সময়: মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টাল ও অপপ্রচার বন্ধে হাইকোর্টে রিট

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৫:৫২:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
  • / ৬৩ Time View

Ibrahim 2.0 cover (24)

রিট আবেদনকারী আইনজীবীরা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টাল এবং বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য প্রচার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থে রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ও ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এস. এম. জুলফিকুর আলী (জুনু) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট আবেদন করেন।

রিটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), বাংলাদেশ পুলিশ, র‌্যাব, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), সিআইডি এবং সাইবার পুলিশ সেন্টারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু অনলাইন পোর্টাল, ফেসবুক পেজ, ইউটিউব চ্যানেল এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এসব তথ্য জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।

রিটে দাবি করা হয়েছে, এ ধরনের অপপ্রচার, গুজব ও মিথ্যা তথ্য প্রচারের বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান ও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। ফলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

আবেদনকারী আদালতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর নিবন্ধন ও মালিকানা যাচাই, আইনবিরোধী কনটেন্ট চিহ্নিতকরণ, অপপ্রচারমূলক কার্যক্রমের তদন্ত এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম বন্ধ বা ব্লক করার নির্দেশনা দেওয়া হোক। পাশাপাশি মিথ্যা তথ্য প্রচার ও সাইবার হয়রানির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও আবেদন জানানো হয়েছে।

রিটকারী আইনজীবী এস. এম. জুলফিকুর আলী বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতান্ত্রিক সমাজের একটি মৌলিক অধিকার। তবে সেই স্বাধীনতার আড়ালে মিথ্যা তথ্য, গুজব, সাইবার হয়রানি, মানহানি বা রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচার চালানোর সুযোগ থাকতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন রক্ষার স্বার্থে দায়িত্বশীল ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে প্রকৃত সাংবাদিকতা ও স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার সংরক্ষণ করেও অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব।

রিট আবেদনের সঙ্গে বিভিন্ন অনলাইন কনটেন্ট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত পোস্ট এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পূর্বে পাঠানো প্রতিনিধিত্বপত্র সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে হাইকোর্টে শিগগিরই শুনানি অনুষ্ঠিত হতে পারে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টাল ও অপপ্রচার বন্ধে হাইকোর্টে রিট

Update Time : ০৫:৫২:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

Ibrahim 2.0 cover (24)

রিট আবেদনকারী আইনজীবীরা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টাল এবং বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য প্রচার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থে রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ও ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এস. এম. জুলফিকুর আলী (জুনু) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট আবেদন করেন।

রিটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), বাংলাদেশ পুলিশ, র‌্যাব, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), সিআইডি এবং সাইবার পুলিশ সেন্টারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু অনলাইন পোর্টাল, ফেসবুক পেজ, ইউটিউব চ্যানেল এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এসব তথ্য জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।

রিটে দাবি করা হয়েছে, এ ধরনের অপপ্রচার, গুজব ও মিথ্যা তথ্য প্রচারের বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান ও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। ফলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

আবেদনকারী আদালতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর নিবন্ধন ও মালিকানা যাচাই, আইনবিরোধী কনটেন্ট চিহ্নিতকরণ, অপপ্রচারমূলক কার্যক্রমের তদন্ত এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম বন্ধ বা ব্লক করার নির্দেশনা দেওয়া হোক। পাশাপাশি মিথ্যা তথ্য প্রচার ও সাইবার হয়রানির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও আবেদন জানানো হয়েছে।

রিটকারী আইনজীবী এস. এম. জুলফিকুর আলী বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতান্ত্রিক সমাজের একটি মৌলিক অধিকার। তবে সেই স্বাধীনতার আড়ালে মিথ্যা তথ্য, গুজব, সাইবার হয়রানি, মানহানি বা রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচার চালানোর সুযোগ থাকতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন রক্ষার স্বার্থে দায়িত্বশীল ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে প্রকৃত সাংবাদিকতা ও স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার সংরক্ষণ করেও অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব।

রিট আবেদনের সঙ্গে বিভিন্ন অনলাইন কনটেন্ট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত পোস্ট এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পূর্বে পাঠানো প্রতিনিধিত্বপত্র সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে হাইকোর্টে শিগগিরই শুনানি অনুষ্ঠিত হতে পারে।