সময়: রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অমুসলিমদের কি ফিতরা দেওয়া যাবে?

বিল্লাল হোসেন
  • Update Time : ০২:২৬:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ২০৫ Time View

সমাজের দুস্থ ও অসহায় মানুষ যাতে ঈদের আনন্দে শামিল হতে পারেন, সে উদ্দেশ্যে ইসলামে সাদাকাতুল ফিতর বা ফিতরার বিধান প্রবর্তিত হয়েছে। ঈদের নামাজের আগেই ফিতরা আদায় করা উত্তম এবং এটি রমজান মাসের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিব ইবাদত।

যেসব মুসলিম নর-নারীর কাছে মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার মূল্যের সমপরিমাণ সম্পদ থাকে, তাদের ওপর সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হয়। হাদিসে এ ইবাদতের তাৎপর্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। Sunan Abu Dawud-এ বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) দুটি কারণে সাদাকাতুল ফিতর নির্ধারণ করেছেন—এক. রোজাদারকে অনর্থক ও অশালীন কথা-বার্তার প্রভাব থেকে পবিত্র করা; দুই. গরিব-মিসকিনদের খাদ্যের ব্যবস্থা করা।

অমুসলিমকে ফিতরা দেওয়া যাবে কি?

এ প্রসঙ্গে আলেমদের অভিমত হলো, সাদাকাতুল ফিতর মূলত দরিদ্র মুসলমানদের হক। ইসলামী গবেষণা সাময়িকী Al Kawsar-এ উল্লেখ করা হয়েছে, ফিতরার অর্থ অমুসলিমদের দেওয়া জায়েজ নয়। কারণ, জাকাতের যে খাত নির্ধারিত—সাদাকাতুল ফিতরও সেই একই খাতে ব্যয় করতে হয়।

ফিকহের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ যেমন Bada’i al-Sana’i এবং Radd al-Muhtar-এও বলা হয়েছে, যাদেরকে জাকাত দেওয়া বৈধ, কেবল তাদেরই ফিতরা দেওয়া যাবে। কেউ যদি জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত না হন, তবে তাকে ফিতরাও দেওয়া যাবে না।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—অমুসলিম দরিদ্রদের সাধারণ (নফল) সদকা দেওয়া সম্পূর্ণ বৈধ এবং এতে সওয়াব রয়েছে। অর্থাৎ, ফিতরা না দিলেও মানবিক সহায়তা হিসেবে তাদের সাহায্য করা ইসলামে নিষিদ্ধ নয়।

আত্মীয়স্বজনকে ফিতরা দেওয়ার বিধান

নিজের পিতা-মাতা, দাদা-দাদি কিংবা ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনিদের—even তারা গরিব হলেও—ফিতরা দেওয়া জায়েজ নয়। একইভাবে স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে ফিতরা দিতে পারেন না। তবে ভাই-বোন, চাচা-মামা, ফুফু-খালা, ভাতিজা-ভাগনে, শ্বশুর-শাশুড়িসহ অন্যান্য গরিব আত্মীয়দের ফিতরা দেওয়া বৈধ—যদি তারা জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হন।

সারকথা হলো, সাদাকাতুল ফিতর একটি নির্দিষ্ট ইবাদত, যার প্রাপ্য নির্ধারিত। অমুসলিমদের ফিতরা দেওয়া জায়েজ নয়; তবে নফল সদকা হিসেবে তাদের সহযোগিতা করা উত্তম ও মানবিক কাজ। তাই ফিতরা আদায়ের ক্ষেত্রে শরিয়তের নির্দেশনা অনুসরণ করাই একজন মুসলমানের কর্তব্য।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বিল্লাল হোসেন

