সময়: বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বোরকা পরে অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে উপস্থিত,৭ দিনের জন্য বরখাস্ত ডানপন্থী সেই সিনেটর

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৮:১৬:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৯৩ Time View

অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় পার্লামেন্টে বোরকা পরে হাজির হয়ে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন দেশটির ডানপন্থী রাজনীতিক ও ওয়ান নেশন পার্টির সিনেটর পলিন হ্যানসন। সোমবারের ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় পার্লামেন্টে, আর এর জের ধরে মঙ্গলবার সিনেট তাকে সাত কার্যদিবসের জন্য বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয়।

ওয়ান নেশন পার্টির নেতা হ্যানসন দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসন ও মুসলিম সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী পোশাক বোরকা নিষিদ্ধের দাবি করে আসছেন। সোমবার তিনি পার্লামেন্টে জনসমক্ষে বোরকা নিষিদ্ধ করার একটি বিল উত্থাপনের অনুমতি চেয়েছিলেন। কিন্তু অনুমতি না মিলতেই প্রতিবাদস্বরূপ তিনি মাথা থেকে পা পর্যন্ত সম্পূর্ণ ঢাকা বোরকা পরে পার্লামেন্ট কক্ষে প্রবেশ করেন। তার এই আচরণ মুহূর্তেই দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম বিতর্কের জন্ম দেয়।

ঘটনার পর অসংখ্য সিনেটর সরাসরি বর্ণবাদ ও ইসলামবিদ্বেষের অভিযোগ তোলেন হ্যানসনের বিরুদ্ধে। মুসলিম সিনেটররা বলেন, এই ধরনের আচরণ মুসলিম নারী ও অস্ট্রেলিয়ার বৈচিত্র্যময় সমাজকে অপমান করার শামিল। সিনেটের প্রথম মুসলিম নারী সদস্য গ্রিন পার্টির মেহরিন ফারুকি বলেন, “সিনেটররা তাদের পোশাক বেছে নিতে পারেন, কিন্তু এমন অশ্রদ্ধাপূর্ণ আচরণ নিঃসন্দেহে বর্ণবাদ ও ইসলামবিদ্বেষ।”

এ ছাড়া স্বতন্ত্র মুসলিম সিনেটর ফাতিমা পেম্যান হ্যানসনের কর্মকাণ্ডকে ‘লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “এটি মুসলিম এবং মুসলিম অস্ট্রেলীয়দের প্রতি প্রকাশ্য অসম্মান।” ক্ষমতাসীন লেবার সরকারের সিনেট নেতা পেনি ওং আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেন, “এই ধরনের আচরণ সিনেটের মর্যাদাহানি করে। তিনি সিনেটের সদস্য হওয়ার যোগ্য নন।” তিনিই হ্যানসনকে সাময়িক বরখাস্তের প্রস্তাব দেন।

উল্লেখ্য, এটি হ্যানসনের প্রথম ঘটনা নয়। ২০১৭ সালেও একই কায়দায় বোরকা পরে সিনেটে প্রবেশ করেছিলেন তিনি—তখনও ‘বোরকা নিষিদ্ধ’ দাবি জোরালো করার জন্য এমনটা করেছিলেন।

কুইন্সল্যান্ডের এই বিতর্কিত রাজনীতিক নব্বইয়ের দশকে এশীয় অভিবাসন ও শরণার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আলোচনায় আসেন। বর্তমানে তার ওয়ান নেশন পার্টি সিনেটে চারটি আসন ধরে রেখেছে। সোমবারের ঘটনার পর ফেসবুকে দেওয়া বিবৃতিতে হ্যানসন দাবি করেন, “বিলটি বাতিল হওয়ায় প্রতিবাদ জানানোর জন্যই” তিনি বোরকা পরে সিনেটে প্রবেশ করেছিলেন। তার ভাষ্য—বোরকা নারীর প্রতি অবমাননাকর এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি।

(সূত্র: বিবিসি)

