বিশ্বে মোট বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা এখন ২৯১৯
- Update Time : ১১:১০:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ৮৫ Time View

বিশ্বজুড়ে অতি ধনী মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে—এমনই চিত্র উঠে এসেছে সুইস ব্যাংক ইউবিএসের সর্বশেষ ‘ইউবিএস বিলিয়নেয়ার অ্যাম্বিশনস রিপোর্ট ২০২৫’-এ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মোট বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯১৯-এ। অর্থাৎ যে সকল ব্যক্তি বা পরিবার কমপক্ষে ১০০ কোটি ডলারের নিট সম্পদের মালিক, তারা এখন প্রায় তিন হাজারের কাছাকাছি। আগের বছর এই সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৬৮২; এক বছরের ব্যবধানে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি।
একই সময়ে বিলিয়নেয়ারদের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৪ সালের তুলনায় তাদের মোট সম্পদ ১৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে। এই বৃদ্ধির পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে নতুন বিলিয়নেয়ারদের যুক্ত হওয়া, বিশেষ করে সফল উদ্যোক্তাদের উত্থান এবং উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পদ হস্তান্তরের প্রবণতা বৃদ্ধি।
উদ্যোক্তা বিলিয়নেয়ার বেড়েছে
রিপোর্ট অনুযায়ী, শুধু গত এপ্রিল পর্যন্ত এক বছরে স্ব-অর্জিত সম্পদের ভিত্তিতে নতুন করে বিলিয়নেয়ার হয়েছেন ১৯৬ জন। এদের মধ্যে অনেকে প্রযুক্তি, ফিনটেক, স্বাস্থ্যসেবা, সবুজ জ্বালানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ভোক্তা পণ্যের বাজারে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছেন। নতুন ধনী উদ্যোক্তাদের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩৮ হাজার ৬৫০ কোটি মার্কিন ডলার, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে উদ্যোক্তাদের শক্তিশালী অবস্থানকে তুলে ধরে।
উত্তরাধিকার সূত্রে বিলিয়নেয়ার বাড়ছে রেকর্ড গতিতে
প্রতিবেদনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য তথ্য হলো—উত্তরাধিকার সূত্রে নতুন বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা ইতিহাসের সর্বোচ্চ। গত এক বছরে পরিবারের সম্পদ হস্তান্তরের মাধ্যমে নতুন বিলিয়নেয়ার হয়েছেন ৯১ জন। তাদের কাছে হস্তান্তরিত হয়েছে ২৯ হাজার ৮০০ কোটি ডলার সম্পদ, যা এ খাতে নতুন বৈশ্বিক রেকর্ড। নতুন উত্তরাধিকার বিলিয়নেয়ারদের মধ্যে ৬৪ জন পুরুষ এবং ২৭ জন নারী।
ইউবিএসের নির্বাহী বেঞ্জামিন ক্যাভাল্লি বলেন, “ধনী পরিবারগুলোতে সম্পদ হস্তান্তরের ঢেউ এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় দ্রুত হচ্ছে। আগামী ১৫ বছরে অন্তত ৫ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন
কোন দেশগুলোতে বেশি সম্পদ হস্তান্তর হবে?
২০৪০ সালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্পদ হস্তান্তর হবে যুক্তরাষ্ট্রে, এরপর থাকবে ভারত, ফ্রান্স, জার্মানি ও সুইজারল্যান্ড। ধনী পরিবারগুলো বিনিয়োগ নিরাপত্তা, করনীতি এবং উন্নত জীবনমানের কারণে ক্রমেই অভিবাসন-বান্ধব দেশগুলোর দিকে ঝুঁকছে।
নারীদের সম্পদ বৃদ্ধির হার বেশি
বিশ্বব্যাপী নারীদের আর্থিক ক্ষমতাও দ্রুত বাড়ছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে নারী বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা ৩৭৪। গত এক বছরে তাদের গড় সম্পদ ৮ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৫২০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যেখানে পুরুষ বিলিয়নেয়ারদের সম্পদ বৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ৩ দশমিক ২ শতাংশ। নারীদের সম্পদ বৃদ্ধিতে ভোক্তা বাজার—বিশেষ করে ফ্যাশন, খুচরা বিক্রি ও লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড—সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।
সার্বিক চিত্র
প্রতিবেদন বলছে, উদ্যোক্তা সাফল্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বাণিজ্য-বিনিয়োগের প্রসার এবং উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পদ হস্তান্তরের তীব্র প্রবাহ—এই চার ধারা মিলেই বিশ্বজুড়ে বিলিয়নেয়ারদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে এই অতিধনী গোষ্ঠীর প্রভাব, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের দিকনির্দেশনা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।




