বাজারে মানুষ ধোয়ার আধুনিক মেশিন আনল জাপান
- Update Time : ০১:৫৭:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ২৩১ Time View

জাপান আবারও প্রযুক্তিতে নতুন চমক দেখাল। এবার তারা বাজারে এনেছে ‘মানুষ ধোয়ার’ বিশেষ ওয়াশিং মেশিন, যা দেখতে সাধারণ ওয়াশিং মেশিনের মতো হলেও এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা দেয়। জামাকাপড় নয়, বরং মানুষ নিজের শরীর নিয়ে প্রবেশ করে এই মেশিনে গোসলের আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন।
প্রথমবার এই ব্যতিক্রমী মেশিনটি প্রদর্শিত হয় ওসাকায় অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড এক্সপোতে, যেখানে দর্শকদের ব্যাপক আগ্রহ পাওয়ার পর সেটি এখন আনুষ্ঠানিকভাবে জাপানের বাজারে বিক্রি শুরু হয়েছে।
জাপান টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথমে সীমিত পরিসরে ৫০টি মেশিন তৈরি করা হবে। প্রতিটির মূল্য প্রায় ৩ লাখ ৮৫ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৪ কোটি টাকারও বেশি।
হোটেল ও রিসোর্টের আগ্রহ—বিলাসী গ্রাহকদের জন্য নতুন সুবিধা
জানা গেছে, ওসাকার একটি বিলাসবহুল হোটেল ইতোমধ্যেই মেশিনটি কিনে নিয়েছে তাদের অতিথিদের জন্য। যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় রিসোর্ট কোম্পানিও এটি আমদানির ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
কীভাবে কাজ করে এই ‘মানব ওয়াশিং মেশিন’?
প্রযুক্তিটি উদ্ভাবন করেছে জাপানের পরিচিত প্রতিষ্ঠান সায়েন্স। সংস্থাটি জানায়—
- মেশিনে রয়েছে বিশেষ ধরনের একটি ক্যাপসুল চেম্বার।
• ব্যবহারকারী চেম্বারের ভেতরে ঢুকে ঢাকনা বন্ধ করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ধোয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
• মেশিনটি জামাকাপড়ের মতো ঘোরানো বা ঝাঁকানো কিছুই করে না; বরং মাইক্রো-বুদবুদ এবং ক্ষুদ্র জলকণার ধারা ব্যবহার করে পুরো শরীরকে পরিষ্কার করে।
• একসঙ্গে শরীরের ত্বক পরিষ্কার, সতেজতা এবং থেরাপিউটিক অনুভূতি দেয়।
নিরাপত্তায় উন্নত সেন্সর
মেশিনে রয়েছে উন্নত প্রযুক্তির সেন্সর, যা—
- ব্যবহারকারীর হৃদস্পন্দন,
• শরীরের নিরাপত্তাজনিত সংকেত,
• শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন—সবকিছু রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করে।
যদি কোনো সমস্যা শনাক্ত হয়, সিস্টেম তাৎক্ষণিকভাবে মেশিন থামিয়ে ব্যবহারকারীকে বের হয়ে আসার সুযোগ দেয়।
সঙ্গীত ও ভিডিও—গোসলের সঙ্গে আরাম
ধোয়ার সময় মেশিনের ভেতরে হালকা সঙ্গীত বাজবে। মনকে শান্ত ও রিলাক্স করতে প্রদর্শিত হবে ভিডিও ও ছবি। পুরো প্রক্রিয়া শেষে শরীর স্বয়ংক্রিয়ভাবে শুকিয়ে দেওয়া হবে, ফলে তোয়ালে ব্যবহারেরও প্রয়োজন হবে না।
১৯৭০-এর দশকের পুরোনো ধারণার বাস্তব রূপ
বিশেষজ্ঞরা জানান, এই প্রযুক্তির ধারণা প্রথম উঠে আসে ১৯৭০ সালের ওয়ার্ল্ড এক্সপোতে, যেখানে ভবিষ্যতের জন্য ‘মানুষ ধোয়ার যন্ত্র’ একটি কল্পনাপ্রসূত ধারণা হিসেবে প্রদর্শিত হয়েছিল। দীর্ঘ পাঁচ দশক পর সেই কল্পনাই বাস্তব রূপ পেল জাপানি কোম্পানি সায়েন্সের হাতে।






















