ভারতে বিনামূল্যে এআই সেবা দিচ্ছে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো
- Update Time : ০২:৩৬:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫
- / ২৩৪ Time View

ভারতের কোটি কোটি মোবাইল ব্যবহারকারী এখন বিনামূল্যে উন্নতমানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সেবা ব্যবহার করার সুযোগ পাচ্ছেন। বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় ডিজিটাল বাজারটিকে ধরতে সম্প্রতি ব্যাপক বিনিয়োগ ও নতুন সেবা চালুর ঘোষণা দিয়েছে। খবর বিবিসি।
চলতি সপ্তাহ থেকে ‘চ্যাটজিপিটি গো’ নামের সাশ্রয়ী নতুন এআই চ্যাটবট ভারতে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারছেন গ্রাহকরা। এক বছরের জন্য এ সুবিধা উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এর আগে গুগল এবং পারপ্লেক্সিটি এআই-ও একই ধরনের বিনামূল্যের এআই সেবা চালু করে।
এই সেবাগুলো কার্যকর করতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো ভারতের প্রধান মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে অংশীদারত্ব করেছে। পারপ্লেক্সিটি যুক্ত হয়েছে ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম অপারেটর এয়ারটেলের সঙ্গে, আর গুগল চুক্তি করেছে দেশটির শীর্ষ টেলিকম প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স জিওর সঙ্গে। ফলে গ্রাহকরা মাসিক ডাটা প্যাক কিনলেই বিনামূল্যে বা বিশেষ ছাড়ে উন্নতমানের এআই সেবা ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগকে নিছক উদারতা বলা যাবে না—বরং এটি ভারতের বিশাল ডিজিটাল ভবিষ্যতকে কেন্দ্র করে করা দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত বিনিয়োগ। তাদের মতে, কোটি কোটি ভারতীয়কে জেনারেটিভ এআই ব্যবহারে অভ্যস্ত করাই মূল উদ্দেশ্য, যাতে ভবিষ্যতে তারা স্বেচ্ছায় এসব সেবার জন্য অর্থ প্রদান করতে আগ্রহী হয়।
বর্তমানে ভারতে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৯০ কোটির বেশি, যার বড় অংশই ২৪ বছরের নিচে তরুণ-তরুণী। তারা কাজ, শিক্ষা, বিনোদন ও যোগাযোগ—সবকিছুর জন্য স্মার্টফোনের ওপর নির্ভরশীল। সেই কারণে টেলিকম ডাটা প্যাকের সঙ্গে এআই সুবিধা যোগ করলে তা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য বিশাল বাজার তৈরি করতে পারে। এতে ব্যবহার যত বাড়বে, তত বেশি স্থানীয় তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হবে, যা ভবিষ্যতে জেনারেটিভ এআই উন্নয়নে মূল্যবান সম্পদ হিসেবে কাজ করবে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, ভারতের বৈচিত্র্যময় জনসংখ্যা ও ব্যবহারকারীদের অনন্য আচরণ ধরণ বৈশ্বিক এআই উন্নয়নের ক্ষেত্রেও নতুন দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করতে পারে। ফলে এখানে সংগৃহীত তথ্য প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে এই অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা নিয়ে নতুন উদ্বেগও বাড়ছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, বিনা মূল্যে সুবিধা পাওয়ার লোভে অধিকাংশ ব্যবহারকারী সহজেই তাদের ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করতে প্রস্তুত থাকে। কিন্তু সরকারের উচিত কঠোর নীতিমালা ও আধুনিক ডাটা সুরক্ষা কাঠামো প্রণয়ন করা। যদিও ২০২৩ সালের ‘ডিজিটাল পারসোনাল ডাটা সিকিউরিটি’ আইন পাস হয়েছে, তা এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর নয়।






















