সময়: শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাপানের চারপাশে চীন–রাশিয়ার যৌথ বোমারু বিমানের টহল সতর্ক অবস্থানে টোকিও

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১০:৪৪:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ৮৬ Time View

জাপানের উপকূল ঘিরে রাশিয়া ও চীনের যৌথ সামরিক টহল নতুন করে নিরাপত্তা উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। দুই দেশের কৌশলগত বোমারু বিমানের দীর্ঘপাল্লার এই উড্ডয়নকে টোকিও সরাসরি “শক্তি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যমূলক পদক্ষেপ” হিসেবে বর্ণনা করেছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে জাপান যুদ্ধবিমান উড়িয়ে হুশিয়ার অবস্থানে যায়।

জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) গভীর রাতে জানায়, রাশিয়ার দুটি টিইউ–৯৫ কৌশলগত ও পারমাণবিক সক্ষমতার বোমারু বিমান জাপান সাগর থেকে পূর্ব চীন সাগরের দিকে অগ্রসর হয়। সেখানে তারা চীনের দুটি এইচ–৬ বোমারু বিমানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর দিয়ে দীর্ঘপাল্লার যৌথ টহল সম্পন্ন করে।

মন্ত্রণালয় জানায়, পরে চীনের আরও চারটি জে–১৬ যুদ্ধবিমান এই বোমারু বিমানের সঙ্গে যোগ দেয়। তারা জাপানের ওকিনাওয়া ও মিয়াকো দ্বীপের মাঝ দিয়ে বারবার যাতায়াত করে। এই দুই দ্বীপের মধ্যবর্তী মিয়াকো প্রণালি আন্তর্জাতিক জলসীমা হিসেবে স্বীকৃত হলেও চীনা সামরিক বাহিনী এটিকে নিয়মিতভাবে প্রশান্ত মহাসাগরে ক্ষমতা প্রদর্শনের রুট হিসেবে ব্যবহার করে—যা দীর্ঘদিন ধরে জাপানের নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।

একই সময়ে জাপান সাগরে রাশিয়ার আরও সামরিক তৎপরতা শনাক্ত হয়। মন্ত্রণালয়ের রাডার একটি এ–৫০ আগাম সতর্ককারী বিমান এবং দুটি এসইউ–৩০ যুদ্ধবিমানের উড্ডয়নও পর্যবেক্ষণ করে।

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “রাশিয়া ও চীনের এই যৌথ অভিযান স্পষ্টভাবেই আমাদের দেশের বিরুদ্ধে শক্তি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়েছে। এটি জাপানের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।”

তিনি আরও জানান, জাপানের যুদ্ধবিমানগুলো প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত সব নিয়ম মেনে কঠোরভাবে আকাশসীমা শনাক্তকরণের দায়িত্ব পালন করেছে।

রাশিয়ান সংবাদমাধ্যম জানায়, মস্কোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে যৌথ টহলটি প্রায় আট ঘণ্টা ধরে চলে—যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম দীর্ঘ সমন্বিত উড্ডয়ন। দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনীও জানায়, মঙ্গলবার তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা শনাক্তকরণ অঞ্চলে সাতটি রুশ ও দুটি চীনা সামরিক বিমান প্রবেশ করেছিল।

চীন–রাশিয়ার এমন সামরিক সমন্বয় এমন সময়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যখন গত মাসে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি স্পষ্টভাবে বলেন—তাইওয়ান নিয়ে চীনের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ যদি জাপানের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে ওঠে, তবে টোকিও প্রতিক্রিয়া দেখাতে বাধ্য হবে। বেইজিং এই বক্তব্যকে “অযাচিত হস্তক্ষেপ” হিসেবে নাকচ করলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন ও রাশিয়া একাধিক অঞ্চলে সামরিক সহযোগিতা বাড়িয়ে চলেছে।

জাপান–যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা জোটকে সামনে রেখে টোকিও ইতোমধ্যে সামরিক বাজেট বৃদ্ধি, মিসাইল সক্ষমতা উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করছে। বিশ্লেষকদের মতে, চীন–রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান যৌথ টহল পূর্ব এশিয়ার কৌশলগত সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলছে।

