সময়: শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

“ভূমিকম্প আমাদের অহংকার মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে আসে”—মিজানুর রহমান আজহারী

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১০:৩৯:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২১০ Time View

শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে রাজধানী ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদীসহ দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে। নরসিংদীর মাধবদী এলাকায় উৎপত্তি হওয়া কয়েক সেকেন্ডের সেই তীব্র ঝাঁকুনিতে সাধারণ মানুষের মতো ভীত–সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন শহুরে বাসিন্দারা।

এমন আতঙ্কের মুহূর্তে দেশের জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী সামাজিক মাধ্যমে একটি দীর্ঘ, আবেগঘন ও আত্মজিজ্ঞাসামূলক পোস্ট দেন, যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়ে। সেখানে তিনি ভূমিকম্পের সময়কার নিজের অভিজ্ঞতা এবং মানুষের সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন।

আর কয়েক সেকেন্ড হলে ঢাকায় লাশের মিছিল হতো”

আজহারী তার পোস্টে লিখেছেন, ভূমিকম্পের সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন এবং পুরো ভবন দুলে ওঠায় কয়েক মুহূর্তের জন্য সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েন। বুকের ভেতরে আতঙ্ক জমে উঠেছিল।

তিনি বলেন—
“সকালের ভূমিকম্পে যখন আমাদের বিল্ডিংটা দুলছিল, তখন কয়েক মুহূর্তের জন্য একেবারে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। বুকটা কেঁপে উঠছিলো। আর কয়েকটা ঝাঁকুনি দিলে ঢাকায় হয়তো লাশের মিছিল হতো। নিমেষেই শহর পরিণত হতো নিস্তব্ধ এক গোরস্থানে। দয়াময় এই দুর্যোগে আমাদের রক্ষা করেছেন— আলহামদুলিল্লাহ।”

অপরিকল্পিত নগরীতে ভয়াবহ বিপদের আশঙ্কা

পোস্টে তিনি বাংলাদেশ—বিশেষত ঢাকার নগরায়ণের ঝুঁকিপূর্ণ বাস্তবতাকেও তুলে ধরেন। ভবন নির্মাণে অব্যবস্থাপনা, নিম্নমানের অবকাঠামো ও অপরিকল্পিত নগর পরিকল্পনার কারণে বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে জানান তিনি।

তার ভাষায়—
“এমন অপরিকল্পিত নগরী, সারি সারি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, দূর্বল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট— আল্লাহর দয়া ছাড়া বাঁচার উপায় নেই। সামান্য এক ঝাঁকুনিতে তিনি আমাদের সতর্ক করছেন। বোঝাতে চাচ্ছেন— যা-ই করো না কেন, নাটাই কিন্তু আমার হাতে।”

মানুষের দুর্বলতা সৃষ্টিকর্তার শক্তির প্রতি স্মরণ

আজহারী বলেন, কুরআনের ভাষ্যমতে মানুষকে দুর্বল করে সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রকৃতি যখন অল্প সময়ের জন্যও শক্তি দেখায়, তখন মানবজাতির অসহায়ত্ব পরিষ্কার হয়ে যায়। ঠিক সেই বার্তাই স্মরণ করিয়ে দেয় ভূমিকম্প।

তিনি লিখেছেন—
“ভূমিকম্প আমাদের অহংকার মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে আসে। আসে দেখিয়ে দিতে— মহাশক্তিধর আল্লাহর সামনে আমরা কতটা অক্ষম। তিনি সেই রাজাধিরাজ, যার ক্ষমতার মোকাবিলায় কেউ দাঁড়াতে পারে না। তাঁর ইচ্ছার সামনে সবাই দুর্বল ও শক্তিহীন। আল্লাহু আকবর!”

সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম

আজহারীর এই পোস্ট কয়েক ঘণ্টার মধ্যে লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। অনেকে নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে একমত হন যে, ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগ মানুষের অহংকার ভেঙে দেয় এবং মানবজাতিকে তার সীমাবদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

বিশেষজ্ঞরা এর আগেই সতর্ক করে বলেছেন—ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে দুর্যোগ–ঝুঁকিপূর্ণ মহানগরগুলোর একটি, এবং বড় ভূমিকম্প হলে অগণিত প্রাণহানি ঘটতে পারে। আজহারীর পোস্ট সেই বাস্তবতা আরও তীব্রভাবে সামনে এনে দিয়েছে।

জুমার দিনের কতো প্ল্যান নিয়ে কিছু লোক আজ ঘর থেকে বেরিয়েছিলো। কিন্তু এখন তারা না ফেরার দেশে। আমাদের বেঁচে থাকাটাই যে আমাদের প্রতি আল্লাহর কত বড় দয়া; তা আমরা উপলব্ধি করি না। আচ্ছা বলুন তো, মৃত্যু কি আমাদের জীবনের পরিকল্পনায় থাকে? জীবনের এতো এতো কাজ, ব্যস্ততা, নানা পরিকল্পনা এগুলো কি আমরা মৃত্যুকে স্মরণ রেখে করি? অথচ মৃত্যুর নির্ধারিত সময় আসলে তো আমাদের সকল ব্যস্ততাই শেষ হয়ে যাবে। আমিহীন দুনিয়ায় সবকিছু চলবে ঠিক আগের মতোই।

কার মৃত্যু কখন, কীভাবে আসবে সেটা কেউ জানে না। আমাদের উচিত সর্বদা প্রস্তুত থাকা। তওবা করে রবের কাছে ফিরে আসা। একনিষ্ঠভাবে তাঁর-ই কাছে সমর্পিত হওয়া।

এ ভূমিকম্প তো কিছুই না। আসল ভূমিকম্প তো সেটা—
“যখন জমীন প্রকম্পিত হবে প্রবল প্রকম্পনে। আর পর্বতমালা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে পড়বে। অত:পর তা বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত হবে।” [সূরা আল ওয়াকিয়াহ, ৪-৬]’

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

“ভূমিকম্প আমাদের অহংকার মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে আসে”—মিজানুর রহমান আজহারী

Update Time : ১০:৩৯:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫

শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে রাজধানী ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদীসহ দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে। নরসিংদীর মাধবদী এলাকায় উৎপত্তি হওয়া কয়েক সেকেন্ডের সেই তীব্র ঝাঁকুনিতে সাধারণ মানুষের মতো ভীত–সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন শহুরে বাসিন্দারা।

এমন আতঙ্কের মুহূর্তে দেশের জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী সামাজিক মাধ্যমে একটি দীর্ঘ, আবেগঘন ও আত্মজিজ্ঞাসামূলক পোস্ট দেন, যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়ে। সেখানে তিনি ভূমিকম্পের সময়কার নিজের অভিজ্ঞতা এবং মানুষের সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন।

আর কয়েক সেকেন্ড হলে ঢাকায় লাশের মিছিল হতো”

আজহারী তার পোস্টে লিখেছেন, ভূমিকম্পের সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন এবং পুরো ভবন দুলে ওঠায় কয়েক মুহূর্তের জন্য সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েন। বুকের ভেতরে আতঙ্ক জমে উঠেছিল।

তিনি বলেন—
“সকালের ভূমিকম্পে যখন আমাদের বিল্ডিংটা দুলছিল, তখন কয়েক মুহূর্তের জন্য একেবারে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। বুকটা কেঁপে উঠছিলো। আর কয়েকটা ঝাঁকুনি দিলে ঢাকায় হয়তো লাশের মিছিল হতো। নিমেষেই শহর পরিণত হতো নিস্তব্ধ এক গোরস্থানে। দয়াময় এই দুর্যোগে আমাদের রক্ষা করেছেন— আলহামদুলিল্লাহ।”

