সরাসরি গ্রাহকসেবা বন্ধ করল বাংলাদেশ ব্যাংক: গ্রাহকদের ভোগান্তি বাড়ছে
- Update Time : ০৯:৫২:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫
- / ১৪৭ Time View

বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের সাধারণ গ্রাহকদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা সরাসরি কাউন্টার সেবা বন্ধ ঘোষণা করেছে। রোববার (২৩ নভেম্বর) থেকে মতিঝিলসহ দেশের সব কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শাখায় একযোগে সঞ্চয়পত্র ও প্রাইজবন্ড বিক্রি, ছেঁড়া–ফাটা নোট পরিবর্তন, অটোমেটেড চালান (এ–চালান) এবং অন্যান্য সকল কাউন্টারভিত্তিক গ্রাহকসেবা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
গ্রাহকদের দুর্ভোগ: ব্যাংকে এসে ফিরতে হচ্ছে হতাশ হয়ে
সেবা বন্ধের সিদ্ধান্ত অনেক গ্রাহকই জানতেন না। ফলে রোববার সকাল থেকেই মতিঝিলসহ বিভিন্ন শাখার সামনে সেবাগ্রহণে আসা মানুষদের বিড়ম্বনায় পড়তে দেখা যায়। কেউ কেউ দূরদূরান্ত থেকে এসে জানতে পারেন যে সেবা বন্ধ—ফলে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হয়।
মতিঝিল শাখার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা শামীমা সুলতানা নামের এক গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“বাংলাদেশ ব্যাংক এই সেবা বন্ধ করেছে—এটা আমি জানতাম না। এত কষ্ট করে এসেছি, এখন আমাকে ফিরে যেতে হচ্ছে। এটা সরাসরি হয়রানি ছাড়া কিছুই না।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাখ্যা: “বিশ্বের কোথাও কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসব সেবা কাউন্টার থেকে দেয় না”
গত বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষণা দেয় যে—
- বিশ্বের কোনো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাধারণ মানুষের কাছে এ ধরনের কাউন্টার সেবা প্রদান করে না
- বাংলাদেশ ব্যাংক একটি কেপিআইভুক্ত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি এড়াতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে
বিজ্ঞপ্তিতে এটিও জানানো হয় যে, ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো যেন সঞ্চয়পত্র, প্রাইজবন্ড এবং অন্যান্য আর্থিক সেবা নির্বিঘ্নে দিতে পারে, সে বিষয়ে তদারকি ও নির্দেশনা জোরদার করা হবে।
সেবা বন্ধের পটভূমি: গভর্নরের পরিদর্শন থেকে সিদ্ধান্ত
বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর গত ২২ জুন মতিঝিল অফিসের ক্যাশ বিভাগ পরিদর্শন করেন। তিনি ক্যাশ বিভাগ আধুনিকায়ন, নিরাপত্তা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ সেবা ব্যবস্থাপনার নির্দেশনা দেন। ওই নির্দেশনার পরেই নিরাপত্তা পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত আসে—সরাসরি গ্রাহকসেবা বন্ধ করা হবে।
দীর্ঘদিন ধরে যে সেবা দিত কেন্দ্রীয় ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে নিম্নলিখিত শাখাগুলো থেকে সাধারণ মানুষের জন্য বিভিন্ন নগদ ও আর্থিক সেবা দিয়ে আসছিল—
- মতিঝিল প্রধান কার্যালয়
- চট্টগ্রাম
- খুলনা
- বরিশাল
- রংপুর
- বগুড়া
- রাজশাহী
- সিলেট
- সদরঘাট অফিস
এই সেবা হঠাৎ করে বন্ধ হওয়ায় এসব অঞ্চলের জনগণের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
তবে এখন সামনে কী?
- গ্রাহকসেবা কি আবার চালু হবে?
- নাকি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোই সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেবে?
- অনলাইন সেবার পরিধি কি বাড়ানো হবে?
এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে—সেবার আধুনিকায়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।