সূত্র: রয়টার্স

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জাপানের চারপাশে চীন–রাশিয়ার যৌথ বোমারু বিমানের টহল সতর্ক অবস্থানে টোকিও

Update Time : ১০:৪৪:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫

জাপানের উপকূল ঘিরে রাশিয়া ও চীনের যৌথ সামরিক টহল নতুন করে নিরাপত্তা উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। দুই দেশের কৌশলগত বোমারু বিমানের দীর্ঘপাল্লার এই উড্ডয়নকে টোকিও সরাসরি “শক্তি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যমূলক পদক্ষেপ” হিসেবে বর্ণনা করেছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে জাপান যুদ্ধবিমান উড়িয়ে হুশিয়ার অবস্থানে যায়।

জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) গভীর রাতে জানায়, রাশিয়ার দুটি টিইউ–৯৫ কৌশলগত ও পারমাণবিক সক্ষমতার বোমারু বিমান জাপান সাগর থেকে পূর্ব চীন সাগরের দিকে অগ্রসর হয়। সেখানে তারা চীনের দুটি এইচ–৬ বোমারু বিমানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর দিয়ে দীর্ঘপাল্লার যৌথ টহল সম্পন্ন করে।

মন্ত্রণালয় জানায়, পরে চীনের আরও চারটি জে–১৬ যুদ্ধবিমান এই বোমারু বিমানের সঙ্গে যোগ দেয়। তারা জাপানের ওকিনাওয়া ও মিয়াকো দ্বীপের মাঝ দিয়ে বারবার যাতায়াত করে। এই দুই দ্বীপের মধ্যবর্তী মিয়াকো প্রণালি আন্তর্জাতিক জলসীমা হিসেবে স্বীকৃত হলেও চীনা সামরিক বাহিনী এটিকে নিয়মিতভাবে প্রশান্ত মহাসাগরে ক্ষমতা প্রদর্শনের রুট হিসেবে ব্যবহার করে—যা দীর্ঘদিন ধরে জাপানের নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।

একই সময়ে জাপান সাগরে রাশিয়ার আরও সামরিক তৎপরতা শনাক্ত হয়। মন্ত্রণালয়ের রাডার একটি এ–৫০ আগাম সতর্ককারী বিমান এবং দুটি এসইউ–৩০ যুদ্ধবিমানের উড্ডয়নও পর্যবেক্ষণ করে।

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “রাশিয়া ও চীনের এই যৌথ অভিযান স্পষ্টভাবেই আমাদের দেশের বিরুদ্ধে শক্তি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়েছে। এটি জাপানের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।”

তিনি আরও জানান, জাপানের যুদ্ধবিমানগুলো প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত সব নিয়ম মেনে কঠোরভাবে আকাশসীমা শনাক্তকরণের দায়িত্ব পালন করেছে।

রাশিয়ান সংবাদমাধ্যম জানায়, মস্কোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে যৌথ টহলটি প্রায় আট ঘণ্টা ধরে চলে—যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম দীর্ঘ সমন্বিত উড্ডয়ন। দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনীও জানায়, মঙ্গলবার তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা শনাক্তকরণ অঞ্চলে সাতটি রুশ ও দুটি চীনা সামরিক বিমান প্রবেশ করেছিল।

চীন–রাশিয়ার এমন সামরিক সমন্বয় এমন সময়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যখন গত মাসে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি স্পষ্টভাবে বলেন—তাইওয়ান নিয়ে চীনের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ যদি জাপানের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে ওঠে, তবে টোকিও প্রতিক্রিয়া দেখাতে বাধ্য হবে। বেইজিং এই বক্তব্যকে “অযাচিত হস্তক্ষেপ” হিসেবে নাকচ করলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন ও রাশিয়া একাধিক অঞ্চলে সামরিক সহযোগিতা বাড়িয়ে চলেছে।

জাপান–যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা জোটকে সামনে রেখে টোকিও ইতোমধ্যে সামরিক বাজেট বৃদ্ধি, মিসাইল সক্ষমতা উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করছে। বিশ্লেষকদের মতে, চীন–রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান যৌথ টহল পূর্ব এশিয়ার কৌশলগত সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলছে।

সূত্র: রয়টার্স