অপরিকল্পিত নগরীতে ভয়াবহ বিপদের আশঙ্কা

পোস্টে তিনি বাংলাদেশ—বিশেষত ঢাকার নগরায়ণের ঝুঁকিপূর্ণ বাস্তবতাকেও তুলে ধরেন। ভবন নির্মাণে অব্যবস্থাপনা, নিম্নমানের অবকাঠামো ও অপরিকল্পিত নগর পরিকল্পনার কারণে বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে জানান তিনি।

তার ভাষায়—
“এমন অপরিকল্পিত নগরী, সারি সারি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, দূর্বল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট— আল্লাহর দয়া ছাড়া বাঁচার উপায় নেই। সামান্য এক ঝাঁকুনিতে তিনি আমাদের সতর্ক করছেন। বোঝাতে চাচ্ছেন— যা-ই করো না কেন, নাটাই কিন্তু আমার হাতে।”

মানুষের দুর্বলতা সৃষ্টিকর্তার শক্তির প্রতি স্মরণ

আজহারী বলেন, কুরআনের ভাষ্যমতে মানুষকে দুর্বল করে সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রকৃতি যখন অল্প সময়ের জন্যও শক্তি দেখায়, তখন মানবজাতির অসহায়ত্ব পরিষ্কার হয়ে যায়। ঠিক সেই বার্তাই স্মরণ করিয়ে দেয় ভূমিকম্প।

তিনি লিখেছেন—
“ভূমিকম্প আমাদের অহংকার মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে আসে। আসে দেখিয়ে দিতে— মহাশক্তিধর আল্লাহর সামনে আমরা কতটা অক্ষম। তিনি সেই রাজাধিরাজ, যার ক্ষমতার মোকাবিলায় কেউ দাঁড়াতে পারে না। তাঁর ইচ্ছার সামনে সবাই দুর্বল ও শক্তিহীন। আল্লাহু আকবর!”

সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম

আজহারীর এই পোস্ট কয়েক ঘণ্টার মধ্যে লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। অনেকে নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে একমত হন যে, ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগ মানুষের অহংকার ভেঙে দেয় এবং মানবজাতিকে তার সীমাবদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

বিশেষজ্ঞরা এর আগেই সতর্ক করে বলেছেন—ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে দুর্যোগ–ঝুঁকিপূর্ণ মহানগরগুলোর একটি, এবং বড় ভূমিকম্প হলে অগণিত প্রাণহানি ঘটতে পারে। আজহারীর পোস্ট সেই বাস্তবতা আরও তীব্রভাবে সামনে এনে দিয়েছে।

জুমার দিনের কতো প্ল্যান নিয়ে কিছু লোক আজ ঘর থেকে বেরিয়েছিলো। কিন্তু এখন তারা না ফেরার দেশে। আমাদের বেঁচে থাকাটাই যে আমাদের প্রতি আল্লাহর কত বড় দয়া; তা আমরা উপলব্ধি করি না। আচ্ছা বলুন তো, মৃত্যু কি আমাদের জীবনের পরিকল্পনায় থাকে? জীবনের এতো এতো কাজ, ব্যস্ততা, নানা পরিকল্পনা এগুলো কি আমরা মৃত্যুকে স্মরণ রেখে করি? অথচ মৃত্যুর নির্ধারিত সময় আসলে তো আমাদের সকল ব্যস্ততাই শেষ হয়ে যাবে। আমিহীন দুনিয়ায় সবকিছু চলবে ঠিক আগের মতোই।

কার মৃত্যু কখন, কীভাবে আসবে সেটা কেউ জানে না। আমাদের উচিত সর্বদা প্রস্তুত থাকা। তওবা করে রবের কাছে ফিরে আসা। একনিষ্ঠভাবে তাঁর-ই কাছে সমর্পিত হওয়া।

এ ভূমিকম্প তো কিছুই না। আসল ভূমিকম্প তো সেটা—
“যখন জমীন প্রকম্পিত হবে প্রবল প্রকম্পনে। আর পর্বতমালা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে পড়বে। অত:পর তা বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত হবে।” [সূরা আল ওয়াকিয়াহ, ৪-৬]’