এই রমজানই হতে পারে জীবনের শেষ রমজান: তাই ইবাদতে হোক সর্বোচ্চ প্রস্তুতি
- Update Time : ০৩:১৯:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ১৬৭ Time View

রমজান মাস রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। কিন্তু আমরা কেউ জানি না—এটাই আমাদের জীবনের শেষ রমজান কি না। প্রতি বছর রমজান আসে, আবার চলে যায়। কিন্তু অনেকেই আছেন, যারা গত রমজানে আমাদের সঙ্গে ছিলেন, আজ আর নেই। তাই একজন মুমিনের উচিত প্রতিটি রমজানকে নিজের জীবনের শেষ রমজান মনে করে ইবাদতে আত্মনিয়োগ করা।
জীবন অনিশ্চিত—মৃত্যু অবধারিত
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেন:
“কুল্লু নাফসিন যায়িকাতুল মাউত” — “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।” (সূরা সূরা আলে ইমরান, ৩:১৮৫)
আরও ইরশাদ হয়েছে:
“আপনি জানেন না আগামীকাল আপনি কী উপার্জন করবেন, এবং জানেন না কোন স্থানে আপনার মৃত্যু হবে।” (সূরা সূরা লুকমান, ৩১:৩৪)
এই আয়াতগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সময় সীমিত, জীবন ক্ষণস্থায়ী। তাই ইবাদতের সুযোগ যখন এসেছে, তখন তা অবহেলা করা উচিত নয়।
রমজান: গুনাহ মাফের সুবর্ণ সুযোগ
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে এবং সওয়াবের আশায় রমজানে রোজা রাখে, তার পূর্বের গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হয়।” (সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৩৮)
আরও বর্ণিত আছে:
“রমজান মাস এলে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়।” (সহিহ মুসলিম)
এমন সুযোগ বছরের আর কোনো মাসে নেই। তাই যদি এটি আমাদের শেষ রমজান হয়, তবে এই মাসেই তাওবা, ইস্তেগফার ও আত্মশুদ্ধির সর্বোচ্চ চেষ্টা করা উচিত।
ইবাদতে হোক বিশেষ মনোযোগ
শেষ রমজান মনে করে যেসব আমল করা যেতে পারে—
১. নামাজে খুশু ও খুযু বৃদ্ধি করা – পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায় ও তাহাজ্জুদে অভ্যস্ত হওয়া।
৩. লাইলাতুল কদরের সন্ধান – “লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।” (সূরা সূরা আল-কদর, ৯৭:৩)
৪. দান–সদকা বৃদ্ধি করা – রাসূল ﷺ রমজানে সবচেয়ে বেশি দানশীল ছিলেন (সহিহ বুখারি)।
৫. গুনাহ থেকে বিরত থাকা – রোজা শুধু খাদ্য ও পানীয় থেকে বিরত থাকা নয়; বরং মিথ্যা, গীবত ও অন্যায় থেকেও বিরত থাকা।
আত্মসমালোচনার সময়
যদি এটি আমাদের জীবনের শেষ রমজান হয়, তবে আমরা কি প্রস্তুত? আমাদের নামাজ, রোজা, সম্পর্ক, হালাল-হারামের হিসাব—সবকিছু কি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যথাযথ? রমজান আত্মসমালোচনা ও আত্মশুদ্ধির মাস। এই মাসে পরিবর্তন আনতে না পারলে আর কবে?
আমরা জানি না আগামী রমজান পর্যন্ত বেঁচে থাকব কি না। তাই এই রমজানকেই জীবনের শেষ রমজান মনে করে আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে তাওবা করা, বেশি বেশি ইবাদত করা এবং মানুষের হক আদায় করার চেষ্টা করা উচিত। হয়তো এই আন্তরিকতাই আমাদের মুক্তির কারণ হয়ে যাবে।
আল্লাহ আমাদের এই রমজানকে জীবনের শ্রেষ্ঠ রমজান হিসেবে কবুল করুন এবং যদি এটি শেষ রমজান হয়, তবে যেন তা আমাদের নাজাতের মাধ্যম হয়ে যায়—আমিন।






















