সময়: রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আবারও ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দেশ

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০২:২৩:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ২৩৮ Time View
৪ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত। ফাইল ছবি

 

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলাকে কেন্দ্রস্থল করে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। হঠাৎ এই কম্পনে কর্মব্যস্ত মানুষের মাঝে সাময়িক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং আন্তর্জাতিক ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ১২টা ৪৬ মিনিটে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.১। তবে এখন পর্যন্ত দেশের কোথাও প্রাণহানি বা বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

আন্তর্জাতিক সিসমোলজিক্যাল সংস্থা European-Mediterranean Seismological Centre (ইএমএসসি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী অঞ্চল। অন্যদিকে ‘মাই আর্থকোয়েক অ্যালার্ট’ অ্যাপের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঢাকা থেকে প্রায় ১৮১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ছাতক ছিল এই কম্পনের মূল কেন্দ্র।

এবারের ভূমিকম্পের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এর গভীরতা। সাধারণত বাংলাদেশে অনুভূত অধিকাংশ ভূমিকম্প অগভীর হয়ে থাকে। কিন্তু এই কম্পনটি ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬২৬ কিলোমিটার গভীরে সৃষ্টি হয়েছে, যা ভূ-তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিরল ও গভীর ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত। কেন্দ্রস্থল অধিক গভীরে হওয়ায় ভূপৃষ্ঠে কম্পনের তীব্রতা তুলনামূলক কম ছিল, ফলে বড় ধরনের স্থাপনা ধসে পড়ার ঝুঁকি কম ছিল।

তবে সীমান্তবর্তী এলাকায় উৎপত্তিস্থল হওয়ায় ছাতক, সুনামগঞ্জ ও সিলেট অঞ্চলের বাসিন্দারা তুলনামূলক বেশি কম্পন অনুভব করেছেন। ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পর রাজধানীর বহু বহুতল ভবন থেকে মানুষজনকে সতর্কতামূলকভাবে নিচে নেমে আসতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দ্রুত আতঙ্কের বার্তা ছড়িয়ে পড়ে।

আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সম্ভাব্য পরবর্তী কম্পন বা আফটারশকের ঝুঁকি রয়েছে কি না তা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সিলেট ও আশপাশের অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই ভূমিকম্প-ঝুঁকিপূর্ণ জোন হিসেবে চিহ্নিত। আজকের এই মাঝারি মাত্রার কম্পন সেই ঝুঁকির বিষয়টি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। স্থানীয় প্রশাসন মাঠপর্যায়ে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির তথ্য যাচাই করছে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে।

সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে ভূমিকম্পের সময় করণীয় নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আবারও ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দেশ

Update Time : ০২:২৩:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
৪ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত। ফাইল ছবি

 

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলাকে কেন্দ্রস্থল করে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। হঠাৎ এই কম্পনে কর্মব্যস্ত মানুষের মাঝে সাময়িক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং আন্তর্জাতিক ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ১২টা ৪৬ মিনিটে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.১। তবে এখন পর্যন্ত দেশের কোথাও প্রাণহানি বা বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

আন্তর্জাতিক সিসমোলজিক্যাল সংস্থা European-Mediterranean Seismological Centre (ইএমএসসি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী অঞ্চল। অন্যদিকে ‘মাই আর্থকোয়েক অ্যালার্ট’ অ্যাপের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঢাকা থেকে প্রায় ১৮১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ছাতক ছিল এই কম্পনের মূল কেন্দ্র।

এবারের ভূমিকম্পের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এর গভীরতা। সাধারণত বাংলাদেশে অনুভূত অধিকাংশ ভূমিকম্প অগভীর হয়ে থাকে। কিন্তু এই কম্পনটি ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬২৬ কিলোমিটার গভীরে সৃষ্টি হয়েছে, যা ভূ-তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিরল ও গভীর ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত। কেন্দ্রস্থল অধিক গভীরে হওয়ায় ভূপৃষ্ঠে কম্পনের তীব্রতা তুলনামূলক কম ছিল, ফলে বড় ধরনের স্থাপনা ধসে পড়ার ঝুঁকি কম ছিল।

তবে সীমান্তবর্তী এলাকায় উৎপত্তিস্থল হওয়ায় ছাতক, সুনামগঞ্জ ও সিলেট অঞ্চলের বাসিন্দারা তুলনামূলক বেশি কম্পন অনুভব করেছেন। ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পর রাজধানীর বহু বহুতল ভবন থেকে মানুষজনকে সতর্কতামূলকভাবে নিচে নেমে আসতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দ্রুত আতঙ্কের বার্তা ছড়িয়ে পড়ে।

আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সম্ভাব্য পরবর্তী কম্পন বা আফটারশকের ঝুঁকি রয়েছে কি না তা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সিলেট ও আশপাশের অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই ভূমিকম্প-ঝুঁকিপূর্ণ জোন হিসেবে চিহ্নিত। আজকের এই মাঝারি মাত্রার কম্পন সেই ঝুঁকির বিষয়টি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। স্থানীয় প্রশাসন মাঠপর্যায়ে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির তথ্য যাচাই করছে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে।

সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে ভূমিকম্পের সময় করণীয় নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।