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বোরকা পরে অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে উপস্থিত,৭ দিনের জন্য বরখাস্ত ডানপন্থী সেই সিনেটর

Update Time : ০৮:১৬:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫

অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় পার্লামেন্টে বোরকা পরে হাজির হয়ে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন দেশটির ডানপন্থী রাজনীতিক ও ওয়ান নেশন পার্টির সিনেটর পলিন হ্যানসন। সোমবারের ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় পার্লামেন্টে, আর এর জের ধরে মঙ্গলবার সিনেট তাকে সাত কার্যদিবসের জন্য বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয়।

ওয়ান নেশন পার্টির নেতা হ্যানসন দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসন ও মুসলিম সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী পোশাক বোরকা নিষিদ্ধের দাবি করে আসছেন। সোমবার তিনি পার্লামেন্টে জনসমক্ষে বোরকা নিষিদ্ধ করার একটি বিল উত্থাপনের অনুমতি চেয়েছিলেন। কিন্তু অনুমতি না মিলতেই প্রতিবাদস্বরূপ তিনি মাথা থেকে পা পর্যন্ত সম্পূর্ণ ঢাকা বোরকা পরে পার্লামেন্ট কক্ষে প্রবেশ করেন। তার এই আচরণ মুহূর্তেই দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম বিতর্কের জন্ম দেয়।

ঘটনার পর অসংখ্য সিনেটর সরাসরি বর্ণবাদ ও ইসলামবিদ্বেষের অভিযোগ তোলেন হ্যানসনের বিরুদ্ধে। মুসলিম সিনেটররা বলেন, এই ধরনের আচরণ মুসলিম নারী ও অস্ট্রেলিয়ার বৈচিত্র্যময় সমাজকে অপমান করার শামিল। সিনেটের প্রথম মুসলিম নারী সদস্য গ্রিন পার্টির মেহরিন ফারুকি বলেন, “সিনেটররা তাদের পোশাক বেছে নিতে পারেন, কিন্তু এমন অশ্রদ্ধাপূর্ণ আচরণ নিঃসন্দেহে বর্ণবাদ ও ইসলামবিদ্বেষ।”

এ ছাড়া স্বতন্ত্র মুসলিম সিনেটর ফাতিমা পেম্যান হ্যানসনের কর্মকাণ্ডকে ‘লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “এটি মুসলিম এবং মুসলিম অস্ট্রেলীয়দের প্রতি প্রকাশ্য অসম্মান।” ক্ষমতাসীন লেবার সরকারের সিনেট নেতা পেনি ওং আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেন, “এই ধরনের আচরণ সিনেটের মর্যাদাহানি করে। তিনি সিনেটের সদস্য হওয়ার যোগ্য নন।” তিনিই হ্যানসনকে সাময়িক বরখাস্তের প্রস্তাব দেন।

উল্লেখ্য, এটি হ্যানসনের প্রথম ঘটনা নয়। ২০১৭ সালেও একই কায়দায় বোরকা পরে সিনেটে প্রবেশ করেছিলেন তিনি—তখনও ‘বোরকা নিষিদ্ধ’ দাবি জোরালো করার জন্য এমনটা করেছিলেন।

কুইন্সল্যান্ডের এই বিতর্কিত রাজনীতিক নব্বইয়ের দশকে এশীয় অভিবাসন ও শরণার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আলোচনায় আসেন। বর্তমানে তার ওয়ান নেশন পার্টি সিনেটে চারটি আসন ধরে রেখেছে। সোমবারের ঘটনার পর ফেসবুকে দেওয়া বিবৃতিতে হ্যানসন দাবি করেন, “বিলটি বাতিল হওয়ায় প্রতিবাদ জানানোর জন্যই” তিনি বোরকা পরে সিনেটে প্রবেশ করেছিলেন। তার ভাষ্য—বোরকা নারীর প্রতি অবমাননাকর এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি।

(সূত্র: বিবিসি)