অমুসলিমদের কি ফিতরা দেওয়া যাবে?
- Update Time : ০২:২৬:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ২০৫ Time View

সমাজের দুস্থ ও অসহায় মানুষ যাতে ঈদের আনন্দে শামিল হতে পারেন, সে উদ্দেশ্যে ইসলামে সাদাকাতুল ফিতর বা ফিতরার বিধান প্রবর্তিত হয়েছে। ঈদের নামাজের আগেই ফিতরা আদায় করা উত্তম এবং এটি রমজান মাসের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিব ইবাদত।
যেসব মুসলিম নর-নারীর কাছে মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার মূল্যের সমপরিমাণ সম্পদ থাকে, তাদের ওপর সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হয়। হাদিসে এ ইবাদতের তাৎপর্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। Sunan Abu Dawud-এ বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) দুটি কারণে সাদাকাতুল ফিতর নির্ধারণ করেছেন—এক. রোজাদারকে অনর্থক ও অশালীন কথা-বার্তার প্রভাব থেকে পবিত্র করা; দুই. গরিব-মিসকিনদের খাদ্যের ব্যবস্থা করা।
অমুসলিমকে ফিতরা দেওয়া যাবে কি?
এ প্রসঙ্গে আলেমদের অভিমত হলো, সাদাকাতুল ফিতর মূলত দরিদ্র মুসলমানদের হক। ইসলামী গবেষণা সাময়িকী Al Kawsar-এ উল্লেখ করা হয়েছে, ফিতরার অর্থ অমুসলিমদের দেওয়া জায়েজ নয়। কারণ, জাকাতের যে খাত নির্ধারিত—সাদাকাতুল ফিতরও সেই একই খাতে ব্যয় করতে হয়।
ফিকহের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ যেমন Bada’i al-Sana’i এবং Radd al-Muhtar-এও বলা হয়েছে, যাদেরকে জাকাত দেওয়া বৈধ, কেবল তাদেরই ফিতরা দেওয়া যাবে। কেউ যদি জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত না হন, তবে তাকে ফিতরাও দেওয়া যাবে না।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—অমুসলিম দরিদ্রদের সাধারণ (নফল) সদকা দেওয়া সম্পূর্ণ বৈধ এবং এতে সওয়াব রয়েছে। অর্থাৎ, ফিতরা না দিলেও মানবিক সহায়তা হিসেবে তাদের সাহায্য করা ইসলামে নিষিদ্ধ নয়।
আত্মীয়স্বজনকে ফিতরা দেওয়ার বিধান
নিজের পিতা-মাতা, দাদা-দাদি কিংবা ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনিদের—even তারা গরিব হলেও—ফিতরা দেওয়া জায়েজ নয়। একইভাবে স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে ফিতরা দিতে পারেন না। তবে ভাই-বোন, চাচা-মামা, ফুফু-খালা, ভাতিজা-ভাগনে, শ্বশুর-শাশুড়িসহ অন্যান্য গরিব আত্মীয়দের ফিতরা দেওয়া বৈধ—যদি তারা জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হন।
সারকথা হলো, সাদাকাতুল ফিতর একটি নির্দিষ্ট ইবাদত, যার প্রাপ্য নির্ধারিত। অমুসলিমদের ফিতরা দেওয়া জায়েজ নয়; তবে নফল সদকা হিসেবে তাদের সহযোগিতা করা উত্তম ও মানবিক কাজ। তাই ফিতরা আদায়ের ক্ষেত্রে শরিয়তের নির্দেশনা অনুসরণ করাই একজন মুসলমানের কর্তব্য।





















