সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করবে সংস্কারের অগ্রগতি: এএফপিকে ড. ইউনূস

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৪:৫৫:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৪
  • / ১৮৯ Time View

Dr. Yunus Image

বাংলাদেশের নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে চলমান সংস্কারের অগ্রগতির ওপর। বার্তা সংস্থা এএফপির সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন যে, নির্বাচনের আগে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। তিনি বলেন, “যত দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম শেষ হবে, তত দ্রুতই নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে।”

প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বর্তমানে আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন কপ-২৯ এ অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনের ফাঁকে তিনি এএফপির সঙ্গে কথা বলেন। তিনি আরও জানান, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি বাংলাদেশের জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবেন। তার বক্তব্যে তিনি বলেন, “এই প্রতিশ্রুতি আমি রাখবো। আমরা যত দ্রুত নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হতে পারবো, তত দ্রুতই দেশকে নির্বাচনের দিকে নিয়ে যাবো, যেন নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসতে পারে এবং জনগণের ইচ্ছায় দেশ পরিচালনা করতে পারে।”

ড. ইউনূস আরও বলেন, দেশের সংবিধান, সরকার কাঠামো, সংসদ এবং নির্বাচনী আইন সংশোধনে সবাইকে দ্রুত একমত হতে হবে। এতে দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ সুগম হবে। তার মতে, “আমরা এক অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তাই আমাদের মেয়াদ যত কম হতে পারে, ততই ভাল।” উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার ক্ষমতা হারানোর পর ড. ইউনূসকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত করা হয়।

শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার আগে পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে শত শত মানুষ প্রাণ হারান। সেই সময়ের সহিংস ঘটনার পর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। ড. ইউনূস বলেন, “আমরা ক্ষমতায় আসার পর মাত্র তিন মাস হয়েছে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি এবং আশা করি খুব দ্রুত দেশের পরিবেশ স্বাভাবিক হবে।”

নির্বাচন আয়োজন ও ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়ে ড. ইউনূসের এই বক্তব্য দেশে-বিদেশে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা আনতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করবে সংস্কারের অগ্রগতি: এএফপিকে ড. ইউনূস

Update Time : ০৪:৫৫:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৪

বাংলাদেশের নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে চলমান সংস্কারের অগ্রগতির ওপর। বার্তা সংস্থা এএফপির সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন যে, নির্বাচনের আগে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। তিনি বলেন, “যত দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম শেষ হবে, তত দ্রুতই নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে।”

প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বর্তমানে আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন কপ-২৯ এ অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনের ফাঁকে তিনি এএফপির সঙ্গে কথা বলেন। তিনি আরও জানান, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি বাংলাদেশের জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবেন। তার বক্তব্যে তিনি বলেন, “এই প্রতিশ্রুতি আমি রাখবো। আমরা যত দ্রুত নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হতে পারবো, তত দ্রুতই দেশকে নির্বাচনের দিকে নিয়ে যাবো, যেন নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসতে পারে এবং জনগণের ইচ্ছায় দেশ পরিচালনা করতে পারে।”

ড. ইউনূস আরও বলেন, দেশের সংবিধান, সরকার কাঠামো, সংসদ এবং নির্বাচনী আইন সংশোধনে সবাইকে দ্রুত একমত হতে হবে। এতে দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ সুগম হবে। তার মতে, “আমরা এক অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তাই আমাদের মেয়াদ যত কম হতে পারে, ততই ভাল।” উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার ক্ষমতা হারানোর পর ড. ইউনূসকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত করা হয়।

শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার আগে পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে শত শত মানুষ প্রাণ হারান। সেই সময়ের সহিংস ঘটনার পর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। ড. ইউনূস বলেন, “আমরা ক্ষমতায় আসার পর মাত্র তিন মাস হয়েছে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি এবং আশা করি খুব দ্রুত দেশের পরিবেশ স্বাভাবিক হবে।”

নির্বাচন আয়োজন ও ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়ে ড. ইউনূসের এই বক্তব্য দেশে-বিদেশে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা আনতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।