সময়: রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের নাম নেই, ১১ দেশের সঙ্গে প্রথমবার বহুজাতিক সামরিক মহড়ায় ভারত

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৫:৩৩:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
  • / ১৭১ Time View

প্রথমবারের মতো প্রতিবেশী ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১১টি দেশের অংশগ্রহণে বৃহৎ পরিসরের যৌথ সামরিক মহড়ার আয়োজন করতে যাচ্ছে ভারত। তবে আলোচিত এই বহুজাতিক সামরিক মহড়ায় বাংলাদেশের নাম না থাকায় কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম The Times of India–এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আগামী ১৮ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ভারতের মেঘালয় রাজ্যে অনুষ্ঠিত হবে ‘প্রগতি’ নামের এই যৌথ সামরিক মহড়া। বাংলাদেশের সীমান্তঘেঁষা অঞ্চলে আয়োজিত এ মহড়ায় অংশ নেবে লাওস, মিয়ানমার, ভিয়েতনাম, সেশেলস, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন, নেপাল, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া ও ভুটান।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর জনতথ্য বিভাগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানিয়েছে, এই মহড়ার মূল লক্ষ্য হলো আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করা এবং যৌথ সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। বিশেষ করে বিদ্রোহ দমন, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান এবং সমন্বিত প্রতিরক্ষা কৌশলকে কেন্দ্র করে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

ভারতের সামরিক সূত্রগুলোর দাবি, এই উদ্যোগ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা কূটনীতি জোরদারের অংশ। একই সঙ্গে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কৌশলগত প্রভাব বিস্তার এবং যৌথ সামরিক প্রস্তুতি শক্তিশালী করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে ভারত সাধারণত এক বা দুই দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক কিংবা ত্রিপাক্ষিক সামরিক মহড়া পরিচালনা করলেও এবার একসঙ্গে ১১টি দেশের অংশগ্রহণে মহড়া আয়োজন একটি বড় কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর মাধ্যমে ভারত এশিয়া ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে একটি বৃহত্তর সামরিক সহযোগিতা কাঠামো গড়ে তুলতে চাইছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

তবে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। কারণ ভৌগোলিক অবস্থান, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে সাধারণত এ ধরনের উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে বাংলাদেশের নাম বাদ পড়া কেবল সামরিক নয়, কূটনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক সমীকরণ, সীমান্ত ইস্যু এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পরিবর্তিত বাস্তবতা এই সিদ্ধান্তের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। যদিও ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না থাকার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বাংলাদেশের নাম নেই, ১১ দেশের সঙ্গে প্রথমবার বহুজাতিক সামরিক মহড়ায় ভারত

Update Time : ০৫:৩৩:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

প্রথমবারের মতো প্রতিবেশী ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১১টি দেশের অংশগ্রহণে বৃহৎ পরিসরের যৌথ সামরিক মহড়ার আয়োজন করতে যাচ্ছে ভারত। তবে আলোচিত এই বহুজাতিক সামরিক মহড়ায় বাংলাদেশের নাম না থাকায় কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম The Times of India–এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আগামী ১৮ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ভারতের মেঘালয় রাজ্যে অনুষ্ঠিত হবে ‘প্রগতি’ নামের এই যৌথ সামরিক মহড়া। বাংলাদেশের সীমান্তঘেঁষা অঞ্চলে আয়োজিত এ মহড়ায় অংশ নেবে লাওস, মিয়ানমার, ভিয়েতনাম, সেশেলস, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন, নেপাল, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া ও ভুটান।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর জনতথ্য বিভাগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানিয়েছে, এই মহড়ার মূল লক্ষ্য হলো আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করা এবং যৌথ সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। বিশেষ করে বিদ্রোহ দমন, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান এবং সমন্বিত প্রতিরক্ষা কৌশলকে কেন্দ্র করে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

ভারতের সামরিক সূত্রগুলোর দাবি, এই উদ্যোগ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা কূটনীতি জোরদারের অংশ। একই সঙ্গে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কৌশলগত প্রভাব বিস্তার এবং যৌথ সামরিক প্রস্তুতি শক্তিশালী করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে ভারত সাধারণত এক বা দুই দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক কিংবা ত্রিপাক্ষিক সামরিক মহড়া পরিচালনা করলেও এবার একসঙ্গে ১১টি দেশের অংশগ্রহণে মহড়া আয়োজন একটি বড় কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর মাধ্যমে ভারত এশিয়া ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে একটি বৃহত্তর সামরিক সহযোগিতা কাঠামো গড়ে তুলতে চাইছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

তবে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। কারণ ভৌগোলিক অবস্থান, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে সাধারণত এ ধরনের উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে বাংলাদেশের নাম বাদ পড়া কেবল সামরিক নয়, কূটনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক সমীকরণ, সীমান্ত ইস্যু এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পরিবর্তিত বাস্তবতা এই সিদ্ধান্তের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। যদিও ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না থাকার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।