সময়: রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ: মঙ্গলবার শপথ পাঠ করাবেন সিইসি

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০২:৪৪:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১৯৪ Time View

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের শপথ আগামী মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের নির্ধারিত শপথ কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে।

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সূত্র জানায়, একই দিন বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে। সাধারণত মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান বঙ্গভবন–এর দরবার হলে হয়ে থাকে। তবে এবার সেই প্রচলিত রীতি থেকে সরে আসার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার রাতে নির্বাচনে বিজয়ী ২৯৭ জন সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এমপিদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। আর মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন।

এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ভারত, চীন, পাকিস্তানসহ ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

সংসদ সদস্যদের শপথের পর সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল তাদের সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করবে। পরে সেই নেতা রাষ্ট্রপতির কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন হওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবেন। রাষ্ট্রপতি তখন তাকে সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন এবং নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের আহ্বান জানাবেন।

সংবিধানের ১৪৮ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিদায়ী স্পিকার নতুন এমপিদের শপথ পড়ানোর কথা। গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেন। সংবিধান অনুযায়ী, পদত্যাগ করলেও তিনিই শপথ পড়ানোর এখতিয়ার রাখেন। অন্যদিকে বিগত সংসদের ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু বর্তমানে কারাগারে আছেন এবং এখনও পদত্যাগ করেননি।

সংবিধানের ১৪৮ (২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, স্পিকারের মনোনীত ব্যক্তির কাছ থেকেও এমপিরা শপথ নিতে পারেন। আর ১৪৮ (২ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে স্পিকার বা তার মনোনীত ব্যক্তি শপথ না পড়ালে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াবেন। এই বিধান অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের তিন দিন পর আগামী মঙ্গলবার সিইসি শপথ পড়াবেন।

মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ

দীর্ঘদিনের রীতি ভেঙে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান বঙ্গভবনের বাইরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন।

ভারত, চীন, পাকিস্তানসহ ১৩ দেশকে আমন্ত্রণ

বিএনপির নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, আমন্ত্রিত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ভারত, চীন, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ, ভুটান, তুরস্ক ও ব্রুনেই।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন সরকারের মন্ত্রীদের শপথের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। মন্ত্রীদের জন্য গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং সরকারি আবাসন পরিদপ্তর তাদের বাসভবন প্রস্তুত রাখছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ: মঙ্গলবার শপথ পাঠ করাবেন সিইসি

Update Time : ০২:৪৪:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের শপথ আগামী মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের নির্ধারিত শপথ কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে।

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সূত্র জানায়, একই দিন বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে। সাধারণত মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান বঙ্গভবন–এর দরবার হলে হয়ে থাকে। তবে এবার সেই প্রচলিত রীতি থেকে সরে আসার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার রাতে নির্বাচনে বিজয়ী ২৯৭ জন সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এমপিদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। আর মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন।

এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ভারত, চীন, পাকিস্তানসহ ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

সংসদ সদস্যদের শপথের পর সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল তাদের সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করবে। পরে সেই নেতা রাষ্ট্রপতির কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন হওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবেন। রাষ্ট্রপতি তখন তাকে সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন এবং নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের আহ্বান জানাবেন।

সংবিধানের ১৪৮ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিদায়ী স্পিকার নতুন এমপিদের শপথ পড়ানোর কথা। গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেন। সংবিধান অনুযায়ী, পদত্যাগ করলেও তিনিই শপথ পড়ানোর এখতিয়ার রাখেন। অন্যদিকে বিগত সংসদের ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু বর্তমানে কারাগারে আছেন এবং এখনও পদত্যাগ করেননি।

সংবিধানের ১৪৮ (২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, স্পিকারের মনোনীত ব্যক্তির কাছ থেকেও এমপিরা শপথ নিতে পারেন। আর ১৪৮ (২ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে স্পিকার বা তার মনোনীত ব্যক্তি শপথ না পড়ালে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াবেন। এই বিধান অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের তিন দিন পর আগামী মঙ্গলবার সিইসি শপথ পড়াবেন।

মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ

দীর্ঘদিনের রীতি ভেঙে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান বঙ্গভবনের বাইরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন।

ভারত, চীন, পাকিস্তানসহ ১৩ দেশকে আমন্ত্রণ

বিএনপির নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, আমন্ত্রিত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ভারত, চীন, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ, ভুটান, তুরস্ক ও ব্রুনেই।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন সরকারের মন্ত্রীদের শপথের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। মন্ত্রীদের জন্য গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং সরকারি আবাসন পরিদপ্তর তাদের বাসভবন প্রস্তুত রাখছে।