সময়: রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানে সামরিক অভিযান ঘিরে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন রাজনৈতিক সংকট

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১২:৫১:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১১০ Time View

ইরানে চলমান সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন রাজনৈতিক ও আইনি সংকট তৈরি হয়েছে। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই এই অভিযান অব্যাহত থাকলে তার বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা। বিষয়টি ইতোমধ্যেই ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।

প্রভাবশালী সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট’ অনুযায়ী কোনো সামরিক অভিযান শুরুর পর ৬০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। এই সময়সীমা আগামী ১ মে শেষ হতে যাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

আইন অনুযায়ী, সামরিক অভিযান শুরুর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করতে হয়। এরপর সর্বোচ্চ ৬০ দিন পর্যন্ত তিনি একক সিদ্ধান্তে সেনা মোতায়েন রাখতে পারেন। প্রয়োজনে আরও ৩০ দিন সময় বাড়ানো সম্ভব হলেও তার জন্য কংগ্রেসকে লিখিতভাবে যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে হয়।

ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও যদি অভিযান চলতে থাকে, তবে তা হবে অসাংবিধানিক ও বেআইনি। এ কারণেই তারা আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের মতে, জাতীয় নিরাপত্তার স্পষ্ট ও যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া এ ধরনের সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অস্থিতিশীলতা বাড়াচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে একটি দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

অন্যদিকে হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষার জন্য এই অভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে কংগ্রেসে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে তীব্র বিভাজনের কারণে নতুন অনুমোদন পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই আইনি লড়াই যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাহী ক্ষমতা ও কংগ্রেসের ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করবে। বিশেষ করে ১ মে সময়সীমা পার হওয়ার পর বিষয়টি আদালতে গড়াতে পারে, যা দেশটির সাংবিধানিক কাঠামোর ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে আরেক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধবিরতি বজায় রাখলেও ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ অব্যাহত রেখেছে। পাশাপাশি আরব সাগরে ইরানি জাহাজ আটকের ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতীতে বিভিন্ন প্রেসিডেন্ট আইনি ব্যাখ্যার সুযোগ নিয়ে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই সামরিক অভিযান চালিয়েছেন। তবে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এমন পদক্ষেপ আরও বড় সংকট তৈরি করতে পারে।

ডেমোক্র্যাটদের দাবি, এই যুদ্ধ প্রতি সপ্তাহে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে, অথচ কার্যকর কংগ্রেসীয় নজরদারি নেই। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের একাংশও দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

সব মিলিয়ে, ১ মে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ইরান ইস্যু এখন কেবল আন্তর্জাতিক কূটনীতি নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতেও পরিণত হয়েছে।

তথ্যসূত্র: তাস, আল-জাজিরা

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ইরানে সামরিক অভিযান ঘিরে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন রাজনৈতিক সংকট

Update Time : ১২:৫১:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

ইরানে চলমান সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন রাজনৈতিক ও আইনি সংকট তৈরি হয়েছে। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই এই অভিযান অব্যাহত থাকলে তার বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা। বিষয়টি ইতোমধ্যেই ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।

প্রভাবশালী সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট’ অনুযায়ী কোনো সামরিক অভিযান শুরুর পর ৬০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। এই সময়সীমা আগামী ১ মে শেষ হতে যাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

আইন অনুযায়ী, সামরিক অভিযান শুরুর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করতে হয়। এরপর সর্বোচ্চ ৬০ দিন পর্যন্ত তিনি একক সিদ্ধান্তে সেনা মোতায়েন রাখতে পারেন। প্রয়োজনে আরও ৩০ দিন সময় বাড়ানো সম্ভব হলেও তার জন্য কংগ্রেসকে লিখিতভাবে যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে হয়।

ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও যদি অভিযান চলতে থাকে, তবে তা হবে অসাংবিধানিক ও বেআইনি। এ কারণেই তারা আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের মতে, জাতীয় নিরাপত্তার স্পষ্ট ও যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া এ ধরনের সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অস্থিতিশীলতা বাড়াচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে একটি দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

অন্যদিকে হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষার জন্য এই অভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে কংগ্রেসে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে তীব্র বিভাজনের কারণে নতুন অনুমোদন পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই আইনি লড়াই যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাহী ক্ষমতা ও কংগ্রেসের ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করবে। বিশেষ করে ১ মে সময়সীমা পার হওয়ার পর বিষয়টি আদালতে গড়াতে পারে, যা দেশটির সাংবিধানিক কাঠামোর ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে আরেক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধবিরতি বজায় রাখলেও ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ অব্যাহত রেখেছে। পাশাপাশি আরব সাগরে ইরানি জাহাজ আটকের ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতীতে বিভিন্ন প্রেসিডেন্ট আইনি ব্যাখ্যার সুযোগ নিয়ে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই সামরিক অভিযান চালিয়েছেন। তবে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এমন পদক্ষেপ আরও বড় সংকট তৈরি করতে পারে।

ডেমোক্র্যাটদের দাবি, এই যুদ্ধ প্রতি সপ্তাহে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে, অথচ কার্যকর কংগ্রেসীয় নজরদারি নেই। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের একাংশও দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

সব মিলিয়ে, ১ মে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ইরান ইস্যু এখন কেবল আন্তর্জাতিক কূটনীতি নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতেও পরিণত হয়েছে।

তথ্যসূত্র: তাস, আল-জাজিরা