সময়: বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিম যাচাই ও নিষ্ক্রিয়করণ অভিযানে কমেছে মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহারকারী

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১১:২৮:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১১৫ Time View

 

সিম যাচাই ও নিষ্ক্রিয়করণ অভিযান চালু থাকায় দেশে মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহারকারী টানা তৃতীয় মাসে হ্রাস পেয়েছে। এনইআইআর (জাতীয় ইলেকট্রনিক আইডেন্টিটি রেজিস্ট্রেশন) চালুর প্রস্তুতির প্রেক্ষিতে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে গ্রাহক হারিয়েছে দেশের প্রধান মোবাইল অপারেটরগুলো।

বিটিআরসির (বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন) সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা যায়, সেপ্টেম্বরে মোট মোবাইল গ্রাহক দাঁড়িয়েছে ১৮.৭৯৭ কোটি, যা আগের মাসের ১৮.৮৫৭ কোটি ও জুলাইয়ের ১৮.৮৮৭ কোটি থেকে কম। গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার ব্যবহারকারী কমেছে। চারটি প্রধান অপারেটরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রাহক হারিয়েছে গ্রামীণফোন। এক মাসে এই অপারেটরের গ্রাহক সংখ্যা কমেছে ৬ লাখ ২০ হাজার, আর টানা তিন মাসে মোট প্রায় ৮ লাখ গ্রাহক হারিয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, সিম পুনঃযাচাই অভিযান, তীব্র বাজার প্রতিযোগিতা এবং নিষ্ক্রিয় সিম বন্ধ হওয়াই গ্রাহক হ্রাসের মূল কারণ। বিপরীতে, রবি আজিয়াটা সেপ্টেম্বরে ১ লাখ ১০ হাজার নতুন গ্রাহক অর্জন করেছে। বাংলালিংক হারিয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার গ্রাহক, আর টেলিটক ৩০ হাজার গ্রাহক বৃদ্ধি পেয়েছে।

জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট গ্রাহক সংখ্যা বেড়েছে ১৩.৮ লাখ, তবে শুধুমাত্র তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) কমেছে প্রায় ৯ লাখ। এই তৃতীয় প্রান্তিকে বাজার আবার সংকুচিত হয়েছে। গ্রামীণফোন আশ্বস্ত করেছে, নির্বাচনী মৌসুমে বাজারে অস্থায়ী গতি ফিরে আসতে পারে। সেপ্টেম্বরে বাজারে গ্রামীণফোনের শেয়ার ছিল ৪৫.৭ শতাংশ, রবি ৩০.৬, বাংলালিংক ২০.২ এবং টেলিটক ৩.৫ শতাংশ।

ইন্টারনেট ব্যবহারও হ্রাস পেয়েছে। আগস্টে ১৩.৫৩৩ কোটি ব্যবহারকারীর বিপরীতে সেপ্টেম্বরে তা নেমে এসেছে ১৩.৪১৬ কোটি। কমেছে মূলত মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার, তবে ব্রডব্যান্ড ব্যবহার স্থিতিশীল রয়েছে ১.৪৪৬ কোটি। বর্তমানে মোট ১৮.৭৯৭ কোটি মোবাইল সংযোগের মধ্যে প্রায় ৭১ শতাংশই ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। দেশের মোট ইন্টারনেট সংযোগের ৮৯ শতাংশই মোবাইল নির্ভর।

১৬ ডিসেম্বর এনইআইআর চালুর পর অনিবন্ধিত ও অবৈধ হ্যান্ডসেট নেটওয়ার্ক থেকে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্বল্পমেয়াদে আরও গ্রাহক হ্রাস হতে পারে। তবে খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে এটি সিম নিরাপত্তা, নেটওয়ার্ক সুরক্ষা এবং তথ্যের নির্ভুলতা বাড়াবে। সংকোচনের মাঝেও বাংলাদেশে ১৮ কোটির বেশি মোবাইল গ্রাহক এবং ১৩ কোটির বেশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী রয়েছে, যা দেশটিকে দক্ষিণ এশিয়ার সংযুক্ত দেশের মধ্যে শীর্ষ সারিতে রাখে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সিম যাচাই ও নিষ্ক্রিয়করণ অভিযানে কমেছে মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহারকারী

Update Time : ১১:২৮:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫

 

সিম যাচাই ও নিষ্ক্রিয়করণ অভিযান চালু থাকায় দেশে মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহারকারী টানা তৃতীয় মাসে হ্রাস পেয়েছে। এনইআইআর (জাতীয় ইলেকট্রনিক আইডেন্টিটি রেজিস্ট্রেশন) চালুর প্রস্তুতির প্রেক্ষিতে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে গ্রাহক হারিয়েছে দেশের প্রধান মোবাইল অপারেটরগুলো।

বিটিআরসির (বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন) সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা যায়, সেপ্টেম্বরে মোট মোবাইল গ্রাহক দাঁড়িয়েছে ১৮.৭৯৭ কোটি, যা আগের মাসের ১৮.৮৫৭ কোটি ও জুলাইয়ের ১৮.৮৮৭ কোটি থেকে কম। গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার ব্যবহারকারী কমেছে। চারটি প্রধান অপারেটরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রাহক হারিয়েছে গ্রামীণফোন। এক মাসে এই অপারেটরের গ্রাহক সংখ্যা কমেছে ৬ লাখ ২০ হাজার, আর টানা তিন মাসে মোট প্রায় ৮ লাখ গ্রাহক হারিয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, সিম পুনঃযাচাই অভিযান, তীব্র বাজার প্রতিযোগিতা এবং নিষ্ক্রিয় সিম বন্ধ হওয়াই গ্রাহক হ্রাসের মূল কারণ। বিপরীতে, রবি আজিয়াটা সেপ্টেম্বরে ১ লাখ ১০ হাজার নতুন গ্রাহক অর্জন করেছে। বাংলালিংক হারিয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার গ্রাহক, আর টেলিটক ৩০ হাজার গ্রাহক বৃদ্ধি পেয়েছে।

জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট গ্রাহক সংখ্যা বেড়েছে ১৩.৮ লাখ, তবে শুধুমাত্র তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) কমেছে প্রায় ৯ লাখ। এই তৃতীয় প্রান্তিকে বাজার আবার সংকুচিত হয়েছে। গ্রামীণফোন আশ্বস্ত করেছে, নির্বাচনী মৌসুমে বাজারে অস্থায়ী গতি ফিরে আসতে পারে। সেপ্টেম্বরে বাজারে গ্রামীণফোনের শেয়ার ছিল ৪৫.৭ শতাংশ, রবি ৩০.৬, বাংলালিংক ২০.২ এবং টেলিটক ৩.৫ শতাংশ।

ইন্টারনেট ব্যবহারও হ্রাস পেয়েছে। আগস্টে ১৩.৫৩৩ কোটি ব্যবহারকারীর বিপরীতে সেপ্টেম্বরে তা নেমে এসেছে ১৩.৪১৬ কোটি। কমেছে মূলত মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার, তবে ব্রডব্যান্ড ব্যবহার স্থিতিশীল রয়েছে ১.৪৪৬ কোটি। বর্তমানে মোট ১৮.৭৯৭ কোটি মোবাইল সংযোগের মধ্যে প্রায় ৭১ শতাংশই ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। দেশের মোট ইন্টারনেট সংযোগের ৮৯ শতাংশই মোবাইল নির্ভর।

১৬ ডিসেম্বর এনইআইআর চালুর পর অনিবন্ধিত ও অবৈধ হ্যান্ডসেট নেটওয়ার্ক থেকে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্বল্পমেয়াদে আরও গ্রাহক হ্রাস হতে পারে। তবে খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে এটি সিম নিরাপত্তা, নেটওয়ার্ক সুরক্ষা এবং তথ্যের নির্ভুলতা বাড়াবে। সংকোচনের মাঝেও বাংলাদেশে ১৮ কোটির বেশি মোবাইল গ্রাহক এবং ১৩ কোটির বেশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী রয়েছে, যা দেশটিকে দক্ষিণ এশিয়ার সংযুক্ত দেশের মধ্যে শীর্ষ সারিতে রাখে।