বিল্লাল হোসেন, একজন প্রজ্ঞাবান পেশাজীবী, যিনি গণিতের ওপর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং ব্যাংকার, অর্থনীতিবিদ, ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞ হিসেবে একটি সমৃদ্ধ ও বহুমুখী ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন। তার আর্থিক খাতে যাত্রা তাকে নেতৃত্বের ভূমিকায় নিয়ে গেছে, বিশেষ করে সৌদি আরবের আল-রাজি ব্যাংকিং Inc. এবং ব্যাংক-আল-বিলাদে বিদেশী সম্পর্ক ও করেসপন্ডেন্ট মেইন্টেনেন্স অফিসার হিসেবে। প্রথাগত অর্থনীতির গণ্ডির বাইরে, বিল্লাল একজন প্রখ্যাত লেখক ও বিশ্লেষক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন, বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালে মননশীল কলাম ও গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করে। তার দক্ষতা বিস্তৃত বিষয় জুড়ে রয়েছে, যেমন অর্থনীতির জটিলতা, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, প্রবাসী শ্রমিকদের দুঃখ-কষ্ট, রেমিটেন্স, রিজার্ভ এবং অন্যান্য সম্পর্কিত দিক। বিল্লাল তার লেখায় একটি অনন্য বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসেন, যা ব্যাংকিং ক্যারিয়ারে অর্জিত বাস্তব জ্ঞানকে একত্রিত করে একাডেমিক কঠোরতার সাথে। তার প্রবন্ধগুলো শুধুমাত্র জটিল বিষয়গুলির উপর গভীর বোঝাপড়ার প্রতিফলন নয়, বরং পাঠকদের জন্য জ্ঞানপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে, যা তত্ত্ব ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে। বিল্লাল হোসেনের অবদান তার প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করে যে, তিনি আমাদের আন্তঃসংযুক্ত বিশ্বের জটিলতাগুলি উন্মোচন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের একটি বিস্তৃত এবং আরও সূক্ষ্ম বোঝাপড়ার দিকে মূল্যবান অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে।

অমুসলিমদের কি ফিতরা দেওয়া যাবে?

Update Time : ০২:২৬:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সমাজের দুস্থ ও অসহায় মানুষ যাতে ঈদের আনন্দে শামিল হতে পারেন, সে উদ্দেশ্যে ইসলামে সাদাকাতুল ফিতর বা ফিতরার বিধান প্রবর্তিত হয়েছে। ঈদের নামাজের আগেই ফিতরা আদায় করা উত্তম এবং এটি রমজান মাসের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিব ইবাদত।

যেসব মুসলিম নর-নারীর কাছে মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার মূল্যের সমপরিমাণ সম্পদ থাকে, তাদের ওপর সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হয়। হাদিসে এ ইবাদতের তাৎপর্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। Sunan Abu Dawud-এ বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) দুটি কারণে সাদাকাতুল ফিতর নির্ধারণ করেছেন—এক. রোজাদারকে অনর্থক ও অশালীন কথা-বার্তার প্রভাব থেকে পবিত্র করা; দুই. গরিব-মিসকিনদের খাদ্যের ব্যবস্থা করা।

অমুসলিমকে ফিতরা দেওয়া যাবে কি?

এ প্রসঙ্গে আলেমদের অভিমত হলো, সাদাকাতুল ফিতর মূলত দরিদ্র মুসলমানদের হক। ইসলামী গবেষণা সাময়িকী Al Kawsar-এ উল্লেখ করা হয়েছে, ফিতরার অর্থ অমুসলিমদের দেওয়া জায়েজ নয়। কারণ, জাকাতের যে খাত নির্ধারিত—সাদাকাতুল ফিতরও সেই একই খাতে ব্যয় করতে হয়।

ফিকহের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ যেমন Bada’i al-Sana’i এবং Radd al-Muhtar-এও বলা হয়েছে, যাদেরকে জাকাত দেওয়া বৈধ, কেবল তাদেরই ফিতরা দেওয়া যাবে। কেউ যদি জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত না হন, তবে তাকে ফিতরাও দেওয়া যাবে না।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—অমুসলিম দরিদ্রদের সাধারণ (নফল) সদকা দেওয়া সম্পূর্ণ বৈধ এবং এতে সওয়াব রয়েছে। অর্থাৎ, ফিতরা না দিলেও মানবিক সহায়তা হিসেবে তাদের সাহায্য করা ইসলামে নিষিদ্ধ নয়।

আত্মীয়স্বজনকে ফিতরা দেওয়ার বিধান

নিজের পিতা-মাতা, দাদা-দাদি কিংবা ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনিদের—even তারা গরিব হলেও—ফিতরা দেওয়া জায়েজ নয়। একইভাবে স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে ফিতরা দিতে পারেন না। তবে ভাই-বোন, চাচা-মামা, ফুফু-খালা, ভাতিজা-ভাগনে, শ্বশুর-শাশুড়িসহ অন্যান্য গরিব আত্মীয়দের ফিতরা দেওয়া বৈধ—যদি তারা জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হন।

সারকথা হলো, সাদাকাতুল ফিতর একটি নির্দিষ্ট ইবাদত, যার প্রাপ্য নির্ধারিত। অমুসলিমদের ফিতরা দেওয়া জায়েজ নয়; তবে নফল সদকা হিসেবে তাদের সহযোগিতা করা উত্তম ও মানবিক কাজ। তাই ফিতরা আদায়ের ক্ষেত্রে শরিয়তের নির্দেশনা অনুসরণ করাই একজন মুসলমানের কর্তব্য।