, “এ আন্দোলন ছিল একটি যুগান্তকারী অধ্যায়—যেখানে ছাত্র-শিক্ষক, যুবক-যুবতী, পেশাজীবী, নাগরিক সমাজ সকলেই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাস্তায় নামে। এই অভ্যুত্থান ছিল একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে জাতির একক চেতনার বহিঃপ্রকাশ। সেই গণআন্দোলনের ফলেই ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দীর্ঘ দমনমূলক শাসনের অবসান ঘটে। দেশের জনগণ পায় স্বস্তি, পায় মুক্তি। জনগণ আজ খুনি হাসিনা ও তার বিদেশি প্রভুদের শাসনমুক্ত। আজ আমরা বলতে পারি, দেশের রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায় সূচিত হয়েছে—যেখানে জনগণ স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারে, রাজনৈতিক দলগুলো বাধাহীনভাবে তাদের কার্যক্রম চালাতে পারছে।”

তিনি বলেন, “জুলাই শহীদরা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে আমাদের মুক্তির পথ রচনা করেছেন। তাদের রক্তের ঋণ আমাদের সকলের উপর বর্তায়। এই ঋণ আমরা পরিশোধ করতে পারি একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলেই। শহীদদের আত্মত্যাগ যেন কখনো বৃথা না যায়, সে জন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”

বিবৃতির শেষাংশে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “আগামীকাল ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে আমি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রতিটি শাখা ও দেশের সর্বস্তরের মানুষকে এই দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের আহ্বান জানাচ্ছি। আসুন, আমরা সবাই এই দিনে শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করি এবং তাদের রক্তঋণ শোধে দৃঢ় অঙ্গীকার করি।”

এই বিবৃতির মধ্য দিয়ে অধ্যাপক পরওয়ার শুধু শহীদদের স্মরণই করেননি, বরং একটি নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশার দিকনির্দেশনাও দিয়েছেন—যেখানে অন্যায়-অবিচারের পরিবর্তে ইনসাফ, গণতন্ত্র, মানবিকতা ও অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।